বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মানিকগঞ্জের ঘিওরের শতবর্ষী নৌকার হাট। প্রতি বুধবার এ হাটে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
বর্ষার পানিতে যখন নদ-নদী আর খাল-বিল ভরে ওঠে, তখনই বাড়তে থাকে নৌকার চাহিদা। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের মানুষ তাদের কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য নৌকার চাহিদা ব্যাপক। চাহিদা মোতাবেক নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘিওরের নৌকার কারিগররা।
সকালের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট যানবাহন ও নৌকায় করে হাটে আসতে থাকে বিভিন্ন আকারের ডিঙ্গি নৌকা। সঙ্গে থাকেন কাঠমিস্ত্রি ও বিক্রেতারা। ক্রেতারা নৌকার মান ও আকার দেখে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন ।
বিক্রেতারা জানান, নৌকা তৈরির কাঁচামাল—বিশেষ করে কাঠ, লোহা ও অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে দক্ষ কারিগরদের মজুরিও। তাই আগের তুলনায় নৌকার দাম কিছুটা বেশি। বর্তমানে নৌকার আকার ও মানভেদে প্রতিটি ডিঙ্গি নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায়।
ঘিওর উপজেলার মাচাইনের সোরহাব ব্যাপারি বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার দাম বেড়ে যায়। এখানে বিভিন্ন ধরনের নৌকা বিক্রি হয়। কাঠের, স্টিলের ছোট বড় নানা ধরনের নৌকা বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে বিক্রি হচ্ছে।
দৌলতপুর থেকে হাটে নৌকা কিনতে এসেছেন শাহজাহান মিয়া। তিনি বলেন, নৌকা ছাড়া চলা যায় না। এবার নৌকার দাম একটু বেশি। গত হাটের তুলনায় এই হাটে দাম বেশি চাচ্ছে ব্যবসায়িরা।
নৌকার বৈঠা ব্যবসায়ী অজয় সুত্রধর বলেন, প্রতি বুধবার এই হাটে প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার নৌকা কেনাবেচা হয়।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন, ঘিওরে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট এটি। সপ্তাহে প্রতি বুধবার বসে। হাটে অনেক ধরনের নৌকা ওঠে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

