গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের সমাবেশে ফ্যাসিবাদী হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক দুর্বলতার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই দুর্বলতার জন্য অবিলম্বে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রত্যাহার করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তরগেটে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. তাহের বলেন, গোপালগঞ্জের ঘটনায় দেশের মানুষ শঙ্কিত নয়, উদ্বিগ্ন। আমরা প্রতিবাদী, সংক্ষুব্ধ। ৫ আগস্টের পর দেশে বিরাট অর্জন হয়েছে। সবার হৃদয়ে একটা প্রতিবাদী চেতনা জাগ্রত হয়েছে। এটাই আমাদের শক্তি।
তিনি বলেন, আজকে দেশে একটিই স্লোগান হওয়ার কথা-ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটি দলের মিছিল থেকে ম্লোগান আসছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জে কি জামায়াত হামলা করেছে? এ অবস্থার প্রেক্ষিতে গোপালগঞ্জের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকার পাশাপাশি আরও গভীরে যেতে হবে।
এটাকে হালকা ভাবার কারণ নেই। কারণ- হামলাকরীরা জানে, তাদের ওপর স্ট্রিম রোলার যাবে। তাই শুধু ইমোশনের ভিত্তিতে এই হামলা হয়নি। এজন্য সরকারকে এর গভীরে যেতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার আগস্টের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তারা খুব দুর্বল। তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং এ সরকারের সঙ্গে আরও কারো যোগাযোগ থাকতে পারে। যদি সরকার এটা না করে, তাহলে একটা গণতদন্ত কমিশন করার আহবান জানাচ্ছি।
ডা. তাহের বলেন, গোপালগঞ্জের ঘটনায় জামায়াত আমির কথা বলেছেন। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলে মনে হলো উনি ‘মি: অসহায়’। উনি বলেছেন, প্রশাসনের দুর্বলতা থাকলে ছাড়বেন না। এক নম্বর দুর্বলতাতো আপনার ভিতরে। শুনেছি গোপালগঞ্জের এএসপিকে প্রত্যাহার করেছেন মাত্র। আমি প্রধান উপদেষ্টাকে পরিস্কার দাবি জানাই, এই স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। উনি দায় এড়াতে পারেন না।
সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতি যখন জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্খা অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে ১৯ জুলাই ঢাকায় জামায়াতের ঐতিহাসিক জাতীয় সমাবেশের জন্য মানুষ প্রস্তুতি নিয়েছে, সেই মুহুর্তে অনুমতি নিয়ে এনসিপি সারাদেশে একটি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু নতুন গণতন্ত্র উত্তরের এই সময়ে গোপালগঞ্জের সমাবেশে হামলা একটি অশনি সংকেত।
তিনি বলেন, হামলার সময় প্রশাসনের ভূমিকা মানুষ ভিডিওতে দেখেছে। ডিসি কি করেছেন, এসপি কোথায় ছিলেন, ওই জেলায় সেনা কমান্ডারের ভূমিকা কি ছিল? জানা থাকার পরও এসব কেন হলো, এর দায়িত্ব কার, তদন্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনে কারা এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর, সরকারকে বাছাই করতে হবে। দেশবাসীর মধ্যেও যদি কোন ফ্যাসিবাদী, দিল্লির তাবেদার থাকে, তাদেরকে চিহ্নিত না করলে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা‘ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, দক্ষিণেরে নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

