অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যা বললেন জামায়াত নেতারা

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যা বললেন জামায়াত নেতারা

বিএনপি, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মঙ্গলবার ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেয়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর এক বিবৃতি দিয়েছিল জামায়াত । যেখানে প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল দলটি। খবর বিবিসি বাংলা।

বিজ্ঞাপন

এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আয়োজিত মঙ্গলবারের সভায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে জামায়াত।

দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই এমন অবস্থান নিয়েছেন তারা।

তারা আরও জানান, মঙ্গলবার অংশ না নিলেও বুধবারের আলোচনায় অংশ নেবেন কিনা সে বিষয়ে তারা বিবেচনা করবেন।

দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা আশা করি সরকারের উদ্যোগটা সফল হোক এবং আমরা যেন বৈঠকে যেতে পারি সেরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হোক।

এদিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বুধবারের আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।

জামায়াত নেতারা বলছেন, চলতি মাসের ১৭, ১৮ ও ১৯ তারিখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংস্কার কমিশনগুলোর দেয়া প্রস্তাব নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনার বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে।

সেই অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় ছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ), প্রধান বিচারপতির নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ, সদস্য আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, সফর রাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুমদার, ইফতেখারুজ্জামান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে অংশ নেন।

তবে এদিন উপস্থিত ছিলেন না বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রতিনিধি। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ না নেয়ার কারণ হিসেবে সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকের বিষয়টিই সমানে আনছেন জামায়াত নেতারা, যা নিয়ে গত ১৪ জুন বিবৃতিও দিয়েছিল দলটি।

সেই বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের বিবৃতিতেই পুরো বক্তব্য এসে গেছে। প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্নটা উঠেছে জাতির সামনে।’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষ থাকতে পারেননি। ফলে উনি‌ই (প্রধান উপদেষ্টা) বলুন নিরপেক্ষ উনি কীভাবে থাকবেন এবং আমরা যে আস্থা রেখেছি একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন তার নেতৃত্বে হবে, এটা উনার ভূমিকা দিয়েই প্রমাণ করতে হবে।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে শুরু থেকেই জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ না নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো মঙ্গলবার যাইনি। আমাদের সঙ্গে গভর্নমেন্টের পক্ষ থেকে দফায় দফায় কথা বলা হচ্ছে, আমরা বুধবার যাব কিনা সেটি বিবেচনা করব।’

তিনি আরও বলেন, আজ (বুধবার) যাবো না বলছি না, যাবো সেটাও বলছি না। তবে আমরা আশা করি উনারা (সরকারের পক্ষ থেকে) যেভাবে যোগাযোগ বা কথাবার্তা বলছেন, কিছু জিনিস ব্যাখ্যা করছেন তাতে আমরা আজ বৈঠকে যেতেও পারি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন