প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের বাসায় গিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা দেখতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর কমপক্ষে এই ওয়াদাটা শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এটি যদি বাস্তবায়ন হয় সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হবে ও তার জন্য দোয়া করবে। আমরাও তার জন্য দোয়া করতে চাই, দেখতে চাই ১৫ দিনে এই বিচার সম্পন্ন হবে।
জামায়াত আমির আরো বলেন, আমি পারসোনালি বিশ্বাস করি- যদি বিচার বিভাগ সঠিকভাবে এবং সিরিয়াসলি কাজ করে, তাহলে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে অন্তত বিচারিক আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
তিনি সোমবার পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার শোকাহত ও অসুস্থ বাবাকে দেখার পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় রামিসার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৯ তারিখের এ ঘটনার দিবাগত রাতেই আমি পবিত্র হজের সফর শুরু করি।
হাতে সময় না থাকায় সেদিন এই বিষণ্ন পরিবার দুঃখী পরিবারের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যে কারণে আমার সহকর্মীরা তাদের পাশে দাঁড়ান। ইতোমধ্যে এই পাশবিক বা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের দল সোচ্চার প্রতিবাদ-মিছিল করে বিচারের দাবি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু এই নরপশুর বিচার সম্পন্ন হওয়া নয়, বিচারের পর শাস্তি বাস্তবায়নের দাবিতেই আমরা কর্মসূচি করেছি। আমাদের দাবি একেবারে স্পষ্ট- যারা এইভাবে আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী এবং হত্যাকারী এদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই হল-দুষ্কৃতিকারীদের সহযোগিতা করা।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন-প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা অনুযায়ী ১৫ কর্মদিবসে এই ঘটনার বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায়কে কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে হবে। আমি অনুরোধ করব- আত্মস্বীকৃত এই ধরনের বদমাইশদের পক্ষে কোন আইনজীবী যেন আদালতে না যায়। এটা নিয়ে কেউ যেন কোন রাজনীতি না করে, এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই।
তিনি আরো বলেন, এই মেয়ের বিচার সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়ে রায় কার্যকর না হলে সে আমাদের ক্ষমা করবে না।
হাশরের দিন আমরা সবাই আসামি হতে চাই না। যার বুকের ধন হারিয়ে গেছে, সেই বুঝবে কোন জিনিস সে হারিয়েছে। এজন্য বুকের ব্যথা নিয়ে রামিসার পিতা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জামায়াত আমির বলেন, রামিসার পিতা আক্ষেপ করলে আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি। তার মেয়ের জন্য সারা দুনিয়ার মানুষ চোখের পানি ফেলছে। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত দান করেন। একইসঙ্গে তার বাবা-মা ও বড় বোনের সুস্থতা এবং ধৈর্য্যধারণের তৌফিক দান করেন।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, সংসদে আমার ওপর একটা দায়িত্ব আছে- সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করা এবং সমাজে ও সরকারে অন্যায় কিছু হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আমাদের এই লড়াই চলবে এবং আমি বিশ্বাস করি এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মানবতার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন-দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

