প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে টানা ১৭ বছরের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের গণজাগরণ সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী বলেন, ১৭ বছরের রক্তঝরানো সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ইতিহাস জাতি কখনো ভুলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী আরো বলেন, বাক্-স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৭ বছর ধরে আন্দোলন হয়েছে। তাঁর দাবি, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই একটি শক্তিশালী গণআন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ৫ আগস্ট, যেদিন স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের অবসান হয়। তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র ৩৬ দিনের মধ্যেই শেখ হাসিনার পতন ঘটেছিল।
রিজভী জানান, এ উপলক্ষে আগামী ৪ আগস্ট রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি)-এ বিএনপির উদ্যোগে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সভাপতিত্ব করবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
হবিগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সভ্য ভাষা ব্যবহার করা উচিত। তিনি বলেন, উসকানিমূলক বক্তব্য, অশ্রাব্য ভাষা ও মিথ্যা অপপ্রচার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়। পারস্পরিক আলোচনা, সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক যেন কোনোভাবেই সংঘাতে রূপ না নেয়, সে জন্য সবাইকে সহনশীল ও সহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


