জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের মুক্তির প্রতিবাদে আয়োজিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের কর্মসূচিতে এক নারীকে লাথি মেরে ফেলে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ চৌধুরী আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার বিকেলে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে কোতোয়ালী থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এরপর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
রোববার বিকেল ৪ টায় নিজের ফেসবুকে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেন আকাশ।
গত ২৮ মে বিকেলে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের মুক্তির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। পতিত শাহাবাগীরা দেশের প্রচলিত আইনকে কটাক্ষ করার অপচেষ্টা করছে এমন অভিযোগ তুলে একই সময় একই এলাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় শাহবাগ বিরোধী মঞ্চ নামের আরেকটি সংগঠন। নির্ধারিত সময়ে উভয়পক্ষ জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাম গণতান্ত্রিক জোটের ৩/৪ জন কর্মী আহত হন। দু’পক্ষের মাঝে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায় পুলিশ। একপর্যায়ে বাম সংগঠনের কর্মীদের একটি ভবনের বারান্দায় ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের চোখ এড়িয়ে পেছন দিক থেকে ওই বারান্দায় ঢুকে পড়েন আকাশ চৌধুরী নামের এক যুবক। বারান্দার সিঁড়িতে উঠে পেছন থেকে এক নারী কর্মীকে লাথি মেরে ফেলে দেন তিনি।
১৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার দু’দিন পর আকাশকে নিজেদের কর্মী বলে স্বীকার করে তাকে বহিস্কার করে জামায়াতে ইসলামী। পুলিশ আকাশ চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
রোববার বিকেল ৪ টায় নিজের ফেসবুকে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়ে লেখেন, 'চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে শাহাবাগীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি আমি একজন মুসলিম হিসেবে আমার ঈমানী চেতনার জায়গা থেকে করেছি। শুনলাম প্রশাসন আমাকে খুঁজছে! আমি চোরও না ডাকাতও না যে প্রশাসন থেকে আমাকে খুঁজতে হবে। কাজেই আমি আমার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সিদ্ধান্তক্রমে আজকেই কোতোয়ালী থানায় আত্মসমর্পণ করার ঘোষণা দিচ্ছি। ইসকন, বাম, নাস্তিক ইসলাম বিদ্বেষীদের একটা লাথি মারার কারণে যদি প্রশাসন আমাকে খুঁজে.... তাহলে দেশের ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতার কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, আমার আল্লাহ এবং রাসুল (স:) এর কুটুক্তিকারী, শাপলা চত্ত্বরে হাজারো আলেম ওলামার হত্যাকারী এবং জামায়াতের এতোগুলো নেতাকে রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার কি হবে....?'
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

