বিশ্ব মান দিবস আজ

সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে মানের নিশ্চয়তা জরুরি

সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে মানের নিশ্চয়তা জরুরি

পণ্য ও প্রযুক্তির গুণগত মানের ওপর গুরুত্বারোপের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘উন্নত বিশ্বের অভিন্ন লক্ষ্য : সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’।

দিবসটি উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এর অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে আলোচনা সভা এবং প্রচারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ সাক্ষাৎকারভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মাধ্যমে বিভিন্ন মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও), ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইইসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) যৌথভাবে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সপ্তম লক্ষ্য ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করা’র বিষয়টিকে এবার বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানির উৎপাদন নয়, দক্ষ ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবেশগত চাপ এবং টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার এখন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অগ্রাধিকার। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়ালেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়; জ্বালানি উৎপাদন, রূপান্তর, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে দক্ষতা, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারির মতো যন্ত্রপাতির মান যাচাইয়ের মাধ্যমে কার্যক্ষমতা, নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া যায়। পাশাপাশি মানসম্মত প্রযুক্তি ব্যবহারে জ্বালানির অপচয় কমানো, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশ সহজ হয়।

বিশ্ব মান দিবসের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন আন্তর্জাতিক মানের প্রসার ঘটানো, যা নিরাপদ পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে অবদান রাখে।

সৌরবিদ্যুতের মান নিশ্চিতে উদ্যোগ

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির গুণগত মান নিশ্চিত করার গুরুত্বও বাড়ছে। জাতীয় মান সংস্থা হিসেবে বিএসটিআই ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারির ওপর ৭৯টি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস বা মান প্রণয়ন করেছে। আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব মান নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মোট ৪,৬৩১টি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়ন করেছে। এসব মানের উদ্দেশ্য হলো পণ্য ও সেবার গুণগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে মান সম্পর্কে আস্থা তৈরি করা।

পণ্যের মান যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়াতে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে সোলার প্যানেল টেস্টিং ল্যাবরেটরি। সেখানে জার্মান প্রযুক্তির অত্যাধুনিক সান সিমুলেটর রয়েছে, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ এক হাজার ওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল পরীক্ষা করা সম্ভব।

এসডিজি-৭ অর্জনে মানের ভূমিকা

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সপ্তম লক্ষ্য বা এসডিজি-৭-এর উদ্দেশ্য হলো সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। ২০৩০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি দক্ষতার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্য নির্বাচন ও যথাযথ পরীক্ষণ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের কার্যকারিতা এবং ভোক্তার আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৯৪৬ সালের এ দিনে লন্ডনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মান নির্ধারণী সংস্থার প্রতিনিধির প্রথম ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক মান সংস্থার (আইএসও) আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। পরে ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্ব মান দিবস’ পালনের সূচনা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলোÑশিল্পোৎপাদন, বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্ব মান দিবসের তাৎপর্য কেবল পণ্যের গুণগত মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ প্রযুক্তি, দক্ষ জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মানভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য। সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসারে আন্তর্জাতিক মানের কার্যকর প্রয়োগ এবং জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা বৃদ্ধি তাই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন