জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে জামায়াতের ভূমিকা জানালেন নূরুল ইসলাম বুলবুল

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে জামায়াতের ভূমিকা জানালেন নূরুল ইসলাম বুলবুল

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ,আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

মঙ্গলবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সেন্টু মার্কেটের সামনে দোয়া মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

দোয়া অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা আবুজার গিফারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো.নূরুল ইসলাম বুলবুল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন বিপর্যস্ত, হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় তখন নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে বিগত সরকার আবার পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলো এবং ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার জন্য পরিকল্পনা করেছিল। এ সময় বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা, গুমসহ নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীকে দমানো যায়নি, প্রতিটা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল।

পিলখানা হত্যার মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দূর্বল করে দেওয়া হয়েছিলো এবং বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিচারব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দলীয়করণ করা হয়েছিল। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। আর এইভাবে প্রতিটি স্তরকে ধ্বংস করা হয়েছিল যার মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা করেছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা।

জুলাই-আগস্টে যেভাবে ছাত্রদের উপর নিপিড়ন চালানো হয়েছিল, তা আপনারা দেখেছিলেন সাধারণ মানুষ, কর্মজীবী মানুষ, পেশাজীবি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলো। এবং হাইকোর্টের বিরুদ্ধে যখন ছাত্রসমাজ নেমেছিল তখন পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট হাসিনা যখন রাজাকার ট্যাগ দিয়েছিল, তখন ছাত্রসমাজ স্লোগান তুলেছিল তুমি কে আমি কে, রাজাকার রাজাকার। কিন্তু পরবর্তীতে এই স্লোগানকে কৌশলে পরিবর্তন করা হয়, বলা হয় তুমি কে আমি কে স্বৈরাচার স্বৈরাচার।

এই আন্দোলনে যখন ছোট ছোট শিশু, অভিভাবক, ছাত্রসমাজ নেমেছিল তখন এই গনঅভ্যুত্থানের ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পিছন দরজা দিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল। এই আন্দোলনে জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে। হাসপাতালে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে, শুকনো এবং রান্না করা খাবার এবং পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্ধশত ফ্রি অ্যামবুলেন্স সেবা দেয়া হয়েছে। পরে লাখ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না আবারও কেউ প্রতিবেশী রাস্ট্রের তাঁবেদারির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসুক। যদি কেউ আসে আবার ছাত্রজনতাকে সাথে নিয়ে রুখে দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান, জেলা নায়েবে আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু বকর, সদর উপজেলা আমির হাফেজ আব্দুল আলীম, পৌরসভার নায়েবে আমির শফীক এনায়েতুল্লাহ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন