বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেছেন, বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিলে ঘোষিত বাজেট জনগণ তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী যতগুলো বাজেট ঘোষণা হয়েছে, সবগুলো গরিব মারার বাজেট ছিল। বরাবরের মতো এবারও গরিব মারার বাজেট ঘোষণার আলামত ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়াতে যাচ্ছে সরকারদলীয় ব্যবসায়ীরা, সেসব পণ্য এখন থেকেই মজুত করতে শুরু করেছে। ফলে বাজেট পাস হওয়ার আগেই বাজেটের প্রভাব জনগণের ওপর পড়তে শুরু করেছে।
বুধবার রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের ওয়ারী পশ্চিম থানা আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও ইউনিট দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গে আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ইসলামী ব্যাংকে জনগণের আমানত আর কোনো ব্যাংক লুটেরাকে লুট করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আগে যারা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চড়ে ইসলামী ব্যাংক দখল করে ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের মাধ্যমে পাচার করেছে, তারাই এখন বিএনপির ঘাড়ে চড়ে ইসলামী ব্যাংক দখলের চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক দখলকারীদের সহযোগিতা করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজ নয়। যেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি, সীমান্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কর্তৃক পুশইন; সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিরি উন্নতি না করে, সীমান্তের দিকে মনোযোগ না দিয়ে ব্যাংক দখলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। আব্দুস সবুর ফকির সরকারের উদ্দেশে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের তৈরি ইসলামী ব্যাংক দখল না দিয়ে জাতীয়তাবাদ নামে একটি নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সেই ব্যাংকে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের চাকরি দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন।
আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতকারীরা টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছেন—এই দায় জামায়াতে ইসলামীর নয়, বরং এই দায় সরকারের। কারণ সরকার জনগণের আমানতের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পরিবর্তে ব্যাংক লুটেরা এস আলমের সহযোগী খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করেছে। আমানতকারীরা মনে করেন, খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসলে জনগণের আমানত আবারও লুট হয়ে যাবে। তাই সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল করে জনগণের আমানতের নিারপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করা।
জাকাতের চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম বলা বিএনপি থেকে শিখতে হবে ইসলাম কী—প্রশ্ন রেখে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন মদিনার ইসলামে দেশ পরিচালনা করবেন। কিন্তু মদিনার ইসলামে কোথায় চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী আছে, সালাহউদ্দিন আহমেদকে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে তিনি আহ্বান জানান।
ওয়ারী পশ্চিম থানা আমির ফারুক হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং থানা সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশের শুরুতে দারসুল কুরআন পেশ করেন তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার প্রধান ফকীহ মুফতি মাওলানা মহিউদ্দিন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, আব্দুল লতিফ, কাজী নুরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

