ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রী আসতেন পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে। পেট্রাপোল থেকে বাতানুকূল বাসে চড়ে সোজা চলে যেতেন কলকাতায়। সেখানে কেনাকাটা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেষে ফিরে যেতেন ফের বাংলাদেশে। কিন্তু গত জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরুর পর সে দেশ থেকে যাত্রী আসা কমে গেছে।
পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে ২৫টি ট্যাক্সি কলকাতায় যাতায়াত করে থাকে। এ ছাড়া অটোরিকশা এবং টোটো গাড়িতে করে বনগাঁ রেলস্টেশনে যান যাত্রীরা। সেখান থেকে কলকাতায় পৌঁছান তারা। কিন্তু সবাই বাংলাদেশি যাত্রীর অভাবে ধুঁকছে।
পেট্রাপোল সীমান্তের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলী হোসেন শেখ এই প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশি যাত্রীর অভাবে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে যেসব বাস চলত, তাদের ড্রাইভার-হেলপার ও সংশ্লিষ্টরা কাজ হারিয়েছেন।
স্বাভাবিক অবস্থায় পেট্রাপোল এবং কলকাতার মধ্যে নিয়মিত ২০টি বাস যাতায়াত করে। এখানে বিভিন্ন সংস্থার কমপক্ষে ৩০টি বাস রয়েছে। সাত-আটজন মালিক সেগুলো পরিচালনা করেন।
দেশ ট্রাভেলস সংস্থার কর্ণধার আলী হোসেন শেখ আরো বলেন, তার আটটি বাস রয়েছে। কলকাতা ও পেট্রাপোলের অফিস এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ৫৬ জন কর্মী। বাংলাদেশি যাত্রী না থাকায় এখন মাত্র একটি বাস চলছে।
তিনি আরো বলেন, সেখান থেকে মেডিকেল ভিসার যাত্রীরা কেবল আসতে পারছেন। পেট্রাপোল থেকে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসের আসন সংখ্যা ৪৫টি হলেও বর্তমানে মাত্র ১৫-২০ জন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহে তিনদিন বাসের জ্বালানি খরচ উঠলেও চারদিন খরচের টাকা উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে এবং ভিসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে রমজান শেষে এপ্রিল থেকে কর্মীদের অন্য কাজ দেখে নিতে বলেছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

