আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নির্বাচনি উভয় সংকট ও জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

ড. সিরাজুল আই ভূঁইয়া

নির্বাচনি উভয় সংকট ও জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

‘প্রতারণার সময় সত্যি বলাটাই একটা বিপ্লবী কাজ’- জর্জ অরওয়েল।

বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লব কোটি কোটি মানুষের বুকে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বৈরাচারী শাসন, গভীর দুর্নীতি আর বিদেশি নিয়ন্ত্রণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে দেশ। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস। তার অন্তর্বর্তী সরকার একটি সুস্পষ্ট মিশন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। মিশনটা হলো দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকে শুদ্ধ করা, ন্যায়বিচারকে ফিরিয়ে আনা এবং সত্যিকারের গণতন্ত্রের পথ তৈরি করা। কিন্তু এই মিশন এখন হুমকির মুখে পড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

কিছু রাজনৈতিক দল এখন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য চাপাচাপি শুরু করেছে। পরিহাসের বিষয় হলো, এ দলগুলোই একসময় শেখ হাসিনার অত্যাচারী শাসনে পিষ্ট হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে গণতন্ত্রের স্বার্থেই তারা নির্বাচনের দাবি করছে। কিন্তু আরো গভীরভাবে দেখলে বোঝা যাবে, আশা নয়, তারা আসলে ভয়ে আছে।

বিপ্লবের চেতনা : নির্বাচনের আগে সংস্কার

২০২৪ সালে যে বিপ্লব হয়েছে, সেটার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে ৫ আগস্ট। শুধু নির্বাচন এই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল না। এটা ছিল স্বৈরাচারিতা, দুর্নীতি, আর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে একটা গণঅভ্যুত্থান। বাংলাদেশের জনগণ একটা নতুন সূচনা দেখতে চেয়েছে। তারা নিরপেক্ষতা, ন্যায়বিচার এবং সত্যিকারের মুক্তি চেয়েছে। পুরোনো ভাঙা ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য তারা বিক্ষোভ করেনি।

দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য ড. ইউনূসের সরকারকে আনা হয়নি। শাসনব্যবস্থার ক্ষত সারানোর জন্য তাকে আনা হয়েছে। জনগণ চেয়েছে যাতে এ সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিশুদ্ধ করে, পুলিশ ও আদালতে নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনে, ভোটারদের ভয়ভীতি দূর করে এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচন নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলা যায়। আছে কিছু শঙ্কাও।

১. নিরাপত্তা ইস্যু : কিছু এলাকায় এখনো সহিংসতা রয়েছে। বহু অপরাধী চক্র সেখানে সক্রিয় হয়েছে। পুলিশ এখনো পুরোপুরি নিরপেক্ষ হয়নি। আইন প্রয়োগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন না হলে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন অসম্ভব।

২. ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান : নির্বাচন কমিশন এবং বিচার বিভাগ এখনো পুনর্গঠনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগে নির্বাচন করতে গেলে আরেকটি ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল পাওয়া যাবে।

৩. ভোটার তালিকা সমস্যা : ভোটার তালিকায় বহু ভুয়া ভোটার, বাদ পড়া নাম এবং আইডি কার্ডের সমস্যা পাওয়া গেছে। তালিকা পুরোপুরি যাচাই এবং আপডেটের কাজ চলছে এখন। কিন্তু সেটা শেষ হতেও সময় লাগবে।

৪. ভোটারদের ভয় : বহু ভোটার, বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটাররা এখনো ভোট নিয়ে ভয়ে আছেন। দীর্ঘ একটা সময় ধরে তারা ভোটকেন্দ্রিক হুমকি আর সহিংসতা দেখে এসেছেন। রাতারাতি সেই আস্থা ফিরে আসা কঠিন।

৫. প্রবাসী কণ্ঠস্বর : বহু রাজনৈতিক অ্যাকটিভিস্ট এবং সাংবাদিক এখনো দেশের বাইরে আছেন। অবাধ নির্বাচন করতে হলে তাদের অবশ্যই দেশে ফিরে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

৬. বিদেশি চাপ : এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে ভারত, দ্রুত নির্বাচন দেখতে চাচ্ছে, যাতে তাদের স্বার্থ রক্ষিত হয়। তাদের সময়সীমা মেনে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হওয়া উচিত হবে না।

ইতিহাস পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি

বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে তাড়াহুড়ার নির্বাচন থেকে সাধারণত স্বৈরশাসকের জন্ম হয়। ভুয়া ভোটার, গোপন চুক্তি এবং জোর করে ভোটের ফল বদলে দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তি ক্ষমতায় টিকে থাকে। এখন তাড়াহুড়া করলে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

জর্জ সান্তায়ানা একবার বলেছিলেন, ‘যারা অতীত মনে রাখে না, তারা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করতে থাকে।’ কিন্তু জনগণ মনে রাখে। তারা নির্বাচনি প্রতারণা, পক্ষপাতদুষ্ট আদালত, মধ্যরাতের ধরপাকড় এবং ক্ষমতার সীমাহীন অপব্যবহার- সব মনে রাখে। সেই একই পুরোনো আবর্জনার মধ্যে ফিরে যাওয়ার জন্য তারা ২০২৪-এ লড়াই করেনি।

ভূ-রাজনৈতিক চাল : সংস্কারের বিরুদ্ধে সম্মিলিত কোরাস

আরেকটা বড় সমস্যার কারণ হলো যে সময়টায় নির্বাচনের দাবি জানানো হচ্ছে, সেটা। প্রায় একই সময় নির্বাচনের দাবি আরো যাদের কাছ থেকে শোনা গেছে, তারা হলো-

* ভারত সরকার।

* ভারতের সেনাবাহিনীপ্রধান।

* বাংলাদেশের সেনাবাহিনীপ্রধান এবং

* একটি প্রধান রাজনৈতিক দল।

এটাকে কাকতালীয় মনে করাটা শক্ত। মনে হচ্ছে, সংস্কার এজেন্ডাকে থামানোর জন্য একটা সমন্বিত পরিকল্পনা যেন কাজ শুরু করেছে।

ভারত বহুকাল ধরে বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আসছে। শেখ হাসিনার অধীনে ভারত বহু সুবিধা পেয়েছে। বন্দর ব্যবহারের সুবিধা, বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি প্রকল্প, এমনকি বাংলাদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাহায্য পর্যন্ত পেয়েছে তারা। কিন্তু জুলাই বিপ্লব সেই হিসাবটা বদলে দিয়েছে। এখন ভারত ভয় পাচ্ছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ হয়তো হাতছাড়া হয়ে যাবে।

আগাম নির্বাচনের জন্য চাপ দিয়ে ভারত হয়তো পুরোনো ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করতে পারে। অথবা এমন কোনো নতুন দলকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চাইবে, যারা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে। এতে ভারতের যেসব লাভ হবে-

* অন্যায় তিস্তা চুক্তি বজায় থাকবে।

* একতরফা বাণিজ্য চালু থাকবে।

* বড় প্রকল্পগুলোর জন্য তারা চাপ দেবে, যেগুলো শুধু ভারতীয় কোম্পানিকে সুবিধা দেবে।

সংস্কার ছাড়া নির্বাচনের বিপদ

সংস্কারের আগে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে সেটা হবে বিশ্বাসঘাতকতা। ড. ইউনূসকে শুধু ক্ষমতার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাকে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি নির্বাচন তাড়াতাড়ি হয়, তাহলে-

* নির্বাচন কমিশন আগের মতোই ভঙ্গুর থাকবে।

* পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো বিদ্যমান ব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

* দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অত্যাচারী মানুষ আবার ক্ষমতার ফিরে আসতে পারে।

জর্জ অরওয়েল বলেছেন, ‘মানুষকে ধ্বংস করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের ইতিহাসের উপলব্ধি অস্বীকার করা এবং সেটাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া।’ জুলাই বিপ্লব থেকে আমরা যা কিছু শিখেছি, তড়িঘড়ি নির্বাচন করা হলে তার সবকিছুই মুছে যাবে।

ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের তথ্যযুদ্ধ

ড. ইউনূসের সরকার এই ব্যবস্থা ঠিক করার চেষ্টা করছে। শুধু যে বাংলাদেশের একটা গোষ্ঠী তাদের বিরোধিতা করছে তাই নয়, ভারতের মিডিয়াও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। এই প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের সংবাদ চ্যানেলগুলো, যারা মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গদি মিডিয়া নামেও পরিচিতি পেয়েছে এরা।

টাইমস নাউ, রিপাবলিক টিভি, জি নিউজ এবং ওপইন্ডিয়ার মতো চ্যানেলগুলো অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে রীতিমতো নির্লজ্জ মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তারা এ সরকারকে ‘চরমপন্থিদের ফ্রন্ট’ আখ্যা দিয়েছে। বলেছে, তারা বৈশ্বিক কূটনীতিতে দুর্বল। তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবেও তুলে ধরছে তারা।

তাদের এসব দাবির পক্ষে একটিও প্রমাণ নেই। বাস্তবতা হলো, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ওআইসির মতো বহু আন্তর্জাতিক ফোরাম বাংলাদেশের সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে।

ভারতীয় মিডিয়া সত্যিকারের অগ্রগতিগুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে রয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সমর্থন, সীমান্ত হত্যার মাত্রা হ্রাস, বিচারব্যবস্থার উন্নতি এবং রপ্তানি বৃদ্ধি। এগুলো এড়িয়ে তারা গুজব ছড়িয়ে মানুষকে ভয় দেখানোর খেলায় নেমেছে।

ভারতীয় মিডিয়া কেন এসব করছে? কারণ ভারত অস্বস্তিতে আছে। আগের সরকার তাদের স্বার্থ রক্ষা করত। কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার কাজ করছেন ভিন্নভাবে। তিনি পক্ষপাতদুষ্ট জ্বালানি চুক্তিগুলো পুনঃপর্যালোচনা করছেন। একতরফা ট্রানজিট প্রকল্পগুলো স্থগিত করছেন। সার্ককে আবার সমতার ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

ভারত এতে অস্বস্তিতে পড়ে গেছে। তাদের মিডিয়া তাই বিভ্রান্তি আর ভয় ছড়াতে মাঠে নেমেছে। তারা যেসব মিথ্যা ছড়াচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে চরমপন্থিদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের মিথ্যা ভিত্তিহীন দাবি, ইউনূসের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন, সেনাবাহিনীতে অস্থিরতার ভুয়া খবর এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বাংলাদেশের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের মিথ্যা প্রচারণা। বাস্তবতা হলোÑযুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডার বাংলাদেশের সংস্কারের ব্যাপারে সুস্পষ্ট সমর্থন দিয়েছে। এটাকে শুধু খারাপ রিপোর্টিং বললে ভুল হবে। এটা হলো প্রকাশ্য মিডিয়া যুদ্ধ।

সত্যভিত্তিক পাল্টা-বয়ানের প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশকে অবশ্যই সত্য দিয়ে জবাব দিতে হবে। সরকারকে বৈশ্বিক মিডিয়া এবং ফ্যাক্ট চেকিং গ্রুপগুলো সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণাকে চিহ্নিত করে সেগুলোর মোকাবিলা করার জন্য নতুন ডিজিটাল ডিপ্লোমেসি ইউনিট গড়ে তোলা যেতে পারে। বিশ্বকে অবশ্যই দেখাতে হবে, বাংলাদেশ ভেঙে পড়েনি। বরং তাদের উত্থান হচ্ছে। আর এই উত্থানের কারণে সেসব শক্তি হুমকি অনুভব করছে, যারা একসময় এই দেশটাকে নিয়ন্ত্রণ করত।

কৌশলগত ধৈর্যের আহ্বান

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে এমন কোনো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে তারা সংস্কারমূলক এজেন্ডা থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ চায় একটি বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই গণতান্ত্রিক ভিত্তি। এর জন্য প্রয়োজন নাগরিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার।

সংবিধান ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কার না করেই শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর তুষ্টির জন্য নির্বাচন আয়োজন করা মানে হবে জুলাই বিপ্লবের অগ্রগতিকে উল্টে দেওয়া। গণতন্ত্র কোনো দিনপঞ্জির তারিখ নয়; এটি একটি প্রক্রিয়া, যা ধৈর্য, সততা এবং কাঠামোগত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে তোলা হয়।

বাংলাদেশ ১৫ বছর ধরে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের শিকার হয়েছে। জনগণ বিপ্লব করেছে, যেন তারা সেই পুরোনো চক্রে আবার না ফিরে যায়। সুতরাং, কয়েক মাস অপেক্ষা করা কোনো বোঝা নয়Ñএটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের বিনিয়োগ।

জুলাই বিপ্লবের অর্জন টিকিয়ে রাখতে হলে, অন্তর্বর্তী সরকারকে একটি দায়িত্বশীল এবং স্বচ্ছ নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। এই রোডম্যাপের অংশ হিসেবে, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ সালের মধ্যে যেকোনো একটি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া উচিত—সঙ্গে থাকবে একটি সুস্পষ্ট সংস্কার চেকলিস্ট। এই চেকলিস্টে অন্তর্ভুক্ত থাকবে ইতোমধ্যে যেসব খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে সেগুলোÑবিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নির্বাচনি স্বচ্ছতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পুলিশি জবাবদিহির মতো গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভ।

শুধু তখনই নির্বাচন তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করবে- ক্ষমতার হস্তান্তর নয়, বরং একটি নতুন গণতান্ত্রিক যুগকে বৈধতা দেওয়া, যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

নেলসন ম্যান্ডেলার বিখ্যাত উক্তি দিয়ে বলা যায় : ‘মুক্তির কোনো সহজ পথ নেই’। কিন্তু এ পথেই ভবিষ্যতের আলো নিহিত। বাংলাদেশের জনগণের জন্য এবং একটি ন্যায়সংগত ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য, এ পথেই এগিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশে শুধু একটা নির্বাচন হলেই হবে না। এই নির্বাচন অবাধ, নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। এ জন্য সময় লাগবে। গণতন্ত্র নির্মাণ মানে কোনো দিন-তারিখ বেঁধে দেওয়া নয়। এ জন্য একটা একটা করে ইট গাঁথতে হয়। বিশ্বকে অবশ্যই এই যাত্রাকে সমর্থন দিতে হবে। দ্রুত ভোটের জন্য চাপ না দিয়ে বৈশ্বিক অংশীদারদের উচিত সংস্কারকে সমর্থন দেওয়া। সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য জনগণ ৫০ বছর অপেক্ষা করেছে। টেকসই পরিবর্তনের জন্য আরো ১২ থেকে ১৮ মাস অপেক্ষা করা খুবই সামান্য বিষয়।

আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন

ড. ইউনূস আশা নিয়ে এসেছেন। আশাকে রক্ষার জন্য ভোটের আগে অবশ্যই সংস্কার হতে হবে। নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটাকে অর্থপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরাপদ হতে হবে। তখনই শুধু প্রতিটি ভোট মূল্যবান হয়ে উঠবে।

আব্রাহাম লিঙ্কন একদা বলেছিলেন, ‘ব্যালট বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী’। কিন্তু সেটা শুধু তখনই সম্ভব, যখন সেটা স্বাধীনভাবে, সুষ্ঠু ব্যবস্থা আর আস্থার মধ্যে প্রয়োগ করা হয়।

জুলাই বিপ্লব থেকে যে অর্জন এসেছে, সেটাকে যেন আমরা ধ্বংস না করি। এই বিপ্লব যে কাজটা শুরু করেছিল, আসুন, সেটাকে আমরা শেষ করি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন