চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ পরিবারের বসতঘর ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারগুলো। প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও কিছুই রক্ষা করতে পারেনি তারা। আগুনের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা-মুখী লেন প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড বাইপাস এলাকার মডার্ন হাসপাতালের উত্তর পাশে, মহাসড়কের পশ্চিম পাশে আমিরাবাদ গ্রামের একটি বসতঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে জাহাঙ্গীরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতঘর এবং রফিকুল ইসলাম, তৌহিদুল ইসলাম, সাত্তার হোসেন ও মোহছেনা বেগমের বসতঘর পুড়ে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বাঁচলেও ঘরের কোনো মালামাল বের করতে পারেননি।
সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার বেল্লাল হোসেন আমার দেশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। আগুনের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কের ঢাকা-মুখী লেন বন্ধ ছিল বলেও জানান তিনি।
আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মুজাহির উদ্দিন আশরাফ আমার দেশকে বলেন, আগুনের সূত্রপাতের প্রায় আধা ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে পাঁচ পরিবারের ঘর দাউদাউ করে জ্বলছিল। আগুনের তীব্রতায় কোনো মালামাল সরানোর সুযোগ ছিল না।
অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে মহাসড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হয়। কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি মো. নুরুল আফসার আমার দেশকে বলেন, সন্ধ্যা থেকেই চট্টগ্রামমুখী সড়কে যানজট ছিল। এর মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা-মুখী লেন প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানজট আরও দীর্ঘ হয়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এক রাতের আগুনে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও সংসারের প্রয়োজনীয় সবকিছু হারিয়ে পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তায়।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত খাদ্য, পোশাক ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ঘর পুনর্নির্মাণে সরকারি সহায়তা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

