বিএনপিকে টপকিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন বাংলার বুকে হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি'র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় নির্বাচনের আগে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক বলেন, নির্বাচন বিলম্বিত করে দিল্লিতে বসে থাকা শেখ হাসিনা আবার উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশে আগুন জ্বালাবে এটা হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে জনগণের সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। ভবিষ্যতেও করবে না, তার প্রমাণ ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যখন স্বাধীনতার ঘোষণা করার জন্য কোন মানুষ ছিল না তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। আর বর্তমানে তারেক রহমানের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা। তিনি যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তাতেই প্রমাণ করে। আর একটি দল আছে। যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিল। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই কিসের তালবাহানা শুরু করেছেন আপনারা? এই সরকারকে দোষারোপ করার জন্য কি তালবাহানা শুরু করেছেন? গণতন্ত্রের স্বপক্ষের শক্তি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, তারা এখনো রাস্তায় । জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য বিএনপি আন্দোলন সংগ্রাম করে যাবে যে পর্যন্ত না জনগণের অধিকার ফিরে আসে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্র জনতার রক্তের উপর প্রতিষ্ঠিত আপনার সরকার। ছাত্র জনতা বিশ্বাস নিয়ে আপনাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। দয়া করে এই বিশ্বাস অবহেলা করবেন না। যারা আপনার কানে কানে কথা বলে। তারা আওয়ামী লীগকে আবার পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদেরকে রুখে দিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের সাবেক এই চিপ হুইপ বলেন, আপনি এমন একটা নির্বাচন দেন, যে নির্বাচন দেখে মোদির বগলে বসে থাকা হাসিনাও যেন বলে এটাই বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, অনেকেই বলেন দিল্লি তুরস্কর মত দল করবেন। যে আদলে এই দল করেন না কেন, আমাদের কোন বাধা নেই। কারণ এদেশে বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন দল করেন আর দলে আসেন। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, সরকারকে সহযোগিতা করে, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তাল বাহানা শুরু করেছেন। বিএনপিকে টপকিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন বাংলার বুকে এটা হতে দেওয়া হবে না। বিএনপিকে খাটো করে দেখবেন না। বিএনপির ধৈর্যের বাঁধ এখনো ভাঙ্গেনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আওয়ামী লীগের দোসর সচিবলয়ে গ্যাপটি মেরে থাকা কিছু সচিব। কিছু ডিসি এসপি। যারা ডক্টর ইউনুস সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে তাদের নাম কেন প্রকাশ করছেন না তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না?
সরকারের উদ্দেশ্যে ফারুক বলেন, কোনো তালবাহানা চলবে না। তালবাহানা করে মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিনের মত দুই বছর ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন। এসব তালবাহানা চলবে না, নির্বাচন দিতে হবে, দিতে হবে। আমাদের সমর্থন আছে। তারপরও কেন শেখ হাসিনার দোসর সচিবালয়ে বসে আছে। সত্য কথা বললেই বলবেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা তাড়াহুড়া করছি। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। ক্ষমতায় আমরা বেশ কয়েকবার গিয়েছি। দেশের জনগণের অধিকারের জন্য আমরা বলছি দ্রুত একটা নির্বাচনের দরকার। তাই বারবার নির্বাচনের কথা বলছি।
নাগরিক সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, কৃষকদলের সহ-সভাপতি ভি পি ই ইব্রাহিম প্রমুখ।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

