উপদেষ্টা পরিষদের সংস্কার চান সালাহউদ্দিন আহমেদ

উপদেষ্টা পরিষদের সংস্কার চান সালাহউদ্দিন আহমেদ

প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সংস্কার চান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার বিকেলে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, চ্যারেটি বিগেইস এট হোম (নিজের ঘর থেকে ভালো কাজ শুরু করতে হয়)। আমরা বলেছি, আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) উপদেষ্টা পরিষদ সংস্কার করুন। আপনার উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয়। এখানে দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা বসে আছে তারা একটা দলের, আরেকজন উপদেষ্টা বসেন আছে বিদেশভ্রমন করেছে ২০ বছর এবং এখন বাংলাদেশ উদ্ধার করতে এসেছেন। তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তিনি (নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান) আর কী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন জানি না, আল্লাহ মাবুদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আরও কয়েকজন ফ্যাসিবাদের দোসর আপনার উপদেষ্টার মধ্যে আছে। সংস্কার করুন… নাম বলতে চাই না…বিভ্রত হবেন। আমরা তার কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। যদি সরিষার মধ্যে ভূত রেখে আপনি সংস্কার করেন… সংস্কার হবে না।

‘জাপানের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে প্রসঙ্গে’ সালাহউদ্দিন বলেন, শুনছি আজকে নাকি একটা বক্তৃতা দিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। তিনি নিক্কেই ফোরামের আমন্ত্রণে বিদেশে গেলেন। উনি অবশ্য দেশে কম কথা বলেন। বিদেশে গেলেই সাক্ষাৎকার দেন বেশি। ওখানে উনি বলেছেন যে, মাত্র একটি মাত্র দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে। তিনি বলেছেন, যদি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হয় তাহলে নাকি খুব তাড়াহুড়ো করে সংস্কার করতে হবে এটা তার বক্তব্য। আমাদের কথা হলো, চ্যারেটি বিগিনস এট হোম। আমরা বলেছি আপনি আপনার উপদেষ্টা পরিষদে সংস্কার করুন।

‘নির্বাচনকে বিলম্বিত করবেন না’ সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সুতরাং বাকি থাকলো সংবিধান সংস্কার…মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা সংস্কারের এই সমস্ত বাহানা করে নির্বাচনকে বিলম্বিত করবেন না। জাতির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করবেন না। গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করার মত কোনো শক্তিকে সুযোগ দেবেন না।

সালাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কী হবে তা এদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রধান নায়ক জনাব তারেক রহমান এখন সেই সমস্ত কর্মসূচি অলরেডি প্রণয়ন করে ফেলেছেন প্রায়। এটাই হচ্ছে পরিকল্পনা। কিভাবে স্বাস্থ্য কার্ড দিবেন, কিভাবে একটা খাদ্যের জন্য রেশন কার্ড ভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড দিবেন, কিভাবে মেধাবীদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করবেন, কিভাবে কৃষকদেরকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব এই সমস্ত সমস্ত কর্মসূচি প্রণয়িত হয়েছে।

রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বক্তব্য রাখেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন