জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় বেশির ভাগ ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থার অবস্থান। এখানে অসংখ্য খেলোয়াড় নিয়মিত খেলায় ব্যস্ত থাকেন। অথচ তাদের জন্য নেই কোনো চিকিৎসক। ২০২১ সালে জেলা-বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের উদ্যোগে হকি স্টেডিয়ামের দ্বিতীয়তলায় একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার স্থাপন করা হয়। এজন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কক্ষ বরাদ্দের সঙ্গে আর্থিক অনুদানও দেয়।
ফিজিওথেরাপিস্টরা নিজেদের উদ্যোগে কিছু যন্ত্রপাতি ও জনবল দিয়ে সহযোগিতা করেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে সংগঠকদের মনোমালিন্যে সেখানে অচলাবস্থা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ফিজিওথেরাপি সেন্টারে তালা দেন তৎকালীন ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু। এবার তার বিরুদ্ধে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের সব মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এসি, ফ্যান, ফার্নিচার থেকে শুরু করে তার পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছেন এই ক্রীড়া সংগঠক। এনএসসি দাবি করছে, ফিজিওথেরাপি সেন্টারের অনেক মালামালই সরকারি অর্থায়নে কেনা। এসব মালামাল ফেরত চেয়ে গত ১৮ জুন মিকুকে চিঠি দেয় এনএসসি। ২৩ জুনের মধ্যে মালামাল ফেরত না দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর কিছু মালামাল ফেরত পাওয়া গেলেও তা পুরোপুরি অব্যবহারযোগ্য।
এ ব্যাপারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, ‘আমরাই শনাক্ত করেছি, চিঠি দিয়েছি এবং বলেছি মালামালগুলো ফেরত দিতে। পুরো বিষয়টি দেখভালের জন্য এনএসসির সহকারী পরিচালক (ক্রীড়া) সাজিয়া আফরিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
সাজিয়া আফরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সরেজমিন তদন্ত করে দেখেছি যে, তিনি (আশিকুর রহমান মিকু) বিদ্যুতের তার পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছেন। যখন আমরা চিঠি দিলাম, প্রথমে স্বীকার করেননি। পরে স্বীকার করেছেন। একবার বলছেন, মালামাল তার নিজের টাকায় কেনা। আমরা বললাম, এনএসসি থেকে যে টাকা দিয়েছিলাম, সেই মালামাল কই? পরে তাকে লিস্ট দেওয়া হয়েছে।’
আশিকুর রহমান মিকু দাবি করেন, এক সময় ফিজিওথেরাপি সেন্টার খেলোয়াড়দের গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তখন এসি, ফার্নিচারসহ আরো কিছু জিনিসপত্র নিজের টাকায় কিনে দেন তিনি। এবার সরকার ফিজিওথেরাপি সেন্টার পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার দেশকে মিকু আরো বলেন, ‘আমি প্রথম উদ্যোগ নেই ফিজিওথেরাপি সেন্টার করার। এখানে আমি বেশ কিছু টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন আমাকে যদি এখান থেকে সরে যেতে হয়, আমাকে তো একটা নোটিসও দেওয়া হয়নি।’
খেলোয়াড়দের কল্যাণের জন্য ফিজিওথেরাপি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে সেখান মালামাল নিয়ে গেলেন কেন? মিকু বলেন, ‘আমি এটার সঙ্গে ছিলাম, আমি এটার প্রেসিডেন্ট ছিলাম। আমাকে একটা নোটিস পর্যন্ত দিল না। আমার সঙ্গে তো বসে ভালো-মন্দ আলাপ করবে- এটা কেমন কথা। আমি শুরুটা যখন করেছি, আমাকে নোটিস না দিয়ে এটা কী ঠিক হয়েছে?’ মিকুর দাবি, ফিজিওথেরাপি সেন্টার থেকে নিজেদের মালামালও সরিয়ে নিয়েছেন ফিজিওথেরাপিস্টরা।
ঘটনার সত্যতা জানতে আমার দেশ ফিজিওথেরাপিস্ট জুবায়েরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জুবায়ের জানান, ‘মনোমালিন্যের জেরে হঠাৎ করে মিকু ভাই এসে একদিন তালা দিয়ে বন্ধ করে দেন এটি। তার সঙ্গে লিখিত চুক্তি ছিল ফিজিও রেবেকা সুলতানার। পরে রেবেকা এনএসসিতে গিয়ে অভিযোগ করেন। রেবেকা এনএসসিকে লিখিত আবেদন জানায়, সরকার এটা চালু রাখার দায়িত্ব যেন নেয়, তবুও যাতে এই ফিজিওথেরাপি সেন্টার বন্ধ না হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের যে যন্ত্রপাতি ছিল, তা ব্যবহার করা না হলে নষ্ট হয়ে যেতো, দামি যন্ত্রপাতি যা আমরা প্রথম এনেছিলাম ওই তালিকাটা আমরা এনএসসিতে জমা দেই। যতটুকু সম্ভব সাজিয়া আপার উপস্থিতিতে আমাদের যে যন্ত্রপাতি ছিল, এগুলো নিয়ে গিয়েছিলাম। যা আামদের ক্রয়কৃত ছিল।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

