ভারতের মানুষ বিদ্রোহ করতে পারে না, সাহস নেই- এমন কথা আজকাল প্রায়ই শোনা যায়। কথাটা যতটা আবেগময়, ততটা সত্য নয়। ইতিহাস সাক্ষী, বিগত ছয় দশকে ভারতে বড় আন্দোলনের অভাব ছিল না। জয়প্রকাশ নারায়ণের ‘সম্পূর্ণ ক্রান্তি’ (১৯৭৪), জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ১৯৭৭-এ ব্যালটে ইন্দিরা গান্ধীর পতন, আসাম আন্দোলন, আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন (২০১১), নির্ভয়া প্রতিবাদ (২০১২), শাহীনবাগ ও সিএএ-এনআরসি বিরোধী আন্দোলন (২০১৯-২০), এবং কৃষক আন্দোলন (২০২০-২১) যা তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারে সরকারকে বাধ্যও করেছে। সুতরাং সঠিক প্রশ্নটা ‘ভারতে আন্দোলন হয় না কেন’ নয়। সঠিক প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতে আন্দোলন হয়, কিন্তু তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় না কেন?
এই প্রশ্নের প্রথম উত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি পুরনো সত্যে। গণঅভ্যুত্থান তখনই অনিবার্য হয়, যখন ক্ষমতা পরিবর্তনের বৈধ পথ বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে কারণ পনেরো বছর ভোটের দরজা বন্ধ ছিল; শ্রীলঙ্কায় অর্গলা (Aragalaya, ২০২২ সালের সরকার বিরোধী অহিংস গণ-আন্দোলন) হয়েছে কারণ রাষ্ট্র দেউলিয়া হয়েছে, পরিবারতন্ত্র রাষ্ট্রকে দখল করে ফেলেছিল। নেপালে ভোট ছিল, কিন্তু সরকার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে বেকারত্ব ও মূল্য পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বিষাক্ত করে ফেলেছিল।
ভারতে যত ত্রুটিপূর্ণই হোক, নির্বাচনি ব্যবস্থাটা কার্যকর। রাজ্যে রাজ্যে ক্ষমতা বদলায়, কেন্দ্রেও বদলেছে। ফলে জনঅসন্তোষের বাষ্প ব্যালটের সেফটি ভাল্ভ দিয়ে বেরিয়ে যায়, রাজপথে বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই। অভ্যুত্থান ব্যর্থতার লক্ষণ নয়, বরং ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার শেষ চিহ্ন। যে দেশে ভোট আছে, সেখানে বিপ্লব হয় না, হয় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পালাবদল। এটা ভারতীয় জনগণের ভীরুতা নয়, বরং বেশকিছু ফাংশনিং ইনস্টিটিউশন ও নকশাগত ডেমোক্রেটিক সুফল।
ভারতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ (রাজ্য ও কেন্দ্র), এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রয়েছে অর্থাৎ এক্সিকিউটিভ, লেজিস্লেটিভ ও জুডিশিয়াল সেপারেশন আছে। এটা বাংলাদেশে নাই, বাংলাদেশের সংবিধানে এক্সিকিউটিভ, লেজিস্লেটিভ ও জুডিশিয়াল সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ফলে বাংলাদেশের মৌলিক সংস্কারের ডিমান্ড— একটা ‘বেসিক এন্ড ফাউন্ডেশনাল কল’। ভারত ৭৮ বছর আগে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় এই স্টেজটা পার করেছে।
শক্তিশালী ‘প্রতিষ্ঠান’ আছে এমন দেশে গণঅভ্যুত্থান হয় না বা খুবই কম হয় এবং ভারতের Political Institution গুলো মোটামুটি কিংবা যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে বিজেপি-আরআরএস পেনিট্রেশনে কিছু প্রতিষ্ঠান ক্ষয়ের দিকে। হান্টিংটন দেখিয়েছেন, কেন কিছু সমাজ আধুনিক হতে হতে স্থিতিশীল হয়, আর কিছু সমাজ আধুনিক হতে হতে আরও অস্থির হয়? উনার মতে, পার্থক্যটা অর্থনীতির নয়, পার্থক্যটা প্রতিষ্ঠানের। (‘Political Order in Changing Societies’, 1968)। যে সমাজে political institution বা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেখানে ক্ষমতা পরিবর্তন হলেও কাঠামো টিকে থাকে। আর যেখানে প্রতিষ্ঠান দুর্বল, সেখানে যার হাতে শক্তি বা সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস করার শক্তি সেই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে (প্রেটোরিয়ান স্টেট)।
ডগলাস নর্থ, জন ওয়ালিস ও ব্যারি ওয়েইনগাস্টের কাঠামো অনুযায়ী, ভারত একটি পরিণত Limited Access Order (LAO)। জাতীয় পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে বেসিক স্তরে, (লিমিটেড এক্সেস অর্ডারের ফ্রেজাইল, বেসিক ও অ্যাডভান্স এই তিনের মাঝের স্তর), যদিও রাজ্যভেদে ভিন্নতা (ফ্রেজাইল) রয়েছে (North, Wallis & Weingast, 2009; North et al., 2013)। Open Access Order (OAO), যেখানে সামষ্টিক নাগরিক অধিকার ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বিদ্যমান (featuring impersonal rights and open competition) এর বিপরীতে, LAO গুলোতে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংগঠন ও অধিকারে সাধারণের প্রবেশাধিকার সীমিত রাখা হয় (World Bank Group, 2017)। এই প্রেক্ষাপটে, ভারতে গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নির্বাচন থাকলেও রাজনৈতিক অভিজাতরা সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে rent-creation প্রক্রিয়া ব্যবহার করে এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুবিধার প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে (North, Wallis & Weingast, 2009)। আদানি, আম্বানি, জিন্দাল, মিত্তাল, নাদার, পুনাওয়ালা, সাংভি, বিড়লা ইত্যাদি নামের বিপরীতে ভারতে ‘ওয়েলথ কনসেন্ট্রেশন’ হচ্ছে।
দ্বিতীয় উত্তর, ভারতীয় প্রশাসনের একটি সূক্ষ্ম কৌশলে, যা আমি মনে করি সবচেয়ে কম আলোচিত অথচ সবচেয়ে কার্যকর। ভারতীয় রাষ্ট্র আন্দোলন গুলি করে দমায় না। গুলি করলে শহীদ তৈরি হয়, শাহাদাত থেকে থেকে শুরু হয় অভ্যুত্থান।
ভারতীয় রাষ্ট্র আন্দোলনকারীদের আলোচনার টেবিলে ডাকে, কমিটি করে, অনুল্লেখযোগ্য কিছু দাবি মেনে নেয়, আর আন্দোলনের নেতৃত্বকে অর্জনের গল্প শুনিয়ে ঘরে ফেরত পাঠায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একে বলে কো-অপটেশন, প্রতিপক্ষকে ধ্বংস না করে আত্মস্থ করা। দমন আন্দোলনকে র্যাডিকাল করে, কো-অপটেশন আন্দোলনকে নিঃশেষ করে। ব্রিটিশরা এই কৌশল শিখিয়ে গেছে, বাস্তবায়নে করে গেছে, আর স্বাধীন ভারতের আমলাতন্ত্র ব্রিটিশদের অতি উত্তম ছাত্র।
তৃতীয় স্তরটি ভারতের ভূগোল ও বৈচিত্র্যের। ভারত আসলে একটি দেশ নয়, একটি মহাদেশ, এখানে বাইশটি সরকারি ভাষা, শত জাতি, ফেডারেল কাঠামো। এই বৈচিত্র্য একদিকে ভারতের গণতন্ত্রের প্রাণ, অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কবর বা বধ্যভূমি। পাঞ্জাবের কৃষকের ক্ষোভ তামিলনাড়ুর শ্রমিকের ক্ষোভের সাথে মেশে না; মণিপুরের আগুন দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছায় না। আর যখনই কোনো ইস্যু জাতীয় হয়ে উঠতে চায়, তখন পরিচয়ের রাজনীতি তাকে খণ্ডিত করে, হিন্দু-মুসলিম কার্ড, জাতপাতের বিভাজন, পাকিস্তান-কাশ্মীর প্রশ্নে 'জাতীয় ঐক্য', কিংবা ক্রিকেটের উন্মাদনা। শ্রেণির প্রশ্নকে পরিচয়ের প্রশ্ন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা ভারতীয় ক্ষমতাসীনদের সবচেয়ে পুরোনো এবং সবচেয়ে সফল খেলা, ভারতে যার প্রয়োগ শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চতুর্থত, বিজেপির উত্থানের প্রশ্ন। বিজেপির উত্থান বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা থেকে। হ্যাঁ, পেছনে ছিল আরএসএসের শতবর্ষী ক্যাডার নেটওয়ার্ক। এটা সত্য যে, রামজন্মভূমি আন্দোলন ও বাবরি ধ্বংসই দলটিকে দুই আসন থেকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। গুজরাট-পরবর্তী রাজনীতিতে ‘সংখ্যালঘুবিরোধী মেরুকরণ’ এবং ‘মুসলমান নিধন ও মসজিদ ভাঙ্গা’ তাদের নির্বাচনি সাফল্যের প্রমাণিত ফর্মুলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানেই দার্শনিক প্রশ্নটা গভীর, যে সমাজে সংখ্যাগুরুর মিথ্যা নিরাপত্তাহীনতার ‘পলিটিক্যালি মোটিভেটেড’ নির্মিত ভয় ভোটে রূপান্তরিত হয়, সেখানে বিদ্রোহের নৈতিক ভিত্তিটাই সংখ্যাগুরু চেতনায় অনুপস্থিত। বিদ্রোহ করে বঞ্চিতরা, আর ভারতের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে সে বঞ্চিত নয়, বরং মুসলমান ও সংখ্যালঘু দিয়ে আক্রান্ত, মানে তার শত্রু রাষ্ট্র নয়, প্রতিবেশী। গণ আন্দোলন দমাতে তাসের বান্ডিল থেকে সবচেয়ে পুরনো যে তাসটা তারা অজুহাত হিসেবে বের করে তা হচ্ছে, ‘বিদেশি হাত’।
পঞ্চমত, যারা বঞ্চিত, মূলত মুসলিম ও দলিত তাদের প্রসঙ্গ। ইতিহাসের সত্যটা এখানে জটিল। ১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহ থেকে খিলাফত-অসহযোগ পর্যন্ত মুসলিমদের অংশগ্রহণ ছিল অগ্রণী। হ্যাঁ দলিতরাও লড়েছে, যদিও আম্বেদকর কংগ্রেসি জাতীয়তাবাদ থেকে সচেতন দূরত্বও রেখেছেন, কারণ তিনি জানতেন স্বাধীন ভারতেও জাতপাত থাকবে। তাঁর আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। আজ এই দুই জনগোষ্ঠী যাদের সম্মিলিত সংখ্যা ফ্রান্স-জার্মানির জনসংখ্যার চেয়ে বেশি, তারা দীর্ঘ রাজনৈতিক দমন, নজরদারি ও সামাজিক প্রান্তিকতায় এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে প্রতিবাদের মূল্য তাদের জন্য অসম।
শাহীনবাগের নারীরা রাস্তায় বসেছিলেন, বিনিময়ে পেয়েছেন ইউএপিএ মামলা আর বুলডোজার। যে জনগোষ্ঠীর প্রতিবাদের দণ্ড সম্মিলিত শাস্তি, সে জনগোষ্ঠী থেকে অভ্যুত্থানের সংগঠিত নেতৃত্ব আশা করা নিষ্ঠুরতা।
সর্বশেষ স্তরটি সাংস্কৃতিক, এবং এখানে গ্রামসির ‘হেজেমনি’ তত্ত্ব প্রাসঙ্গিক। রাষ্ট্র শুধু পুলিশ দিয়ে শাসন করে না, সম্মতি উৎপাদন করে শাসন করে। বলিউড সেই সম্মতি উৎপাদনের কারখানা, একদিকে পাকিস্তান-কেন্দ্রিক শত্রু নির্মাণ করে রাষ্ট্রের বৈধতা জোগায়, অন্যদিকে তারুণ্যের স্বপ্নকে প্রেম-ভোগ-উত্থানের ব্যক্তিগত আখ্যানে বন্দি রাখে। তবে এখানেও সরলীকরণ করা যাবে না, সিনেমা কারণ নয়, উপসর্গ। যে সমাজ রাজনৈতিকভাবে নিরস্ত্র, সিনেমা তার সেই নিরস্ত্রীকরণের প্রতিফলন মাত্র। আর ইতিহাস বলে, হেজেমনি চিরস্থায়ী নয়, কৃষক আন্দোলন প্রমাণ করেছে গোদি মিডিয়া আর বলিউডের সম্মিলিত প্রচারও পাঞ্জাব-হরিয়ানার ট্রাক্টর থামাতে পারেনি।
দমনের ভেতর থেকেই মাঝে মাঝে জ্বলে ওঠে প্রতিরোধের ভাষা। জেএনইউয়ের কানহাইয়া কুমারের ‘আজাদি’ স্লোগান কিংবা আমির আজিজের ‘সব ইয়াদ রাখা জায়েগা’ কবিতা প্রমাণ করে, ভারতের তারুণ্য নীরব নয়, নথিবদ্ধ করছে সবকিছু। রাষ্ট্র জানে, যে প্রজন্ম মনে রাখার অঙ্গীকার করে, তাকে চিরকাল দমিয়ে রাখা যায় না। কানহাইয়া কুমারের ‘আজাদি’ স্লোগান কিংবা আমির আজিজের ‘সব ইয়াদ রাখা জায়েগা’ তো ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশ নেপাল ও পাকিস্তান অবধি পৌঁছেছে।
গেরুয়া উগ্রবাদ, ধর্মীয় বিভেদ, গোমাংসের কারনে হত্যা, মসজিদ-গির্জা ভাঙার রাজনীতি আর জাতিসত্তাগুলোর মধ্যকার জাতীয়তাবাদী ভেদাভেদ সহ সংখ্যালঘুদের অধিকার ক্রমাগত সংকোচন- এসব পরিচয়বাদী এই বিষাক্ত রাজনীতিতে ভারতের উদারমনা তরুণরা আজ হতাশ। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের রাজনৈতিক অধিকারটুকুও গাইড করেছে সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালিত হিংস্র জাতীয়তাবাদের বয়ান। মুষ্টিমেয় মাফিয়া গোষ্ঠী ভোগ করছে রাষ্ট্রের প্রায় সব সম্পদ গুজরাট থেকে কলম্বো, ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু, নাগাল্যান্ড থেকে বেলুচিস্তান চিত্র একই। অপশাসনের ফলে তৈরি ‘কালেকটিভ সাফারিং’, ‘কালেকটিভ ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনহীনতা, ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স ও প্রাইভেসিহীনতা আর কালেকটিভ নিরাপত্তাহীনতাই তরুণদের রাজপথে আনছে একের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশে। জাতিবাদি উন্মাদনা, সীমান্ত সন্ত্রাস, যুদ্ধ মুছে তরুনারা চায় মানবিক সত্তার বিকাশ। নাগরিক জীবনে কোনো প্রতিবাদ হলেই ইন্টারনেট বন্ধ করে দমনপীড়নে নামা এমন মাফিয়া শাসনের অচলাবস্থার অবসান, এলিট পাওয়ার নেক্সাস আর ওরওয়েলিয়ান নজরদারি রাষ্ট্রের খোলস ভেঙে মানুষ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বাঁচাই তরুণদের লক্ষ্য। আজাদির লড়াই সংক্রামক। কালেক্টিভ সাফারিং সঞ্চারিত হবার পরে, সাহসী তরুণদের সংগঠিত হওয়ার জন্য সময় লাগে। তার আগে প্রতিবাদের ভাষাকে, ভয়হীন বিদ্রোহের ভাষাকে উন্মুক্ত হতে হয়।
২০২৫ সালের ঘটনা, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দিল্লিতে পলাতক শেখ হাসিনার বেশকিছু ই-মেইল সাক্ষাৎকার ভারতীয় মিডিয়া ছেপেছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব এগুলাকে ‘উচ্চমূল্যের আইন ফার্ম ও পিআর এজেন্সি দ্বারা পরিচালিত’ উল্লেখ করে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ভারতীয় সাংবাদিকদের ‘পশ্চিমা সাংবাদিকদের ভারতীয় চাটুকার (বুটলিকিং)’ হিসেবে বর্ননা করেছে। ভারতীয় তাতে মিডিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ভারতে জনাব শফিকুল আলমের বক্তব্য ভাইরাল হয়। কিন্তু তার চেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ ভারতীয়রা। প্রতিক্রিয়া মোটামুটি তিন ধরনের। একদল বলছে, মিস্টার শফিক অকপটে সত্যটাই বলেছেন। দ্বিতীয় দল আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, গদি মিডিয়াকে তিনি কমই বলেছেন, আরও কঠোর আক্রমণ প্রাপ্য ছিল। আর তৃতীয় পক্ষের ভাষ্য শুনে মনে হবে প্রেস সচিব বুঝি মস্ত ভুল করে ফেলেছেন! এক ভারতীয় তরুণের ভাষায়, ‘গোদি মিডিয়ার যারা গু পেলে গু চাটে, তাদের নিছক 'বুটলিকার' বলে শফিক গদি মিডিয়ার প্রতি অন্যায় নম্রতা দেখিয়ে ফেলেছেন’! অর্থাৎ ভারতের তরুণরা সজাগ। প্রপাগান্ডার কারখানা যত বড়ই হোক, নাগরিকের সচেতনতার সামনে তা অসহায়। দক্ষিণ এশিয়ার তারুণ্যের এই জাগরণই আমাদের আশার জায়গা।
মিস্টার মোদি কেন্দ্রে বারো বছর ধরে ক্ষমতায়, প্রায় সব রাজ্যে বিজেপি জোট ক্ষমতায়, দিকে দিকে ইভিএম জালিয়াতির আওয়াজ। যেদিন নির্বাচনী পথটাও অবিশ্বাসযোগ্য হয়ে পড়বে, যেদিন কো-অপটেশনের প্রতিশ্রুতি আর কেউ বিশ্বাস করবে না, সেদিন ভারতের বিশালতাই তার অস্থিরতার উৎস হয়ে উঠবে। জনগণের সাহসের অভাব বলে ইতিহাসে কিছু নেই; আছে কেবল জীবনের মূল্য আর মুহূর্তের হিসাব। ভারতের জনগণ ভীরু নয়, তারা এখনো হিসাব মেলাচ্ছে।
লেখক: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
সাবেক অর্ন্তবতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

