আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বর্ষাবিপ্লবের রুহানি শক্তি ও নতুন পরিসর নির্মাণের ভাষা

মুসতাইন জহির

বর্ষাবিপ্লবের রুহানি শক্তি ও নতুন পরিসর নির্মাণের ভাষা

বর্ষাবিপ্লবের রুহানি শক্তি আমাদের নতুন ঐতিহাসিক কর্তাসত্তা, সময় ও সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। আমাদের চিন্তাপদ্ধতি, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক চর্চায় জুলাই অভ্যুত্থানের স্বাধীন রুহানি শক্তির চাষাবাদ করতে হবে। বাংলাদেশের নবযাত্রাকে অর্থবহ করতে চাইলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাবাহিত জাতীয় অস্তিত্বের পুনর্নবায়ন নির্বিঘ্ন জনপরিসর নির্মাণ করতে হবে। তাতে সবার কার্যকর অংশগ্রহণের সংযোগ সেতু থাকতে হবে। এই বিনিময়, অংশগ্রহণ ও অভিন্ন জনআকাঙ্ক্ষা তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়া একটা সংহত, ঐক্যবদ্ধ ও অবিভক্ত পলিটির অভিষেক ঘটানো সম্ভব হবে না। এই অভিপ্রায়ের গাঠনিক যাত্রায় নতুন নাগরিক কর্তার আবির্ভাব, বিকাশ এবং মানবিক অধিকার রক্ষার পথে অন্তরায় সব ধ্যানধারণা, ফ্যাসিস্ট চিন্তা ও সম্পর্ক থেকে মুক্ত হতে হবে। এটাই আমাদের সবার জন্য উত্তম উপশম।

গণতান্ত্রিক পরিসর উন্মুক্ত হলে সবাই তাতে অংশগ্রহণ করবে। এখন আমরা সেই চাপ সামলাব কীভাবে? যাদের অপছন্দ করি, যাদের নিয়ে আমাদের আপত্তি, সন্দেহ, নানা ভয় তাদের জন্য দরজাটা ফের বন্ধ করে দিয়ে?

বিজ্ঞাপন

বিগত ১৬ বছরের বন্ধ দুয়ার খুলেছে। নানা রকমের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, গলা টিপে ধরা কণ্ঠস্বর, কলোনিয়াল মধ্যবিত্তের হরর ইন্ডাস্ট্রি- জবরদস্তি, দাড়ি-টুপির জেন্ডার আতঙ্ক উৎপাদনের বদ-অভ্যাসের বিপরীত প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে। সেই চাপগুলো কিছু স্বাভাবিক, বাকিটার অস্বাভাবিক প্রকোপ অনেক ক্ষেত্রে আরও প্রকট হয়ে উঠছে। হয়তো ক্রমান্বয়ে আরও বিকট আকার ধারণ করবে!

কিন্তু আমরা তার মুখোমুখি হব কীভাবে? আমরা কি পুরোনো বিভাজক রেখা ধরে আবার রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ ও সহিংস যুদ্ধনীতি প্রয়োগের দিকে অগ্রসর হব? আমাদের নিজেদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক মীমাংসার পাটাতন কী হবে? পুরোনো বৃত্তে, মধ্যবিত্তের আতঙ্ক তাড়িত, ব্রাহ্মণ্যবাদী মৈত্রীবন্ধন প্রযোজিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের প্রলম্বিত ছায়ায় নিজেদের পুনরায় সমর্পণ করব?

জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রপ্রকল্প টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা, সব নাগরিকের নিরাপত্তা, মৌলিক মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রেখে সবার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণকর পন্থা কী হতে পারে- সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। বর্তমান অস্থিরতায় এটা দুরূহ মনে হবে, তবুও এটাই একমাত্র কাম্য অভিমুখ। সাহসী পদক্ষেপে পথ পাড়ি দিতে হবে। পাশ কাটানোর রাস্তা দিয়ে শর্টকাট কোনো মীমাংসা খুঁজলে, আখেরে গন্তব্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। হয় পুরোনো বৃত্তে আটকে যাব, নতুবা অন্ধ গলির প্রান্তে গিয়ে পথ শেষ হবে।

নিজেদের মধ্যে পার্থক্য থাকবে। ভিন্নতর, এমনকি পিলে চমকানো রাজনৈতিক প্রস্তাবনাও আসতে পারে। আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসের ভেদরেখাগুলোও তীব্রতর হতে পারে। কিন্তু দিনের শেষে, ভাবের বাজারে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অহিংস প্রতিযোগিতার সমসুযোগ উন্মুক্ত রাখার নীতি অটুট না থাকলে নিজেরা আলোচনা করে বিভেদ, হিংসা ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচার জন্য রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মীমাংসা করা যাবে না। ঘাবড়ে গিয়ে কোনো বাইনারি বিভাজক ধরে একপক্ষ আরেকপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রোশের দামামা বাজানো আমাদের জন্য সঠিক কাজ না। একপক্ষের বিশ্বাস, পছন্দ-অপছন্দ ও জীবনধারার প্রাধান্য বিস্তারের বাসনায় অন্যপক্ষের ওপর বলপ্রয়োগে রাষ্ট্রশক্তিকে হাতিয়ার বানানো যাবে না।

জনপরিসরে প্রকাশিত কিছু প্রবণতা মধ্যশ্রেণির মধ্যে সেই শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। হঠাৎ স্কুলের বাচ্চাদের কাঁধে কালিমাখচিত পতাকা তুলে দিয়ে কোনো একপক্ষ এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের একটা ‘বিপজ্জনক’ চেহারা ফুটিয়ে তুলছেন। অনেকের মনে আশঙ্কা ও যৌক্তিক উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে। সমস্যা মোকাবিলায় পুরোনো অভ্যাসতাড়িত দাবি-দাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সরব হচ্ছেন। জুলাই অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি, তাদের দোসর ও বিদেশি সহযোগীরা এসব নিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আকারে এখনো ছোট বলে তাকে অগ্রাহ্য করার আলস্য যেমন ভুল ও বিপজ্জনক হতে পারে, তেমনি বিষয়টিকে হরেদরে অপরাধীকরণের ফ্রেমে ঢুকিয়ে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিস্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টায় ক্ষতি হবে বিস্তর। সৃষ্ট ক্ষতের উপশম পেতে নষ্ট হবে বহু প্রাণ, সময় ও জাতীয় সম্পদ।

শান্তভাবে আমাদের এসব সমস্যার আরও গভীরে যেতে হবে। বহুমাত্রিক সংকট সমাধানে আন্তরিক সংলাপ গড়ে তোলার মতো উদ্যোক্তা কারা হতে পারেন- সে বিষয়ে শহুরে এলিট, শাসকশ্রেণি ও মধ্যবিত্তের বিশেষ কোনো ধারণা নেই। সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রস্তুতি নেই। সবচেয়ে বড় অসহায়ত্বের জায়গাটি হচ্ছে আমাদের সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষার রাজনৈতিক রূপকল্প নিয়ে মধ্যবিত্তের সঙ্গে কার্যকর সংলাপ নেই। আয়োজন, অংশগ্রহণে উভয়পক্ষের কাছে সমাদৃত কোনো সংযোগ সেতু নেই।

সত্যের খাতিরে বলতে হবে, সমস্যাটা উভয় পক্ষের। আর এ কারণেই জনগোষ্ঠী হিসেবে আমরা এখনো বিভাজিত। একক রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে না ওঠার একটা বড় ফাটলচিহ্ন ভেতরে নিয়ে বহুদিন বাংলাদেশে চলছে। ‘সেক্যুলার’ এবং ‘ধর্মীয়’ শক্তির এই দ্বন্দ্ব-সমাস আমরা কেউ মীমাংসা করতে পারিনি।

