আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে, বাংলাদেশকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতির কোন বিকল্প নাই। পিআর পদ্ধতিতে ভোট ডাকাতির কোন সুযোগ থাকবে না বলেই কেউ কেউ পিআর পদ্ধতির নির্বাচনকে ভয় পায়। সেজন্য তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছে না।
মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে "জুলাই - আগস্ট" গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠান পূর্বক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. তাহের বলেন, যারা নির্বাচনের আগেই সংসদে ২৮০ আসন পাবে দাবি করে নিজেরা একক সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়; তারাই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাঁধা সৃষ্টি করবে। তারা মূলত হাসিনা মার্কা যেনতেন একটি নির্বাচন চায়।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত সরকার গঠন না হলে আবারো ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটবে। আবারো মানুষ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হারাবে। রাষ্ট্র কর্তৃক জুলুমের শিকার হবে। ২০২৪ সালে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের জুলুমের হাত থেকে এই জাতি স্বাধীনতা লাভ করেছে। ২৪ এর স্বাধীনতা আর কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না।
ডা. তাহের আরও বলেন, ছাত্র-জনতার অর্জিত নতুন বাংলাদেশে মানুষ এখন মৌলিক পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের জন্য সরকার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য সরকার কয়েকটি সংষ্কার কমিশন গঠন করেছে। ঐকমত্য কমিশন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ৩২টি রাজনৈতিক দলকে একত্রিত করে তাদের মতামত গ্রহন করছে।
তিনি বলেন, যারা আজ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথ বন্ধ করতে সমর্থন ও সহযোগিতা করছে না, তারা মূলত আবারো ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। দেশের মানুষ অতীতের চেয়ে বহুগুণ বেশি সচেতন উল্লেখ করে তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে নিজের ও দলের স্বার্থ পরিহার করে দেশ ও জাতির প্রত্যাশিত রাজনীতি করার আহ্বান জানান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় মহানগরীর হলরুমে অনুষ্ঠিত দোয়া অনুষ্ঠান পূর্বক আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৮ আসনে দলীয় প্রার্থী মহানগরীর নায়েবে আমির আডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঠাকুরগাঁও -১ আসনের প্রার্থী মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী এফবিসিসিআই'র সাবেক পরিচালক হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমির শাহীন আহমেদ খান।
বক্তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অশ্রুসিক্ত নয়নে সে সময়কার স্মৃতিচারণ করেন। এসময় তারা বলেন, ৩৬ দিনের সংগ্রামে ছাত্র-জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে জাতিকে স্বাধীন করতে না পারলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অর্জিত হতো না। তারা বলেন, সরকার সংস্কার ও গণহত্যার বিচার সম্পন্ন না করে নির্বাচন করলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে না।
সভা শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত-পঙ্গুত্ব বরণকারীদের সহ ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশের জন্য আত্মদানকারী সকল বীরের জন্য এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

