ভারতের চেয়ে পাকিস্তান-চীন অনেক ভাল মানের বন্ধু: তারেক

ভারতের চেয়ে পাকিস্তান-চীন অনেক ভাল মানের বন্ধু: তারেক

ভারতের চেয়ে পাকিস্তান-চীন অনেক ভাল মানের বন্ধু। এই বন্ধুকে গ্রহণ করে ভারত কে রুখে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। ঝিনাইদহ মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশের নাগরিক খুন হবার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করে আমজনতার দল।

চীন আর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বৈরিতা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা ভারত নাকি চীন আর পাকিস্তানের নৈতিক পক্ষ নিবে। এটা আমাদের আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটা অংশ। আমরা ভারতের কাছ থেকে যে নিপীড়নের শিকার হয়েছি তারপরেও আমরা ভারতের পক্ষ নাকি চীন পাকিস্তানের। পক্ষ নেয়া এইজন্য জরুরি, এটা প্রতিশোধ নেয়ার সময়। গত ১০ বছরে শত, শত, হাজার মানুষকে হত্যা করেছে বিএসএফ। তার প্রতি উত্তরে আমরা যদি ভারতের পক্ষ নেয় তাহলে হবে না। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে,আমরা বিজয়ী হয়েছি,পাকিস্তান ক্ষমা চেয়েছে। আমরা সবসময় বলবো তারা সঠিক কাজ করেনি কিন্তু ২০২৫ সালে এসে আমি বলতে চাই, ভারতের চেয়ে পাকিস্তান-চীন অনেক ভাল মানের বন্ধু। এই বন্ধুকে গ্রহণ করে ভারত কে রুখে দিতে হবে।

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, এখন আর বিজিবি পিঠ দেখিয়ে চলবে না। তাহলে এই এপ্রিল মাসে যে আমাদের চারজন নাগরিককে হত্যা করা হল, তোমরা পিঠ দেখিয়েছো না মুখ দেখিয়েছো? সুন্দর সুন্দর কথা বলে মানুষকে মোহগ্রস্ত রাখে। সুন্দর সুন্দর কথা আপনারা বলছেন কিন্তু মানুষকে ত মরতে হচ্ছে।

আমজনতার দলের সদস্য সচিব বলেন, ইন্ডিয়ান বিএসএফ বলে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি করছে তাহলে গত ১০ বছরে যে ২৭ জন শিশুকে হত্যা করা হল তাহলে তারাও কি বিএসএফ কে হত্যা করতে গিয়েছিলো? ফেলানি দাস, জীর্ণ-শীর্ণ একটা মেয়ে, কাজ করে খায়। তাকে মেরে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখলো। সেও কি ইন্ডিয়ান বিএসএফ কে প্রতিরোধ করতে গিয়েছিলো? সেও কি মাদক পাচার করতে গিয়েছিলো?

বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান সীমান্তে বিরামহীনভাবে বিএসএফ হত্যা করে চলেছে উল্লেখ করে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, কিন্তু আফসোস, আমাদেরও একটা সীমান্ত বাহিনী আছে, তাদের আমরা বন্দুক দিয়েছি, গুলি দিয়েছি, মাসের পর মাস কষ্টের টাকায় বেতন দিচ্ছি। যদি এগুলো কাজেই না লাগে তাহলে আমরা তোমাদের বেতন দিতে বাধ্য না। গণঅভ্যুত্থানের ভিতরেও বিএসএফ বাংলাদেশের ভিতরে ঢুকে আমার দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করেছে কিন্তু বিজিবির একটা গুলি ইন্ডিয়ান বিএসএফ এর বিরুদ্ধে কাজে লাগলো না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন শেষে সীমান্তে হত্যা বন্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পররাষ্ট্র সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে আমজনতার দল।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন আমজনতার দলের প্রচার সম্পাদক আফ্রিদি, সদস্য আরিফ বিল্লাহ, চট্টগ্রাম আমজনতার দলের সভাপতি আব্দুল হোসেন জিহাদ, জুলাই আহত নাজমুল হক, এসো দেশ গড়ির সভাপতি ডিওক প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন