প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা সদর হাসপাতালে ডেন্টাল সার্জনদের পদ সৃষ্টি ও নিয়মিত পদায়নের দাবি জানিয়েছে বিসিএস ডেন্টাল ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, প্রতিবছর সরকারি ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ থেকে ৮ শতাধিক ডেন্টাল সার্জন বের হচ্ছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে তেমন পদ নেই। আবার যতটা আছে, অন্যান্য চিকিৎসকদের মতো নিয়মিত পদোন্নতির ধারাবাহিকতা নেই, যা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় চরম বৈষম্য। সংকট নিরসনে ছয় দাবি জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে সংগঠনের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. কে এম আব্দুল্লাহ আল হারুন। এ সময় বক্তব্য রাখেন ঢাকা ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. পরিমল চন্দ্র মল্লিক এবং সংগঠনের উপদেষ্টা সহকারী অধ্যাপক ডা. হায়দার আলী খান।
বক্তারা বলেন, পদ না থাকায় প্রতিবছর বের হওয়া ৮ শতাধিক ডেন্টাল সার্জন বেকারত্বের হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছেন। অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মানসম্পন্ন মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি উপজেলার প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষের মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা সেবা দানের জন্য আছেন মাত্র একজন সরকারি ডেন্টাল সার্জন। এমনকি জেলা সদর হাসপাতালে একই অবস্থা।
তারা বলেন, প্রারম্ভিক পদের স্বল্পতা এবং বিসিএস ডেন্টাল ক্যাডারে অন্যান্য ক্যাডারের মতো নিয়মিত পদোন্নতির অভাবে এন্ট্রি লেভেলের পদগুলো ফাঁকা থাকছে, যার ফলে প্রতিটি বিসিএসে 'ডেন্টাল সার্জন' পদের জন্য নিয়মিত সার্কুলার হয় না।
এ সময় ছয় দফা দাবি জানানো হয়। যেখানে বলা হয়েছে, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত ৫টি এবং জেলা সদর হাসপাতালে অন্তত ৮টি ডেন্টাল সার্জনের পদ সৃষ্টি করে প্রারম্ভিক পদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। আসন্ন ৪৮তম বিশেষ বিসিএসসহ সকল বিসিএসে 'ডেন্টাল সার্জন' পদ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিসিএস ডেন্টাল ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান সব বৈষম্য দূর করে অন্যান্য ক্যাডারের মতো প্রাপ্য নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও ডেন্টাল সার্জনের জন্য নির্ধারিত পদে এমবিবিএস ডাক্তারের পদায়ন বন্ধ করতে হবে, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ সকল ডেন্টাল ইউনিটগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজে রূপান্তর করে দাঁত ও মুখের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানো এবং মুখ ও দাঁতের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে জনগণের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে “সবার জন্য স্বাস্থ্য” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

