আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনে আবেগ তাড়িত হয়ে কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আর যাতে কোন চরম পন্থা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ না পাই সেই বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান ও শহিদদের স্মরণে’ আয়োজিত এক স্মরণসভায় যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তরেক রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। সুতরাং আপনাদের আমাদের সকলের কোন আবেগ তাড়িত হয়ে কিংবা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আর যাতে কোন চরম পন্থা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের সুযোগ না পাই সমগ্র বাংলাদেশের মানুষকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কারো রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণের একমাত্র মাধ্যম হওয়া উচিত জনগণের রায়। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংস ঘটনা অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আমি আশা করি, তারা আরও স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকা রাখবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দলগুলো তাদের পাশে থাকবে।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের শহিদ মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন, ২০২৪ সালের শহিদরাও তেমনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৬ জুলাইয়ের পর আর শুধু কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তখন বিশ্বাস জন্মেছিল, মাফিয়া সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার। সেই বিশ্বাস থেকেই গণতান্ত্রিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। এই আন্দোলন যেন একক দলের বলে পরিচিত না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।’
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহিদরা জাতির গৌরব। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়েই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। আর তা শুরু হবে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। সেজন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে।
আলোচনা সভায় দেশে ‘গণতন্ত্রের সংকট’ দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এখানে মঈন খান বলেছেন, সংগ্রাম শেষ হয়নি। সামনে গণতন্ত্রের যে সংকট দেখা যাচ্ছে সেই সংকট থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের অনেক সজাগ-সর্তক থাকতে হবে। আজকে গণতন্ত্র উত্তরণের যে স্বপ্ন আমাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে আমাদের আরও সজাগ হয়ে আরও সতর্কতার সঙ্গে আমাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে হবে।
ফখরুল বলেন, আমার বিশ্বাস আমাদের তরুণ নেতা যিনি আজকে সমস্ত বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার হাতকে শক্তিশালী করব, বাংলাদেশের মানুষকে জাগরিত করে তুলব।
অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম মিথিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, বিএনপির জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি পালন কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভী, সদস্য সচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবু হোরায়রা, গণঅভ্যুত্থানে নিহত মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, ইমতিয়াজ আহমেদ আবির, সাজ্জাদ হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন সজলের স্বজন, গণঅভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজসহ আয়োজক কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

