আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হাজিদের কুরবানির বিধান

ইসলাম ডেস্ক

হাজিদের কুরবানির বিধান
প্রতীকী ছবি

প্রশ্ন : আমরা যারা হজে যাচ্ছি, আমরা তো হজে পশু কোরবানি করব, আমাদের নিজ দেশেও কি কোরবানি করতে হবে? এ ক্ষেত্রে অনেক অনেক কথা বলে থাকেন, সঠিক বিষয়টি দয়া করে জানাবেন।

উত্তর : কোরবানি মূলত দুই প্রকার- দমে শুকুর বা হজের কোরবানি ও ঈদুল আজহার কোরবানি। হাজিরা এ বিষয়টি না জানার কারণে শুধু একটি কোরবানি (দমে শুকুর বা হজের কোরবানি) করে থাকেন। আর ঈদুল আজহার কোরবানি করেন না। অথচ কোনো কোনো হাজির ওপর ঈদুল আজহার কোরবানিও ওয়াজিব।

বিজ্ঞাপন

এক. হজের কোরবানি বা দমে শুকর

যেসব হাজি কিরান ও তামাত্তু হজ (অর্থাৎ একই সফরে ওমরাহ ও হজ) পালনের মাধ্যমে দুটি ইবাদত করে থাকেন। তাদের জন্য শুকরিয়াস্বরূপ একটি কোরবানি করা ওয়াজিব। এ কোরবানিকে ‘দমে শুকর বা হজের কোরবানি’ বলা হয়। এটি ঈদুল আজহার কোরবানির অন্তর্ভুক্ত নয়।

দুই. ঈদুল আজহার কোরবানি

যেসব হাজি মুকিম হয়ে যাবেন, তথা মক্কা মোকাররামা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় কোরবানির দিনগুলোসহ ১৫ দিন অথবা তার চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করবেন, তারা মুকিম বলে গণ্য হবেন। তাদের ওপর ঈদুল আজহার কোরবানিও ওয়াজিব হবে। ফলে তাদের দুটি কোরবানি করতে হবে। একটি দমে শুকর বা হজের কোরবানি, অন্যটি হচ্ছে ঈদুল আজহার কোরবানি।

তিন. কোরবানির স্থান

দমে শুকর বা হজের কোরবানি হেরেমের সীমানার ভেতরেই করতে হবে, অন্যত্র করার কোনো সুযোগ নেই। আর ঈদুল আজহার কোরবানি যেকোনো স্থানেই করতে পারবেন। ইচ্ছা হলে নিজ দেশেও করাতে পারবেন।

মুসাফির হাজিদের বিধান

পক্ষান্তরে যদি মক্কা মোকাররামা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় হজের দিনগুলোসহ ১৫ দিন অবস্থান না হয়, তাহলে ওই হাজি মুসাফির বলে গণ্য হবেন। আর মুসাফিরের ওপর ঈদুল আজহার কোরবানি ওয়াজিব নয়। তাই ওই মুসাফির হাজির ওপর দমে শুকর বা হজের কোরবানি করাই যথেষ্ট। ঈদুল আজহার কোরবানি তার ওপর আবশ্যক হবে না। তবে ইচ্ছে করলে তিনি নফল হিসেবে কোরবানি করাতে পারেন। (সহিহ মুসলিম ১/৪২১, ফতোয়ায়ে আলমগীরী ৯/২৯৪)

উত্তর দিয়েছেন

মুফতি জুবায়ের বিন আব্দুল কুদ্দুস

শিক্ষক, লালবাগ মাদরাসা, ঢাকা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...