ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে আ. লীগের কেন্দ্রীয় নেতা লিটনকে তুলাধুনা

ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে আ. লীগের কেন্দ্রীয় নেতা লিটনকে তুলাধুনা

একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে ঘিরে নিজ দলের নেতাকর্মীরা তুলাধুনা করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে।

জুলাই বিপ্লবের পর থেকে পলাতক ও ভারতে অবস্থানরত এই নেতা গত ৫ জুন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে স্ট্যাটাস দেন- ‘কে আছো জোয়ান হও আগুয়ান হাকিছে ভবিষ্যৎ, এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার’। এরপর থেকেই ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় তুলেন নিজ দলের নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

লিটনের স্ট্যাটাসে কমেন্ট করে আমিনুল ইসলাম শাহীন নামের এক কর্মী। তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেন, ‘প্রিয় লিডার, যারা তরী পাড়ে নিবে তাদের পেটে ভাত নাই, পরনে পোশাক নাই, পায়ে স্যান্ডেল নাই, থাকার জায়গায় টাও নাই আজ। ভাই আপনি রাজশাহী শহরের যেভাবে উন্নয়ন করছেন তার এক শত ভাগের এক ভাগ যদি নিজ দলের নেতাকর্মীদের জন্য করতেন তাহলে নেতাকর্মীরা পরিবার নিয়ে দুই বেলা ভাত খেয়ে বাঁচত আর আপনার জন্য লড়াই সংগ্রাম করে জীবন দিতে প্রস্তত থাকত কিন্তু আপনি তা করেননি ভাই। এখন নেতাকর্মীরা নিজে কি খাবে আর পরিবার কে কি খাওয়াবে! আর সবাই জানে যে পেটে ভাত না থাকলে ঈশ্বরের ইবাদাত করতেও মন চাই না তাতে তরী কি করে পাড়ে ভিড়াবে! ভাই আপনি যদি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েট, মেডিক্যাল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের চাকরি গুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের দিতেন তাহলে আপনার মহাভারত ক্ষতি হয়ে যেতো! আজ সেই সব প্রতিষ্ঠানের চাকরি গুলো জামাত বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢুকছে। ভাই আপনাদের মত ধনী নেতারা গরীব নেতাকর্মীদের দুঃখ কষ্ট কখনো বুঝেন নি আর বুঝার চেষ্টাও করবেন না কোন দিন। গরীব নেতাকর্মীরা এমপি, মন্ত্রী কিংবা মেয়র হতে চাই না তারা দুই বেলা ডাল ভাত খেয়ে আপনাদের মত নেতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়। ভাই আপনার সাথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু....... রাজশাহীর মহানগর আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা তাদের নিজ দলের নেতাকর্মীদের সাথে বেইমানি করেছে।

সেলিম জাহাঙ্গীর নামে আওয়ামী ঘরনার এক ফটোসাংবাদিক কমেন্ট করেছেন, আপনার পা‌শের এবং কা‌ছের মানুষগু‌লো সম্প‌র্কে আপনার একটা ভা‌লো এবং গবেষণামূলক ধারণা হ‌লো। পাশাপা‌শি আপ‌নি যে মানুষগু‌লো‌কে নি‌জের ম‌নে ক‌রে ভা‌লো‌বে‌সে‌ছেন তারা দি‌ব্যি ঘু‌রে বেড়া‌চ্ছে। অনেকে গির‌গি‌টির মত রং পা‌ল্টে ৩৬ জুলাই‌য়ের সু‌বিধা নি‌চ্ছে, এরা সব সরকা‌রের সময়ই সু‌বিধা নেয়। এক কথায় এরা সু‌বিধাবা‌দি। আবা‌রও আপনা‌দের সুসময় ফির‌লে এরাই আপনার আ‌শেপা‌শে স্থান ক‌রে নেবে। আস‌লে আপনারা ও এ সু‌যোগ সন্ধ‌্যানী মানুষগু‌লোর মধ্যে সমস‌্যা কার সে‌টি, গ‌বেষণার বিষয়।

এএম নিরো নামের একজন লিখেন, ঋণগ্রস্ত কোন দলের নেতারা যখন কয়েক বৎসরের ব্যবধানে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান...তাদের পেছনে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা কেন রাজপথে রক্ত ঢালবে সেই প্রশ্নের জবাব কি কারোও কাছে পাওয়া যাবে?

মনিরুজ্জামান মিলন নামে একজন লিখেন, নেতা, সফলকাম হলে কর্মীরা হয় ক্যাডার আর নিয়োগে সুপারিশ পায় মেধাবীরা জামাই কোটায়।

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন স্ত্রী ও ছোট কন্যাকে নিয়ে ৫ আগস্ট রাতে রাজশাহী ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমানো। সেই থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। এর আগে ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ চলাকালে লিটন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী হন। এছাড়া যুবলীগের গুলিতে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ আহত হন শতাধিক।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে ও রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পতনের দিনগত রাতেই দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। দেশের পরিস্থিতি ভালো না এটি আঁচ করতে পেরে আগের দিন ৪ আগস্ট লিটনের স্ত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহিন আকতার রেনীসহ ছোট মেয়েকে ভারতে পাঠিয়ে দেন।

অন্যদিকে দেশের পরিস্থিতি যখন ভালো ছিল তখন লিটনের বড় মেয়ে আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা ও তার স্বামী রেজভী আহমেদ ভূইয়া থাইল্যাণ্ডে ঘুরতে যান । এরপর থেকে তারা সেখানেই রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন