বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বর্তমান মুসলিম উম্মাহ যে নানাবিধ সংকট ও সমস্যার সম্মুখীন, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অনৈক্য ও বিভক্তি। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আল্লাহর রজ্জু’ দৃঢ়ভাবে ধারণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনার মধ্যেই মুসলিম সমাজের শক্তি, স্থিতিশীলতা ও সফলতার মূল নিহিত রয়েছে।
মাওলানা মামুনুল হক আরো বলেন, ভিন্ন ভিন্ন দল বা সংগঠনের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক; তবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা, কোরআনের শিক্ষা প্রসার এবং উম্মাহর কল্যাণের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভবিষ্যতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নিউইস্কাটনে বিয়াম অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির’ বার্ষিক প্রতিনিধি সম্মেলন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামি শিক্ষা ও উলামা ঐক্যে মাওলানা মামুনুল হককেও অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা করা হয়। এই অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পত্র দেওয়ার জন্যে বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা সোসাইটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম এবং অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন সোসাইটির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং সহকারি জেনারেল সেক্রেটারি আরশাদ মঞ্জুর চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব উল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অধ্যাপক মাহবুব আহমদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো: আব্দুল হাকিম আজিজ ও অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সোসাইটির সভাপতি মাওলানা আবদুস শহীদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কুরআনের আলো বিস্তার, আলোকিত সমাজ গড়া, সমাজ সেবা ও শিক্ষা বিস্তারে অবদানের জন্যে বিভিন্ন সময় বিদগ্ধ মণীষীদের অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোসাইটি এ বছর ৯ জন মনীষীকে বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা সোসাইটি অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদানের জন্যে মনোনীত করে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ৫০ জন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি বাবদ নগদ টাকা ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
মামুনুল হক ছাড়াও অন্য অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায়- অধ্যাপক মাহবুব আহমদ, মানাব কল্যাণে অনন্য অবদান- অধ্যাপক আবু নাছের মোহাম্মদ আবদুজ জাহের, মহিলাদের মাঝে দীনি দাওয়াত বিস্তারে- অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম, জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ অবদান- নাহিদ ইসলাম এমপি, আদর্শ প্রশাসক হিসেবে- শাহ আবদুল হান্নান (মরনোত্তর) -আদর্শ প্রশাসক হিসেবে- এ জেড এম শামসুল আলম (মরণোত্তর), কুরআন ও দীন প্রচারে- মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম(মরণোত্তর), কুরআনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায়-এয়ার কমোডর ড. সৈয়দ জিলানী মাহবুবুর রহমান(মরণোত্তর)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুব উল আলম বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি শুধু অর্থনৈতিক বা সামরিক সক্ষমতায় নয়—বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল। কুরআনের শিক্ষা মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সততা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা শেখায়, যা একটি সুশাসিত সমাজ গঠনের মূল উপাদান। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ঘরে ঘরে কুরআন শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত ও সৎ নেতৃত্বে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, তাহলেই সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এছাড়াও পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, এই স্বীকৃতি কেবল সম্মান নয়—বরং এটি একটি আমানত, যা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে দ্বীনি ও সামাজিক সেবায় অবদান রাখার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা সোসাইটির উপদেষ্টা ও কমিটির সদস্যরা।#
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

