আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস মূলত শক্তি, স্বার্থ এবং নিরাপত্তার এক অবিরাম প্রতিযোগিতার ইতিহাস। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হ্যান্স মরগেনথাউ তার বাস্তববাদী তত্ত্বে বলেছিলেন, ‘International politics, like all politics, is a struggle for power.’—অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নৈতিকতা, আদর্শ বা আবেগের চেয়ে রাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে কোন রাষ্ট্র কার মিত্র হবে, কার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করবে। আবার Kenneth Walty-এর নব্য-বাস্তববাদী (Neo-Realist) দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা মূলত অরাজক (anarchic); সেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রকেই নিজের নিরাপত্তা ও স্বার্থ নিশ্চিত করতে হয়। ফলে বড় রাষ্ট্র ও ছোট রাষ্ট্রের সম্পর্ক কখনোই পুরোপুরি সমতার ভিত্তিতে দাঁড়ায় না। বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার মতো অঞ্চলে, যেখানে ভৌগোলিক বাস্তবতা, সীমান্ত, নদী, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক আধিপত্যের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে, সেখানে প্রতিবেশী সম্পর্ক প্রায়ই ‘অসম আন্তঃনির্ভরতার’ (Asymmetrical Interdependence) রূপ নেয়। একদিকে ছোট রাষ্ট্র বৃহৎ প্রতিবেশীর বাজার, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে; অন্যদিকে বৃহৎ রাষ্ট্র ছোট প্রতিবেশীকে নিজের কৌশলগত বলয়ের অংশ হিসেবে দেখতে চায়। এ কারণেই দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং এটি ক্ষমতার ভারসাম্য, আঞ্চলিক আধিপত্য, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং জাতীয় স্বার্থের এক জটিল সমীকরণ। এই সমীকরণের মধ্যেই সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বরাবরই একটি ‘অসম আন্তঃনির্ভরতার’ উদাহরণ। ভৌগোলিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, নিরাপত্তা উদ্বেগ, নদী ও সীমান্ত—সবকিছু মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কখনোই শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল ক্ষমতা, স্বার্থ, নিরাপত্তা ও আস্থার বহুমাত্রিক সমীকরণ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদল, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময় এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ক্ষমতায় আগমনের পর সেই সমীকরণে আবার নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো—ভারত ও বাংলাদেশ কি সত্যিই ‘নতুন যাত্রা’ শুরু করতে যাচ্ছে, নাকি এটি শুধু কৌশলগত পুনর্বিন্যাস?
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্বে ‘Complex Interdependence’ বা জটিল আন্তঃনির্ভরতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে Robert Keohane I Joseph Ny বলেছিলেন, আধুনিক রাষ্ট্রগুলো শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে সম্পর্ক নির্ধারণ করে না; অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ ঠিক সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও বাণিজ্য, জ্বালানি ও ভৌগোলিক বাস্তবতা এমন এক আন্তঃনির্ভরতা সৃষ্টি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে অসম্ভব করে তোলে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির বক্তব্যে ‘পারস্পরিক সম্মান’, ‘মর্যাদা’ ও ‘জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক’ শব্দগুলোর পুনরাবৃত্তি নিছক কূটনৈতিক ভাষা নয়; বরং এটি গত দেড় বছরের সংকটের পর একটি নতুন বাস্তবতার স্বীকারোক্তি। কারণ ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পায়। ঢাকার রাজনৈতিক মহলে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন এককভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভর করেছে। ভারতের নীতিনির্ধারকরাও এখন উপলব্ধি করছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে উপেক্ষা করে শুধু ক্ষমতাসীন কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্ক টেকসই করা সম্ভব নয়।
ভারতীয় নীতিবিশ্লেষকরাও এখন ‘Strategic Recalibration’ বা কৌশলগত পুনঃসমন্বয়ের কথা বলছেন। ভারতীয় বিশ্লেষণধর্মী সাময়িকী Drishti IAS তাদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ‘Golden Chapter’ বলা হলেও ২০২৪-২৬ সময়কাল ছিল frosty period বা তীব্র অবিশ্বাসের সময়। অর্থাৎ ভারত এখন বুঝতে পারছে, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যদি আস্থার সংকট তৈরি হয়, তবে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কও দীর্ঘ মেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়ে।
কিন্তু এই নতুন সমীকরণের পেছনে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো ভূরাজনীতি। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশকে এক নতুন কৌশলগত অবস্থানে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির আলোকে এক ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি, অন্যদিকে চীনের ‘One China Policy’ সমর্থনের পুনর্ব্যক্তি এবং একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে ঢাকা এখন একক নির্ভরতার পথ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করা কিছু পোশাক পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এর ভেতরে ভূরাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। কারণ চুক্তির বিভিন্ন শর্ত চীননির্ভর বাণিজ্য কাঠামো থেকে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে আনার ইঙ্গিত দেয়। ফলে বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে তাকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
ভারতের জন্যও বাংলাদেশ এখন শুধু প্রতিবেশী নয়; বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক করিডরের কেন্দ্রবিন্দু। ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংস্থাগুলো বারবার বলছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সফল হবে না। ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা ইতোমধ্যেই সম্পর্ক ‘reset’ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
অর্থনৈতিক বাস্তবতাও তাই বলে। ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়। বাংলাদেশি শিল্প, বিশেষ করে পোশাক খাত, ভারতীয় তুলা, সুতা ও কাঁচামালের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য বাংলাদেশের বন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বাস্তবে সম্ভব নয়।
তবে নতুন সমীকরণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা হবে তিস্তা ও সীমান্ত প্রশ্ন। এক যুগ ধরে তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকার পেছনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বড় বাধা হয়েছিল। এখন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান সেই সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Times of India লিখেছে, পশ্চিমবঙ্গে ‘double-engine government’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তিস্তা চুক্তির পথ সহজ হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— রাজনৈতিক সদিচ্ছা কি বাস্তবে রূপ নেবে?
কারণ বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি আস্থাহীনতার বড় কারণ সীমান্ত হত্যা ও পানিবণ্টন। ফেলানী হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সীমান্তে গুলিবর্ষণ—এসব ঘটনা বাংলাদেশের জনমনে গভীর ক্ষোভ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘Hydro-hegemony’ তত্ত্ব অনুযায়ী উজানের রাষ্ট্র যখন পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ভাটির রাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন সেটি শুধু পরিবেশগত নয়, রাজনৈতিক আধিপত্যেরও রূপ নেয়। তিস্তা ও গঙ্গার পানি নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সেই তত্ত্বকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
অন্যদিকে ভারতেরও নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। দিল্লির দৃষ্টিতে বাংলাদেশ শুধু একটি প্রতিবেশী নয়; বরং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চীনা প্রভাব মোকাবিলার কৌশলগত ক্ষেত্র। ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ভারতবিরোধী মনোভাব নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ্যভাবেই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির কথা বলছে এবং ভারতকেও সম্পূর্ণ দূরে ঠেলে দেওয়ার অবস্থানে নেই।
সম্প্রতি জ্বালানি সহযোগিতা ও ভিসা প্রক্রিয়া আবার চালুর আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি ও সার আমদানির অনুরোধও করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বাস্তব প্রয়োজন দুই দেশকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনছে।
কিন্তু কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি অভ্যন্তরীণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো জাতীয় ঐকমত্যের অভাব। একটি সরকার ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হলে বিরোধী দল সেটিকে ‘আধিপত্যবাদে আত্মসমর্পণ’ বলে আখ্যা দেয়; আবার অন্য সরকার ভারত থেকে দূরত্ব তৈরি করলে সেটিকে ‘কৌশলগত ভুল’ বলা হয়। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রায়ই দলীয় রাজনীতির অংশে পরিণত হয়। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যথার্থই বলেছেন, অভ্যন্তরীণ ঐক্য ছাড়া ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই হয় না।
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশকে এখন আবেগ নয়, বাস্তববাদী কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তববাদী তত্ত্ব বলে, রাষ্ট্রের স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই; আছে শুধু স্থায়ী স্বার্থ। ভারত যেমন তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে, বাংলাদেশকেও তেমনি নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু সেই স্বার্থরক্ষা কখনোই একমুখী নির্ভরতার মাধ্যমে সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের উচিত হবে—একদিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানো; অন্যদিকে পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও বাণিজ্য বৈষম্যের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বহুমুখীকরণ করতে হবে, যাতে কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি না হয়।
সবশেষে বলা যায়, ‘নতুন সমীকরণে ভারত-বাংলাদেশ’ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আস্থা, ভারসাম্য ও বাস্তববাদের ওপর। ভারত যদি বাংলাদেশকে শুধু নিরাপত্তা করিডোর বা ভূরাজনৈতিক বাফার হিসেবে দেখে, তবে সম্পর্ক আবার সংকটে পড়বে। আবার বাংলাদেশ যদি শুধু আবেগপ্রসূত জাতীয়তাবাদ দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায়, তাহলেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে না।
দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস আমাদের শেখায়—ভৌগোলিক বাস্তবতা এড়িয়ে কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারতও সেই বাস্তবতার বাইরে নয়। কিন্তু সমান মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা গেলে এই ‘নতুন সমীকরণ’ শুধু কৌশলগত সমঝোতা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতেও পরিণত হতে পারে। অন্যথায়, অবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতার পুরোনো চক্র আবার দুই দেশকে সংঘাতের পথে ঠেলে দেবে।
লেখক : রাজনীতি বিশ্লেষক, সাবেক অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


আইআরজিসির তেল পরিবহনের তথ্য দিলে ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র