জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত কান, নাক ও গলাবিষয়ক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. মুখলেসুর রহমান। ছয় মাস বয়সি এক শিশুর বিরল জন্মগত ত্রুটির সফল অস্ত্রোপচারের কেস স্টাডি উপস্থাপন করে তিনি এ স্বীকৃতি পান।
ডা. মুখলেসুর রহমান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ইউনিটপ্রধান। গত ১৩ ও ১৪ জুলাই বার্লিনে ‘তৃতীয় গ্লোবাল সামিট অন ইয়ার, নোজ অ্যান্ড থ্রোট স্টাডিজ’ অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিন ডা. মুখলেসুর রহমান তার অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপস্থাপনার বিষয় ছিল ছয় মাস বয়সি এক শিশুর জন্মগত অতিরিক্ত নাক এবং ফ্রন্টাল সাইনাস জটিলতা। উপস্থাপনা শেষে আন্তর্জাতিক ফেসিয়াল প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি বিভাগের পরিচালক ও ওআরএল বিভাগের চেয়ারউইমেন ডা. দারিনকা হাঙ্গা তাকে ‘সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রিসিয়েশন’ প্রদান করেন।
চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক নাকের বাইরে অতিরিক্ত নাকের ছিদ্র বা ‘সুপারনিউমেরারি নস্ট্রিল’ অত্যন্ত বিরল। বিশ্বে এ ধরনের ৪০টিরও কম কেস নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশে এ ধরনের জটিল কেসের সফল অস্ত্রোপচারের এটি প্রথম ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ছয় মাস বয়সি শিশু রিফাত হাসানের নাকের বাম পাশে অতিরিক্ত একটি জন্মগত ছিদ্র ছিল। সিটি স্ক্যানে দেখা যায়, ওই ছিদ্রের নালিটি চোখ ও কপালঘেঁষে ফ্রন্টাল সাইনাস পর্যন্ত প্রায় ১.৬ সেন্টিমিটার বিস্তৃত। তবে এটি স্বাভাবিক নাকের নালির সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
ডা. মুখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদল জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করে। কপাল ও সাইনাসের ক্ষতি না করে পুরো নালিটি অপসারণ করা হয়। পরে হাড় ও চামড়া যথাযথভাবে জোড়া দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির কোনো সংক্রমণ বা জটিলতা দেখা দেয়নি। এক মাসের ফলোআপে নাকের গঠন ও কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক পাওয়া যায়।
ডা. মুখলেসুর রহমান বলেন, ২০ দেশের ৫৮ জন আমন্ত্রিত বক্তার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নেওয়া তার জন্য গর্বের। সীমিত সম্পদের মধ্যেও এমন বিরল অস্ত্রোপচারের সফলতা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সক্ষমতার প্রমাণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


