ডাকসু স্থগিত ঘোষণায় বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ডাকসু স্থগিত ঘোষণায় বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হাইকোর্টের রায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ক্যাম্পাস। সোমবার দুপুরে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমবেত হন।

এসময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত আসলে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রভাবিত রায়। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে ডাকসু নির্বাচনের মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিদ্যমান এবং নির্বাচন কমিশনও ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা স্লোগান দেন— “এক দুই তিন চার, ডাকসু আমার অধিকার”, “ডাকসু নিয়ে ষড়যন্ত্র মানি না মানবো না”, “৯ তারিখ ডাকসু দিতে হবে দিতে হবে”।

বিজ্ঞাপন

du2
du2

ডাকসু নির্বাচন কমিশন প্রধান অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে কাজ চালাচ্ছিলাম। ক্যাম্পাসে কোথাও কোনো সংঘাত নেই। হাইকোর্ট হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কিসের ভিত্তিতে দিল তা স্পষ্ট নয়।”

অন্যদিকে ডাকসু প্রার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে গোটা দেশেই অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যার সঙ্গে সেনানিবাস থেকে ক্যু করার পরিকল্পনার যোগসূত্রও থাকতে পারে।”

এর আগে সোমবার ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা এক রিটের শুনানিতে বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

তবে এমন আদেশের ঘন্টাখানেকের মধ্যে নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির জানান, “চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন। এর ফলে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনে আর কোনো বাধা নেই।”

du1
du1

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানিয়েছে, তারা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। এবারের নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন।

সদস্য পদে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—২১৭ জন। পাশাপাশি ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ এবং দুটি বামপন্থী জোটসহ মোট প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন