সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ আজ

জামায়াতের ব্যাপক প্রস্ততি, ঢাকামুখী লাখো নেতাকর্মী

জামায়াতের ব্যাপক প্রস্ততি, ঢাকামুখী লাখো নেতাকর্মী

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ জাতীয় সমাবেশ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঐতিহাসিক এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ সমাবেশে দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাগম ঘটাতে চায় জামায়াত। এতে যোগ দিতে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা এরই মধ্যে ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্টরা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাত দফা দাবিতে এ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। এজন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে লাগাতার প্রচারসহ ব্যাপক প্রস্তুতি চালায় জামায়াত। পোস্টারিং ছাড়াও অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন ও তোরণ স্থাপন করা হয়েছে। পাড়া-মহল্লা ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও প্রচার মিছিল করেন নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের পাশাপাশি বড় একটি শোডাউনের মাধ্যমে দলটির অবস্থান জানান দিতে চান নেতাকর্মীরা। এতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সূত্রমতে, দুপুর ২টায় সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হবে। তবে এর আগে সকাল ১০টা থেকে সাইমুমসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নানা পরিবেশনা চলবে। সমাবেশের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছেÑআগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, জুলাইসহ সব গণহত্যার বিচার, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার, জুলাইন সনদ ও যোষণাপত্র বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম আমার দেশকে জানান, এর আগে ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও পল্টন ময়দানসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও জোটের পক্ষ থেকে সমাবেশ হয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই প্রথম এবং ঢাকায় সবচেয়ে বড় আয়োজনের একটি সমাবেশ হচ্ছে।

এদিকে সমাবেশস্থলের শেষ প্রস্তুতি দেখতে শুক্রবার বেলা ৩টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সারথি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ সমাবেশের সভাপতিত্ব করবেন। জাতীয় নেতারা এতে বক্তব্য রাখবেন। মহাআকাঙ্ক্ষার জাতীয় এই সমাবেশ যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য তিনি দোয়া চেয়েছেন।

সারা দেশের শহর, নগর, বন্দর থেকে কয়েক লাখ মানুষ এখন ঢাকামুখী উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, স্টেজে প্রায় ৩০০ চেয়ার থাকবে জাতীয় নেতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন। সমাবেশে আগতদের জরুরি টয়লেট ও অজুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওয়াসার পানি ছাড়াও ৫০ থেকে ৬০ হাজার বোতলজাত পানি সরবরাহ করা হবে। থাকবে মেডিকেল বুথ। ৩৩টি এলইডি স্ক্রিনে সমাবেশ দেখার ব্যবস্থা থাকছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং ডিএমপি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্যও ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, সমাবেশ ঘিরে রাজধানীতে যানজটসহ জনদুর্ভোগ হতে পারে। এজন্য নগরবাসীর কাছে আমরা আগাম ক্ষমা চেয়েছি। আমাদের আমিরের পক্ষ থেকে আবারও ক্ষমা চাচ্ছি।

সেখানে তাৎক্ষণিক দোয়া ও মোনাজাত করেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেনÑদলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন