রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে বিরোধী দল। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়।
রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টোরোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই ঘোষণা দেন। এর আগে শনিবার রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও আলোচনা হয়। পরে রোববার ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে সেটি চূড়ান্ত হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে আমরা এটাকে (রাষ্ট্রপতি নির্বাচন) আমাদের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছি। আমরা মনে করি- সর্বক্ষেত্রে রাজনীতি স্বচ্ছ হওয়া উচিত, প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত। তাহলে গণতন্ত্রের গতি ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে দেশের কল্যাণের জন্য আমাদের বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যক্তিকে এ দেশের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। তিনি দোয়া কামনা করে বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি কাজ যেন জাতির জন্য হয়, জাতির কল্যাণের জন্য হয়। আমরা এই ব্যাপারে ইনশাল্লাহ কোনো আপস করবো না। আমরা সবার সহযোগিতা চাই।
প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল-সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করবে। তাহলে সংস্কারকৃত সংবিধানের মাধ্যমে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারব।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে এবং তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়নের কোনো কিছু কোনো ধারাতেই নেই, সংস্কার পরিষদের শপথ তারা নেয়নি, অধিবেশন ডাকেনি এবং নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করছে। এই সরকারও আসলে পূর্ব স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।
তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও বিএনপির একদলীয় ও সংস্কারবিরোধী আচরণের কারণে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী দেয়ার সুযোগটা সম্ভব হলো না। এটি দেশের মানুষ দেখছে। জনগণই এর বিচার করবে।
এ সময় প্রার্থী ঘোষণা করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কর্নেল অলি আহমদ। তিনি বলেন, সবাই মনে করেছে আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং পরীক্ষিত একজন লোক যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নাই, শিক্ষাগত যোগ্যতারও কোনো অভিযোগ নাই, বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। আমরা জাতিকে বলতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই জাতির সঙ্গে কখনো বেইমানি করবো না ইনশাল্লাহ। মানুষের জন্য যেটা ভালো আমরা হারবো বা জিতবো এটা প্রশ্ন না; প্রশ্নটা হচ্ছে আমরা জনগণের পাশে সবসময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াবো।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে আমরা প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য একজন ব্যক্তিকে আমরা মনোনয়ন দিতে পেরেছি। আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বর্তমান বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক যে চ্যালেঞ্জ, যেই আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের চলমান লড়াই—জুলাই বিপ্লবের যে চেতনা, ৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত-এই চেতনার একজন অখণ্ড, বলিষ্ঠ ধারক ও যোদ্ধাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রার্থী নির্বাচন করেছি।।
১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন-১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বিডিপি মহাসচিব নিজামুল হক নাইম, জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


