পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে নৎসাত করার জন্য ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশে আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। গতকাল বুধবার রাতে গুলশান চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব আলোচনা হয় বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুর্বৃত্তদের হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও নিন্দা জানায় বিএনপি। তারা মনে করে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হামলা, যার লক্ষ্য ছিল আন্দোলনরত শক্তিগুলোর কণ্ঠরোধ করা।
বিএনপির মতে, হামলার পর ১৪৪ ধারা জারি ও কারফিউ আরোপ করাও একই ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা বলছে, ‘গণতন্ত্র নস্যাৎ করার জন্যই এই ধরনের দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’
বিএনপি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতেই দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। দলটির বিবৃতি অনুযায়ী, ‘একটি মহল নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটাচ্ছে। মবোক্রেসি, খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ বেড়েই চলেছে।’
দলটি আরো দাবি করে, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। উপদেষ্টারা কেবল মিডিয়ায় বক্তব্য রাখছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এ অবস্থায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিএনপি অভিযোগ করে, মিডফোর্ড এলাকায় সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক দল দলটিকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে অশোভন বক্তব্য দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এসব বক্তব্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপমানজনক এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত।
বিএনপি বলছে, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু রাজনৈতিক পরিবেশকেই কলুষিত করবে না, বরং গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হবে। দলটি রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বশেষ অগ্রগতি তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। সিদ্ধান্ত হয়, এ বিষয়ে ১৭ জুলাই রাত ৮টায় আবার আলোচনা হবে।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