ক্রমাগত বাড়ছে আমাদের দূরত্ব। নেই দরদ দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলার অবসর; পারস্পরিক বিনিময়ের চিন্তাসূত্র। অথবা সংলাপের জন্য দরকারি একটি অভিন্ন ভাষা। সমস্যা নিরসনে পরস্পরের কাছে বোধগম্য, এজমালি বুদ্ধিভিত্তিক জমিন। খোলামন, অগ্রসর চিন্তা দিয়ে প্রতিপক্ষের মন জয় করার ধৈর্যশীলচর্চা। সহনশীলতার সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে সংখ্যাগরিষ্ঠকে নিজেদের রাজনৈতিক প্রকল্পে সম্পৃক্ত করার সাধনা। বেলাশেষে, শুধু বাড়িয়ে তুলছি অপরিচয়জনিত দূরত্ব, ভয় আর অসহিষ্ণু বিরুদ্ধতা।

এহেন সমস্যা নিরসনে প্রধানত উদ্যোগ নিতে হবে রুলিং এলিটসহ মধ্যশ্রেণিকে। রাষ্ট্রের সমস্ত শক্তি, সম্পদ ব্যবহার করে প্রধানত তারাই ক্ষমতাবান হয়েছেন। যাবতীয় সুফল ভোগ করেছেন। তবু আজকের সংকটের সুরাহা করতে না পারার ব্যর্থতা মূলত তাদেরই। আধুনিকতার কাণ্ডারি সেজে, রাষ্ট্র শাসনের যে ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভ্যাসে আমরা মশগুল হয়ে আছি তাকে বিলুপ্ত করতে প্রত্যেকের আত্মোপলব্ধি এবং নির্ভান সমালোচনা জরুরি।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দু-দুইটা রাষ্ট্র নির্মাণের রক্তাক্ত সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র প্রকল্পের মধ্যে গত সত্তর বছরের বেশি সময় সমাজের একটা অংশ যারা ইসলাম আঁকড়ে ধরে আছে- শিক্ষা-দীক্ষায় যারা মাদ্রাসাকেন্দ্রিক পরিসরের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে- এই সমাজ রাষ্ট্রে তাদের উন্নতি নেই। তাদের মোবিলিটি নিশ্চিত করার, তাদের তুলে নিয়ে আসার কোনো অর্থবহ উদ্যোগ নেই। রাষ্ট্রের মধ্যে তার চেহারা দেখা যায় না, কণ্ঠস্বর নেই। তাদের উপস্থিতি, কার্যকর অংশগ্রহণ বিলীন করে দিয়ে একদল জাতি গঠনের যুদ্ধ জয় করছে! এই বিপুলাংশকে একটি অচ্ছুত, খরচযোগ্য সম্প্রদায় করতে পারাই তাদের লক্ষ্য। এই ক্রুরতায়, মূঢ়তায় আমাদের কি দিগ্বিজয় হচ্ছে?

ইসলামের জ্ঞানগত ঐতিহ্য থেকে যোজন-যোজন দূরে অবস্থান ও অজ্ঞতার যে পাহাড় আমাদের মাঝখানে হিমালয়ের মতো ক্রমেই বাড়ছে, তাকে অতিক্রমণের ভাষা মধ্যবিত্তের বিশেষ জানা নেই। এই বাধার পর্বত পাড়ি দেওয়ার কাফেলা তৈরিতে আমরা খুব বেশি মনোযোগী নই। সেই সংযোগ সেতু তৈরি করার মতো যৌথ প্রচেষ্টায় নিয়োজিত শেরপা সহযোগী নেই।

ইসলামের কোনো রাজনৈতিক দার্শনিক প্রস্তাবনার ব্যাপারে জ্ঞানগত সক্ষমতা নিয়ে ইসলামি ঐতিহ্যের ভেতরে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের সঙ্গে তর্ক বা বাহাসে অংশগ্রহণে মধ্যবিত্তের শোচনীয় অক্ষমতা বাংলাদেশকে ভোগাচ্ছে। একটা সাদাকালো বাইনারি বিভাজক রেখায় তর্কের পরিসরের মধ্যে আটকে রাখছে। মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় একরৈখিক আধুনিকতাবাদী দম্ভ আমাদের ঘৃণায় টইটম্বুর করে তুলছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটা বিপুল অংশকে তাদের বৈশ্বিক পরিচয় ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটানোর মতো গর্বিত আত্মবিশ্বাস সরবরাহ করতে পারছে না।

ডিজিটাল মিডিয়ার এই যুগে, তারা হাতছানি দিচ্ছে এমন কিছু প্রস্তাবনার প্রতি, যাতে আপত অর্থে স্থানীয়, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্বপরিসরে ঘটে চলা অন্যায়, নির্দয় গণহত্যা ও জুলুমের অবসান চাইবার সর্বজনীন আর্তিকে প্রণোদনা হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ আছে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্তব্যের মধ্যে নিজের অংশগ্রহণ, সঠিক পন্থা নির্ধারণে ইসলামি ঐতিহ্যের যেসব জ্ঞানগত বোঝাপড়া তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার শিক্ষাব্যবস্থা এবং সংস্কৃতিচর্চার পরিমণ্ডল গড়ে তুলিনি। বিচিত্র ব্যাখ্যার মাঝ থেকে উম্মার জন্য কল্যাণকর, সুন্দর ন্যায্য পন্থা বেছে নেওয়ার যে পরীক্ষিত সুদীর্ঘ সিলসিলা হাক্কানি আলেমরা ইসলামি ফিকহের নিরলস সাধনায় পুষ্ট করেছেন, তার সঙ্গে সামাজিক বিনিময় ও কর্তৃত্বের উপযোগিতাকে স্বীকৃতি দিতে আমরা মনোযোগী হইনি। যার বিষম ফল এখন আমরা ভোগ করছি। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় শিক্ষার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন শহুরে বুদবুদের মধ্যে বেড়ে ওঠা নতুন একটা প্রজন্ম। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিশ্বাস, আধুনিকতা ও আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন মোকাবিলায় অপ্রস্তুত প্রজন্মের কাছে পৌঁছার মতো বয়ান তৈরির বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা ও সমাদৃত নৈতিক কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিত্ব নেই। এই শূন্যতার কারণে উগ্র প্রবণতার দিকে অনেকে আকৃষ্ট হচ্ছে। খাপছাড়া, ক্ষতিকর, বিক্ষিপ্ত ধর্মীয় মতামতের বিশৃঙ্খলা প্রবল হচ্ছে।

আর আমরা, কালিমাখচিত পতাকার মতো পরিস্থিতি দেখে, অপ্রস্তুত, ভীতসন্ত্রস্ত, বিহ্বল। এসব প্রবণতা ও চিহ্নকে জনপরিসরে ক্রিমিনালাইজ করে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা ছাড়া আপাতত তার বিরুদ্ধে ভিন্ন কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো এতে সাময়িকভাবে হাঁফ ছেড়ে বাঁচা যায়। কিন্তু বিগত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতায় এটা তো অনেকটাই স্পষ্ট যে, দীর্ঘ মেয়াদে সেই পথে বিশেষ কোনো ফল আসবে না। বরং, নতুন করে সহিংস প্রতিক্রিয়ার বাড়ন্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

আমাদের সমাজে এখনো যতটুকু ইসলামি ঐতিহ্যের জ্ঞানগত চর্চা আছে, যারা সেই চিন্তাভাবনা ও বর্গের মধ্যে বসবাসকারী- প্রতিষ্ঠিত, জনসমাদৃত, প্রজ্ঞাবান আলেম-ওলামা- এসব কিছুর ব্যাপারে যাদের ধর্মীয় কর্তৃত্ব তথা অথেন্টিক অথরিটি আছে, তারাই বিষয়টি মোকাবিলায় অধিকতরযোগ্য সক্ষম অংশ। মতাদর্শগতভাবে বিবিধ সমস্যাজনক প্রবণতা, উগ্রতা ও ইসলামি আকিদাবিরুদ্ধ ক্ষতিকর ধারার রাজনৈতিক আবেদনকে নিষ্ক্রিয় করতে তারাই উত্তম, নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আমাদের নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে নিয়ে তাদের সঙ্গে, তাদের শরিকানায়, আন্তরিক অংশীদারত্বের একটি সংযোগ সেতু ও জনপরিসরে জাতীয় ঐকমত্যের ভাষা তৈরি করা যায়। তাহলে আমরা একটি টেকসই সমাধান পেতে পারি।

লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন