ডিইউজে-বিএফইউজের আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

সংস্কার আমাদের মজ্জায়-আমাদের রক্তে, সংস্কারের মধ্য দিয়েই আমাদের জন্ম

সংস্কার আমাদের মজ্জায়-আমাদের রক্তে, সংস্কারের মধ্য দিয়েই আমাদের জন্ম

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার তো আমাদের মজ্জায়, সংস্কার আমাদের রক্তে, আমাদের জন্মই সংস্কারের মধ্য দিয়ে। তাই আজকে যদি বলা হয়, বিএনপি সংস্কার আটকে দিচ্ছে , এটা আমি মনে করব যে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে এটা বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আমরা সংস্কার চাই না; সংস্কার রুখে দিচ্ছি। তাহলে এর চেয়ে বড় সত্যের অপলাপ তো আর কিছু হতে পারে না। এই যে, কমিশন হয়েছে এখন ঐকমত্য কমিশন হচ্ছে- প্রত্যেকটা কমিশনের প্রতিটি মিটিংয়ে আমাদের প্রতিনিধি টিম গেছে, আমরা প্রত্যেকটি বিষয়ে আমাদের মতামত সংস্কার কমিটিগুলো সামনে তুলে ধরেছি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিইউজে ও বিএফইউজে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫টা বছর রাজনৈতিক দলগুলো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, তারা ভয়াবহভাবে একটা দানবীয় শাসনের শিকার হয়েছে। আমার এই দলে ১৫ বছরে ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং এই মানুষগুলো প্রতিদিন আদালতে গেছেন, উকিলের কাছে গেছেন, বাড়ি থেকে পালিয়ে থেকেছেন, পুলিশের দাবরানিতে অনেকে কেউ অন্য পাড়ায় গিয়ে, অন্য গ্রামে এবং কেউ কেউ গ্রাম ছেড়ে, দেশ ছেড়ে, জেলা ছেড়ে, ঢাকায় এসে রিকশা চালিয়েছে, কেউ হকারের কাজ করেছেন। কেউ বড় বড় বাড়িগুলোতে দারোয়ানের চাকরি নিয়ে থাকেন। এগুলো হচ্ছে একদম বাস্তবতা।

তিনি বলেন, প্রায় ১৭০০ বিএনপির নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন, দলের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের নেত্রী চেয়ারপার্সন তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং একটা মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে ছয় বছর কারান্তরীণ রাখা গিয়েছিল। তারেক রহমান সাহেবকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো সব ঘটনা সত্য।

'বিএনপি সংস্কারে বাধা দিয়েছে' গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশে সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ৭৫ সালে যখন আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ঘোষণা করে এবং পট পরিবর্তনের পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। প্রথম যে সংস্কারটি তিনি করেছিলেন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র রুপান্তর করেন এবং তারপরে তিনি সমস্ত বাক স্বাধীনতা দিয়েছেন। তার আগে মাত্র চারটি পত্রিকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সব ছিল বন্ধ।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর দীর্ঘ সংগ্রাম করে স্বৈরাচার হটিয়ে তিনি সকলকে নিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন। এ একটা বিশাল একটা মৌলিক সংস্কার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনটি ইলেকশন সেই তিনটি ছিল সবচাইতে ভালো ইলেকশন। অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ট্যাক্স আরোপের প্রমাণ হয়েছে এটা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতিকে শক্ত জায়গায় নিয়ে আসার পেছনে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ সম্পর্কে বলা হয়। জুলাই সনদের প্রথম যখন কথা উঠল, তখনই আমরা আমাদের মতামত দিয়ে দিয়েছি। গতকাল রাতে আবার মতামতপত্র দিয়েছি। তাহলে প্রবলেমটা কোথায়? প্রবলেমটা হচ্ছে, যে নারী দেখতে তার চলন বাঁকা।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি খুব আশাবাদী মানুষ। নির্বাচন হবে কি হবে না, অনেকে জানতে চেয়েছেন? কেন হবে না। নির্বাচন তো দেশের মানুষ চায়, নির্বাচনের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। মানুষ একটা নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব চায়। সমস্যা গুলো যত দ্রুত সম্ভব আমরা এই কাজগুলো করে আমরা একটা নির্বাচিত সরকারের দিকে যাই, গণতন্ত্র উত্তরণের পথে যাই, ডক্টর প্রফেসর ইউনূসকে ধন্যবাদ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি (ইউনূস) নির্দেশ দিয়েছেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি রাখতে নির্বাচন কমিশনকে। এটা একটা অত্যন্ত ইতিবাচক। আশা করব, নির্বাচন কমিশন এই কাজটা খুব দ্রুততার সঙ্গে করে তার নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ওপরে ৩৫ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করেছে। রপ্তানি পোশাক শিল্পের ওপরে যদি ৩৫ শতাংশ ট্রারিফ আসে তাহলে পোশাক শিল্প মাটিতে শুয়ে পড়বে উঠতে পারবে না অর্থাৎ আমাদের অর্থনীতির মেরুদন্ড ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা অত্যন্ত একটা সমস্যা বড় সমস্যা। আমি মনে করব, অন্তর্বর্তী সরকার তারা কতটুকু এ ব্যাপারে মনোযোগ দিয়েছেন আমি জানি না। তবে আরো অনেক বেশি মনোযোগ দিয়ে সবচাইতে যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করাটা প্রয়োজন ছিল। তো সময় এখনো চলে যায়নি, এখনও সময় আছে। এ বিষয়গুলো আলোচনা করে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি বেঁচে থাকে, আমাদের মেয়েদের কর্মসংস্থান যেন নষ্ট না হয়, আমাদের অর্থনীতি যেন প্রতিষ্ঠিত হয় সে বিষয়টা তারা অবশ্যই দেখবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সীমান্তে হত্যা এবং পুশইন ব্যাপারটাকে সিরিয়াসলি রাখার জন্য, এটা কোন হালকা ব্যাপার নয়। প্রতিদিন এটা সীমান্তে ঘটছে। সুতরাং এই বিষয়টাকে আরও গুরুত্ব সহকারে জনমত সৃষ্টি করার ব্যাপারে গণমাধ্যমে নিয়ে আসার দরকার এবং এ ব্যাপারে সরকারের প্রতিও আহবান জানাবো, যেন সরকার এ বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে এটা দরকষাকষিটা চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়। অত্যন্ত জোরালোভাবে এই পানির হিস্যার ব্যাপারগুলো পানি বণ্টনের বিষয়গুলো সরকারকে নিশ্চিত আহ্বান জানান তিনি।

নিজের বয়স হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তরুণ উপরেই আমাদেরকে নির্ভর করতে হবে। তাদেরকেই মোটিভেট করতে হবে যেন সত্যিকার অর্থেই একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করার ব্যাপারে তারা এগিয়ে আসে এবং সেখানেই তারা সফল হয়।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই সিকদার, দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজের সহ-সভাপতি এ কে এম মহসিন, প্রবাসী সাংবাদিক ইমরান আনসারী ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এম সাইদ খান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন