ভেরিফিকেশনের নামে সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ, পুনঃতদন্ত চায় এবি পার্টি

ভেরিফিকেশনের নামে সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ, পুনঃতদন্ত চায় এবি পার্টি

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের নামে বিভিন্ন জেলার শত শত প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, ‘গোপন প্রতিবেদন’ বা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীর চাকরি বাতিল করা যাবে না।

শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তাঁরা দাবি করেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নির্ধারিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এরপর ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ, আইনগত ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ করতে হবে।

এবি পার্টির নেতারা বলেন, ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই বৈষম্য, হয়রানি কিংবা রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তাকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

তারা আরো বলেন, কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করা হলে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত কারণ যাচাইয়ের সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে দিতে হবে। তাদের ভাষায়, ‘গোপন প্রতিবেদন’ বা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে একজন নাগরিকের চাকরি ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া চলবে না।

সম্প্রতি সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তারা। নিয়োগব্যবস্থাকে আর্থিক লেনদেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণের অভিযোগ থেকে মুক্ত করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এবি পার্টির নেতাদের দাবি, একদিকে মেধার ভিত্তিতে ভাইভায় উত্তীর্ণ ও চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়া এবং অন্যদিকে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে নম্বর বা মানদণ্ড পরিবর্তনের উদ্যোগ জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ কারণে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানান তারা।

তারা বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুনঃতদন্তের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইনগতভাবে অযোগ্য নন—এমন প্রার্থীদের পুনর্বহাল করে নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি করেন।

বিবৃতিতে এবি পার্টির নেতারা বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়; এটি নাগরিকের মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়। ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও বাছাই চলতে থাকলে তা বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আইনানুগতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবি পার্টি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন