আধুনিক পহেলা বৈশাখ পালন শুরু হয় ১৯১৭ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে এটি পালন শুরু করে বাংলার জমিদার ও এলিট শ্রেণীর মানুষরা। আসলে ব্রিটিশরা এই দেশ শাসন করার সময় অনুধাবন করল যে তাদের এমন একটা অনুগত শ্রেণী দরকার যারা রক্তে মাংসে দেখতে হবে ইন্ডিয়ান কিন্তু চিন্তায় চেতনায় মস্তিষ্কে ভাবনায় তারা হবে ব্রিটিশদের অনুগত, যা লর্ড মেকাওলে তার লেখায় ক্লিয়ারলি উল্লেখ করেছেন। আর তারাই হবে ব্রিটিশদের অনুগত আমেল বা খাদেম।
পরবর্তীতে তাদেরকে পরিচিত করানো হল কালচারাল আইকন, বাঙালি হিন্দুত্ববাদের আইকন বা বাঙালি জাতীয়তাবাদের আইকন হিসেবে সমগ্র বাংলার কাছে। যেমন রবি ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন ও বঙ্কিমচন্দ্র এরা সবাই ছিল জমিদার ও কালচারাল জমিদার।
এই কালচারাল জমিদাররা ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের অংশগ্রহণ করেন নাই, যেই সিপাহী বিদ্রোহে মারাঠা ও মোগলরা পর্যন্ত একসাথে অংশগ্রহণ করেছিল,যদিও ইতিহাসে মারাঠা ও মোগলদের সম্পর্কটা নদীর ঢেউয়ের মতো সব সময় উঠানামা করেছিল। কিন্তু ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে মারাঠা এবং মোগলরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। আর ওইদিকে কলকাতা কেন্দ্রিক কালচারাল বাবুরা কেউ অংশগ্রহণ করে নাই, কলকাতার একটা প্রাণীও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন নাই যা ঐতিহাসিক
আর সি মজুমদারের বই "British Paramountcy and Indian Resistance" (Volume 2) তে উল্লেখ আছে। যদিও এ আন্দোলনটি পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে শুরু হয়ে পরবর্তীতে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যেমন কানপুর, দিল্লি, জয়পুর, গোয়ালিয়র ও লখনৌ ইত্যাদি। তবে এটি সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়েনি। এজন্য আর সি মজুমদারসহ কিছু কিছু ঐতিহাসিক এটাকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন বলতে চান না। আদতে এটিকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেন বিনায়ক দামোদার সাভারকার,পরবর্তীতে
উনাকে অনুসরণ করে অন্যান্য ঐতিহাসিকরাও এই আলাপটি সামনে নিয়ে আসেন।আমি মনে করি এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্যারাডাইম হিসেবে কাজ করেছে,কারণ ভারতীয়রা এই আন্দোলনের মাধ্যমে কলোনিয়াল মাস্টারদের মসনদ প্রচণ্ডভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আর এ আন্দোলনে ভারতীয়রা অনেক ব্রিটিশ সৈন্য, তাদের স্ত্রী, ছেলে সন্তান বা পরিবারবর্গকে হত্যা করেছিল। ভারতীয়দেরকে ও নির্দয়ভাবে ব্রিটিশরা হত্যা করেছিল,অসংখ্য গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এ আন্দোলনে কলোনাইজাররা এত বেশি ভয় পেয়েছিল যে ১৯৪৬ এ যখন দাঙ্গা শুরু হল, তখন তারা সাথে সাথে ভারতীয়দেরকে স্বাধীনতা দিতে রাজি হয়ে গেল, কারণ ১৮৫৭ এর সিপাহী বিদ্রোহের নির্মমতা তাদেরকে তাড়া করেছিল এবং তাদের মধ্যে একটা পোবিয়া কাজ করেছিল, ফলে ভারতীয়দের স্বাধীনতা আন্দোলন ও ত্বরান্বিত হয়েছিল। আর এই আন্দোলন যখন চলছিল তখন রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিরবে ধ্যানে মগ্ন হতে গিয়েছিলেন নির্জন জায়গায়, অন্যেরা নাট্যশালায় রত্নাবলীর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন,মাইকেল মধুসূদন ইংরেজদেরকে মনোরঞ্জন করার জন্য শর্মিষ্ঠা নাটক লিখছেন।এইসব জালিম কালচারাল জমিদারই পহেলা বৈশাখ চালু করেছেন, এটি মুসলমানদেরও সংস্কৃতি না এবং সাধারণ হিন্দুদেরও কোনো সংস্কৃতি না। এটা শুধু ইংরেজদের বেতনভুক্ত কর্মচারী ও তথাকথিত কালচারাল জমিদারদের চালু করা একটা প্রথা।
ইংরেজ আমলে রবীন্দ্রনাথদের পরিবারে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে। পরে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ব্যবস্থা করেন। কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারেও এভাবে ধীরে ধীরে পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে কিছু উৎসাহ-উদ্দীপনার খবরাদি পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছায়ানট প্রতিষ্ঠিত হয় মূলত রবীন্দ্র চর্চার উদ্দেশ্য নিয়ে। তারা ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার বটমূলে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সূত্রপাত করে। পাকিস্তানি শাসকরা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করায় এন্টি পাকিস্তানি মানসিকতার বাঙালির কাছে পহেলা বৈশাখ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
এখানে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি, সম্রাট আকবর যখন প্রথম পহেলা বৈশাখ চালু করলেন তখন একটি প্রাচীন বট বৃক্ষের নিচে সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজা উপলক্ষে পাঁচদিনের বউ মেলা হত,কারণ এতে গৃহ বধুরা অংশগ্রহণ করতেন, এখানে পাঠা বলির রেওয়াজ ছিল,ঘোড়দৌড় হতো সনাতনীদের জন্য, আদিবাসীদের জন্য বৈশাখী উৎসব, মারমাদের পানি উৎসব, সূর্য প্রণাম, গঙ্গাস্নান ও চরক মেলার আয়োজন হত।
যে সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইট উপাধি পাচ্ছেন, ঠিক একই সময়ে কাজী নজরুল ইসলামকে আনন্দময়ীর আগমনে লেখার জন্য জেলে যেতে হচ্ছে, বিষয়টা পাঠক একদম ক্লিয়ার যে এইসব কালচারাল জমিদাররা ঔপনিবেশিক প্রভুদেরকে খুশি করার জন্য,তাদের মনোরঞ্জন করার জন্য, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নেয়ার জন্য তারা এই প্রথাটি চালু করেছেন। এমনকি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য কর্মের দিকে তাকালে বুঝা যায় তিনি হিন্দুদের উপনিষদ এবং ক্রিশ্চিয়ানিটিকে মিলিয়ে ইংরেজদেরকে খুশি করার কোশেষ করেছেন, এখানে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মেহনতি মানুষের কোন স্থান নেই। স্থান আছে শুধু কলোনিয়াল মাস্টারদের বন্দনার,হিন্দুদের এবং এলিটদের।
তাছাড়া রবীন্দ্রনাথের সারা জীবনের সাহিত্য কর্মে মুসলমানদের ও কোন স্থান নেই। আহমদ ছফা একবার আক্ষেপ করে বলেছেন - রবীন্দ্রনাথের পুরো সাহিত্য কর্মে মুসলমানদের স্থান কোথায়? অথচ তিনি বৌদ্ধদেব ও মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রপূজা লিখলেন। তিনি কি চাইলে পারতেন না মুহাম্মদ (সা:)কে নিয়ে কোন নাটক, গল্প, উপন্যাস বা কবিতা লিখতে, অবশ্যই পারতেন, কিন্তু লেখেননি, তিনিতো কয়েকটি ভাষা ও জানতেন, এবং তার কাছে পর্যাপ্ত রিসোর্চ ও ছিল, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক আরবি ভাষার পন্ডিতরা ছিলেন। আসলে তিনি মুসলমানদেরকে কখনো মন থেকে পছন্দ করতেন না। অসাম্প্রদায়িক সবসময় মুসলমানদেরকে কেন হতে হবে, হিন্দুদেরকে নয় কেন। মুসলমানদেরকে যেতে হবে হিন্দুদের মেলায়, পূজা পার্বণে, কিন্তু হিন্দুদেরকে মুসলমানদের কোরবানির ঈদ, রোজার ঈদ, শবে বরাত বা শবে কদরে আসতে হবে না।
এমনকি এম এ আক্তার মুকুলের "কলকাতা কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী "বইটিতে উঠে এসেছে বাংলাকে ভাগ করার কারণে এইসব উচ্চ বর্গীয় কালচারাল বাবুদেরই খুব বেশি নাখোশ হতে দেখা গিয়েছিল। বিভিন্ন হিন্দু নেতারা এমনকি আশুতোষ মুখার্জি বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিলেন একমাত্র তাদের জমিদারি টিকিয়ে রাখার জন্য। তাদের জমিদারি ছিল বাংলাতে আর তারা থাকতেন কলকাতায়।
দেশ ভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করল, তারা সবাই ছিল জমিদার পরিবারের সন্তান। মূলত তারা পূর্ব পাকিস্তানকে ব্যর্থ করার কোশেশ করেছিল, এখনো করে যাচ্ছে। কারণ তাদের অন্তরে জমিদারি হারানোর কষ্ট এখনো রয়ে গেছে। আসলে বঙ্গভঙ্গ কথাটা বলাটাও আমাদের উচিত না কারণ বঙ্গভঙ্গ কথাটার মধ্য কিন্তু একটা পলিটিক্স রয়েছে বলতে হবে বঙ্গভাগ, এটাই হচ্ছে সঠিক শব্দ।
দেশভাগের পর এরা একটার পর একটা প্রচেশ্টা জারি রাখল পূর্ব পাকিস্তান তথা বড় বাংলাকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। তাদের যে কালচারাল হেজিমনি আছে, সেটাকে স্টাবলিশ করার জন্য তারা কমিউনিস্ট পার্টির পর ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠা করল ছাড়ানট, উদ্দেশ্য বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ভাগিরতী নদীর ওপারের কালচারাল হেজিমনি চালিয়ে যাওয়া, এজন্য আপনি দেখতে পাবেন ১৯৭২ সালের সংবিধানেও বাঙালি জাতীয়তাবাদ কথাটি লেখা হয়েছে। যা মূলত ব্রাহ্মণ্যবাদকে বা হিন্দুত্ববাদকে প্রতিনিধিত্ব করে, মানে মুসলিম জাতীয়তাবাদের কেবলাটাকে কলকাতার দিকে ঘোরানোর জন্যই বাঙালি জাতীয়তাবাদ করা হয়েছে। তাই তারা বলে সহীহ বাঙালি হতে হলে তোমাদেরকে রাঢ়ী কালচার বা হিন্দুত্ববাদীদের বা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কালচার গ্রহণ করতে হবে, মুসলিম কালচার ত্যাগ করতে হবে, তাহলেই তোমরা একদম সহীহ বাঙালি হতে পারবে। অর্থাৎ বাঙালি আর মুসলিম দুইটা একসাথে কখনো যায় না, অথচ রবীন্দ্রনাথ নিজেও জাতীয়তাবাদকে একটা 'কুপমুণ্ডক 'আইডিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। এইসব কালচারাল সাহাবী ও উম্মতদের নবী রবীন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদের উপর একটি বইও আছে যেখানে তিনি ন্যাশনালিজম, ননেশন স্টেইটস এসবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বিশেষ করে তিনি যখন জাপানে এবং আমেরিকাতে বক্তৃতা করতে গিয়েছিলেন তখন তিনি সেখানে ইউরোপিয়ান জাতীয়তাবাদ এবং জাতি রাষ্ট্রের কঠোর বিরোধিতা করেছেন,পরবর্তীতে তিনি "ক্রাইসিস ইন সিভিলাইজেশন" নামে একটি লেখাও লিখেছিলেন, অথচ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের বাংলাদেশি এজেন্টরা তাদের কালচারাল আইকন বা নবীর এইসব কথা আমলে নিচ্ছে না। আদতে রবীন্দ্রনাথ বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পক্ষে ছিলেন।
পাঠক একটা বিষয় আপনি ভাবুন, ভারতের জাতীয় ভাষা হল হিন্দি অথচ তাদের জাতীয় সংগীত কিন্তু বাংলা ভাষায়, বিষয়টা আশ্চর্যের না? তাদের জাতীয় ভাষা হিন্দি তাহলে তাদের জাতীয় সংগীত ও হিন্দি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তাদের জাতীয় সংগীত হলো রবীন্দ্রনাথের লেখা একটা বাংলা কবিতা।
আসলে এ বিষয়টা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সাথে মহাত্মা গান্ধী একটা সমঝোতা করেছিলেন, সেটা হল তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রভাষা হিন্দিকে মেনে নেবেন এবং এই ব্যাপারে তিনি অভিমত প্রদান করবেন, আর তার লেখা জনগণমন কে করা হবে ভারতীয় জাতীয় সংগীত।
যাইহোক,এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার আলাপে আসি,মোটাদাগে মঙ্গোল শোভাযাত্রা হাল আমলের। আর মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রথমে শুরু করেন যশোরে এক ভদ্রলোক, এটা পরে শুরু হয় ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামে স্বৈরাচার এরশাদের বিপরীত চেতনা নিয়ে। পরবর্তীতে নববর্ষ উদযাপনকে বর্ণাঢ্য বর্ণিল করার উপায় হিসেবে চারু কলা নব সংযোজন ঘটালো। ১৯৯৪ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গল সোভাযাত্রা চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে আয়োজন করে আসছে।
মজার বিষয় হলো এটা শুরু হয়েছে ৪০ বছর বা তার একটু বেশি হবে, অথচ এশিয়াটিক সোসাইটি বলতেছে এটা নাকি বাঙ্গালীর জাতীয় সংস্কৃতি এবং তারা বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে শোভাযাত্রাকে ঘোষণা করেছে। এশিয়াটিক সোসাইটি হলো কোলোনাইজারদের বানানো একটা প্রতিষ্ঠান, যার কাজ হচ্ছে কলোনী মাস্টারদের স্বার্থ রক্ষা করা। বর্তমান বাংলাদেশে এশিয়াটিক সোসাইটির কোন প্রাসংগিকতা আছে বলে আমি মনে করি না।
এ কথা সত্য যে এটা নববর্ষকে নতুন প্রাণ দিয়েছে।এটা আমাদের অর্জন, আমাদের অহংকার। এটাকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনমানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক না।কিছু বিষয় ধর্মীয় রীতির সাথে মেলে না।তারপরও মানব কল্যানণ করতে হয়।যেমন ছবি তোলা, গান শোনা, সিনেমা দেখা,রঙ বেরঙ এর পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো। এক সংস্কৃতির সাথে অন্য দেশের সংস্কৃতির তফাৎ থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতির সাথে আমাদের সংস্কৃতির অমিল হবে এটাই স্বাভাবিক। এখন আমরা যে পোশাক পরে বর্ষ উদযাপন করি তা ঐতিহ্য না, উদযাপন প্রণালি মাত্র।এটা পালন করা যেতে পারে, তবে সেটা বিগত সালে যেভাবে হয়ে আসছে সেভাবে নয়। এটার মধ্যে মুসলিম জাতীয়তাবাদের স্পিরিটের বিরুদ্ধে কোন কিছু থাকতে পারবে না এবং মুসলিমদের সংস্কৃতির সাথে এর সাদৃশ্যতা অবশ্যই থাকতে হবে।আর মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম ও পরিবর্তন করার জরুরত আছে বলে মনে করি কারণ এ নাম নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে, বিশেষ করে মঙ্গল শব্দটা নিয়ে, এটাকে অনেকেই হাসিনাৎসি ও বাকশিয়ালদের আইকনিক সিম্বল মনে করে। পরিশেষে বলব
জীবনকে ভালবাসতে হবে, আনন্দময় করে তুলতে হবে, জীবনের সাথে আনন্দের যোগ না থাকলে জীবন শুধু অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে।কিন্তু মনে রাখতে হবে জীবন চলে গেলে দোসরা মারতাবা আর ফিরে পাবেন না, নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন, নিজেকে ভালবাসুন।
লেখক: সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, লেখক ও গবেষক ফ্রাই ইউনিভার্সিটি বার্লিন, জার্মানি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

