গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিন্দা

গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিন্দা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্মমহাসচিব ও দলের মুখপাত্র সাংবাদিক হত্যা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে বলেছেন, আসাদুজ্জামান তুহিন একজন নির্ভীক সাংবাদিক ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত, মর্মাহত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সোমবার গাজীপুর প্রেসক্লাবে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।

এই ঘটনা কেবল গাজীপুরেই না বরং সারা দেশেই প্রচণ্ড ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতের ন্যায় ৫ আগস্টের পরেও সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক ঘটনায় আমাদের অবস্থান জানানো এবং আপনাদের সাথে মতবিনিময় করার জন্য আজকের এই আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তার অসহায় পরিবারকে এভাবে উপেক্ষা করার কারণে সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমি মনে করি, সাংবাদিকদের ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে। নিহত তুহিন ও তার পরিবারকে উপেক্ষা করার মাধ্যমে সরকার ও গাজীপুর প্রশাসন সেই ভীত-সন্ত্রস্ত করার কাজে অপরাধীদের সহায়তা করেছে। কারণ সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা করে নাই। অভয় দেয়া হয় নাই। আশ্বস্তও করা হয় নাই।

আমরা দাবী জানাচ্ছি, তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। তার পরিবারের কর্মসংস্থানের ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। সার্বিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আহ্বান করবো নিহত তুহিনের পরিবার যেন ক্ষতিপূরণ পায় সেজন্য আপনারা দাবি উত্থাপন করুন। এবং ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করুন।

মা্ওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্র-প্রশাসন কিভাবে চলছে তা আমরা বুঝতে পারি না। জিএমপির কমিশনার একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি দায় স্বীকার করলেও কিছু আপত্তিকর কথা বলেছেন।

তিনি সন্ত্রাস ও ছিনতাই এর জন্য বেকরত্বকে দায়ী করে ঢালাওভাবে শ্রমিকদের দায়ী করেছেন। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। গাজীপুরে পোষাক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। এর সাথে শ্রমিকদের চাঁদাবাজিতে যুক্ত হওয়ার কোন সম্পর্ক নাই। তার এই বক্তব্য আপত্তিকর।

তিনি গাজীপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে খারাপ হয় নাই বলে মন্তব্য করেছেন। আমরা তার এই বক্তব্যকেও প্রত্যাখ্যান করছি। তার এই উদাসীনতা ও দায়িত্ব এড়ানো মনোভাব আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

জানাজার নামাজে দেয়া আমাদের আহ্বানকে আমলে নিয়ে তিনি অপরাধীদেরকে আটক করেছেন এবং গাজীপুরের জন্য আরো দুই হাজার পুলিশ চেয়েছেন। আমরা মনে করি, গাজীপুরের জনসংখ্যা ও গুরুত্ব বিবেচনায় এই দুই হাজার পুলিশ যথেষ্ট না।

সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাংবাদিকদের সাথে আছে। তারা আতঙ্ক তৈরি করার জন্য এমন নৃশংসতা করেছে। আমরা যদি আতঙ্কিত হই তাহলে ওদের উদ্দেশ্য পূর্ণ হবে। তাই নির্ভীকভাবে দায়িত্ব পালন করুন।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোন রাজনৈতিক দলকে শেল্টার দিবেন না। গাজীপুরে যে অভিযান শুরু হয়েছে তা যেন কেবল এই খুনেই সীমাবদ্ধ না থেকে সামগ্রিক অপরাধ দমনে কাজ করে সেই আহ্বান জানাবো। অপরাধীদের হাতে থাকা অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

আমরা আতঙ্কিত যে, এই অস্ত্র হয়তো আগামী নির্বাচনে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে। এই আশঙ্কা নিয়ে তো নির্বাচন করা যায় না। সেনাবাহিনী মাঠে থাকার পরেও এই ধরনের অপরাধের পরে তো আমরা আশাহত হই। তাই সকল অপরাধীদের আটক করতে হবে। এবং তাদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গাজীপুর মহানগর এর সভাপতি মুহাম্মাদ ফাইজ উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা এম এ হানিফ সরকার, সহ-সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান মিয়াজী, অধ্যক্ষ মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি মুফতী হুসাইন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক, এইচ এম সাইদুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক এইচ এম ওয়াহিদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম মণ্ডলসহ সহযোগী সংগঠনের নগর নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন