অতীতে সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগে সার্চ কমিটি করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর গোপন লিস্টে পদায়ন করা হতো বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সপ্তম দিনের আলোচনায় দুপুরের বিরতিতে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেছেন, দেশের সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের জন্য অতীতে বিভিন্ন সার্চ কমিটি গঠিত হতো। এসমস্ত কমিটি কখনোই প্রধানমন্ত্রীর অধীন ছিল না। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তির সার্চ কমিটি হতো। এতে করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল বেশি। সার্চ কমিটিও হতো, আবার প্রধানমন্ত্রী থেকে একটা গোপনে লিস্ট পাঠিয়ে দেওয়া হতো।
প্রধানমন্ত্রীর এই হস্তক্ষেপ রোধ করা প্রয়োজন উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এই কমিটির আদলে ঐকমত্য কমিশন সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে। এক্সিকিউটিভের সঙ্গে এটার কোনো রিলেশন নেই। এটা আগেও স্বাধীনভাবে কাজ করতো। কেউ কেউ এটাকে ভুল বুঝে বলতে চাচ্ছিলেন, যে এরকম একটা কমিটি থাকলে প্রধানমন্ত্রীর হাত পা বেঁধে দেয়া হবে। আসলে এর সাথে প্রধানমন্ত্রীর হাতও জড়িত নয়, পাও জড়িত নয়।
জামায়াত কমিশনের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত জানিয়ে মোহাম্মদ তাহের বলেন, আজকের আলোচনা পুরোনো, এগুলো নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এমন প্রসঙ্গে সকলে মিলে ঐক্যমতে পৌছানো প্রায় অসম্ভব। বিএনপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
ঐকমত্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, কমিশনও ইতোপূর্বে এনসিসি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এখন তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটির কথা বলছে। তাঁরা অন্তত ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা করছেন, আরো কাছাকাছি আসা যায় কিনা। আমরা মনে করি, জাতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো এটা মেনে নেবেন। না হলে আমরা আবারো স্বৈরাচারের দিকে চলে যাব।
জাতীয় সংসদের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কাঠামোর প্রস্তাবেও জামায়াতে ইসলামী একমত জানিয়ে আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমরা প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। তবে শুধু এমপিদের ভোটে যাতে উচ্চকক্ষ গঠন না হয়। উচ্চকক্ষেও যাতে জনগণের ভোটের রিফ্লেকশন থাকে। এই মতের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তত দুই তৃতীয়াংশ একমত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

