নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি। এমন শঙ্কা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ আদায়ের দাবিতে রাজপথে নামতে চায় দলটি। কী ধরনের কর্মসূচি করা যায়-তা নিয়ে আলোচনাও চলছে।
গতকাল সোমবার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দলটির নীতি নির্ধারকরা মনে করেন সরকারের একটি অংশ ক্ষমতায় থাকতে নানা অজুহাতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসাবে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কিছু ইস্যু নিয়ে হঠাৎ করে নানা পক্ষের মাঠে আন্দোলনে নামার ঘটনাকে তারা সন্দেহের চোখে দেখছে।
তাদের এ চেষ্টা সফল হলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি পতিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেবে। সর্বশেষ সরকারের তরফ থেকে বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার পর সেই শঙ্কা আরও বেড়েছে। এ নিয়ে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে নেতারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের ফসল বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার। এই সরকার ব্যর্থ হলে অথবা দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি। সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশ বিরাজনীতিকরণ বা তাদের মদদপুষ্ট কোনো একটি 'কিংস পার্টিকে' প্রতিষ্ঠিত করতে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে। এই চেষ্টা যাতে সফল না হয়, সেজন্য করণীয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেখানে নেতারা নির্বাচনের দিনক্ষণের দাবিতে আন্দোলনের পক্ষে মত দেন। তবে সেই আন্দোলন কোনো অবস্থায় যাতে সংঘাতের দিকে না যায় সেই ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত সরকারকে বিব্রত করার মতো কোন কর্মসূচি দেয়নি। তবে সরকারের উপরের চাপ তৈরির জন্য বিএনপি ও তার মিত্ররা নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনের দিনক্ষণের দাবিতে কর্মসূচি দিতে পারে। কিন্তু বিএনপি নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানাতে চান।
জানা গেছে, আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী দুই মাস সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি চলবে, আর তার মাধ্যমেই দল আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা হবে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যে সমাবেশ রয়েছে সেসব কর্মসূচির মাধ্যমে দলের তরুণ কর্মীদের মাঠে নামানো হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ও খুলনায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথ উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ শেষ করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ি বগুড়া ও ঢাকায়ও সমাবেশ হবে। সর্বশেষ ঢাকার সমাবেশে বড় ধরনের লোকসমাগম করবে। ঢাকার সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হবে।
AH
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

