পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মধ্যে বিদ্যমান সংকট নিরসনের জন্য গত ২১ মে থেকে ৭ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন পবিস শ্রমিকরা। টানা ১৬ দিন অবস্থানের পরেও এখনও দাবি পূরণ হয়নি, তৃতীয় দিনের মতো বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব এ মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার ১৬তম দিনের মতো রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করছে পবিস শ্রমিকরা। বিদ্যুৎ সেবা নিরবচ্ছিন্ন রেখে কর্মসূচি পালিত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব তৃতীয় দিনের মতো তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ এ কথা বলেন।
হাবিবুর রহমান হাবিব আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর কোনও আঘাত আসলে সবার আগে আমাকে আঘাত করতে হবে। শহীদ মিনারে অবস্থানরত একজন কর্মীকেও আঘাত করা চলবে না তাহলে তার পাল্টা জবাব দিতে আমি প্রস্তুত।’
তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দাবি না মানলে যদি সারা দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে, তবে তার দায় আমি নিচ্ছি। আমাকে হুকুমের আসামি করেন, ফাঁসি দেন তাতেও আমি পরোয়া করি না।’
ঈদের প্রাক্কালে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনারা আরামে বাড়িতে ঈদ করবেন, অথচ বিদ্যুৎ শ্রমিকেরা রাস্তায় বসে ঈদ করবে-এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। তাদের প্রতি অবহেলা করলে কারো কোরবানি কবুল হবে না। তাদের দাবি মেনে নিন।’
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি নাসির আহমেদ শাহিন, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।
পল্লী বিদ্যুৎ আন্দোলনের পক্ষ থেকে ছিলেন, আন্দোলনের সমন্বয়ক ও এমআরসিএম সদস্য, বিপিবিএ-র লাইনম্যান গ্রেড-০২, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, লাইন টেকনিশিয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক, বিপিবিএ সভাপতি এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পল্লী বিদ্যুৎ শ্রমিকদের সাত দফা দাবি
১. পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীদের দমন-পীড়নের মাধ্যমে কর্মপরিবেশ নষ্টকারী ও ‘ফ্যাসিবাদী আচরণকারী’ আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ।
২. এক ও অভিন্ন চাকরির বিধি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরইবি-পবিস একীভূতকরণ অথবা পুনর্গঠন।
৩. মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার, লাইন শ্রমিক ও পোষ্য কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ।
৪. হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
৫. শাস্তিমূলক বদলি, বরখাস্ত ও সংযুক্তির আদেশ বাতিল এবং তাদের পদায়ন।
৬. নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নির্ধারণসহ জনবল ঘাটতি পূরণ করে শিফটিং ডিউটি কার্যকর।
৭. পূর্ণ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

