টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না বাংলাদেশ। আরব আমিরাতের কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের পর পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে লিটন দাসের দল। সবশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে ধবলধোলাই নিয়ে চলছে আলোচনা, কী কারণে এই হার? কারণ অনেকগুলো। তবে মূল কারণ পাঁচটি।
মিডল অর্ডারে ব্যাটিং ধস
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচই বাংলাদেশ খেলেছে লাহোরে। তিন ম্যাচেই গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের পিচ ছিল ব্যাটিং সহায়ক। তবে সেটার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ব্যাটিংই ডুবিয়েছে দলকে। তাওহিদ হৃদয়, শেখ মাহেদি, শামীম হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ; ঘুরেফিরে সবাই ব্যর্থ হয়েছেন। হৃদয়ের রান তিন ম্যাচে ৪৭, মাহেদি এক ম্যাচে করেছেন ২ রান, শামীম তিন ম্যাচে করেছেন ১৯ রান ও মিরাজ দুই ম্যাচে করেছেন ২৪ রান।
দুর্বল বোলিং
উইকেট ছিল ব্যাটিং সহায়ক। তবু বোলারদের দায় কম নয়। ভালো শুরু করেও তারা রিদম ধরে রাখতে পারেননি। তিন ম্যাচেই খেলেছেন তানজিম হাসান, হাসান মাহমুদ, রিশাদ হোসেন। তিন ম্যাচে তানজিম নিয়েছেন ৪ উইকেট, হাসান ৩টি এবং যাকে নিয়ে আশা ছিল সেই রিশাদ মোটে ২টি। সিরিজে পাকিস্তানের ৩০ উইকেটের মধ্যে ১৬ উইকেট নিতে পেরেছেন বোলাররা। অর্থাৎ ম্যাচের হিসাবে গড়ে দুই ম্যাচেও অলআউট করতে পারেননি। এটাও সিরিজ হারের বড় কারণ।
দুর্বল ফিল্ডিং
পুরো সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যর্থতার নাম ফিল্ডিং। আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজ থেকে শুরু। সেই ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের বিপক্ষেও বজায় রাখলেন ফিল্ডাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে শুরুতেই আউট হতে পারতেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্কোরার সাহিবজাদা ফারহান (৭৪ রান)। মিরাজের বল উড়িয়ে মারেন এই ব্যাটার। বল উঠে যায় আকাশে। পয়েন্ট থেকে দৌড়ে কাভারের দিকে গিয়ে ঝাঁপিয়ে বল নাগালে পেলেও মিস করেছেন তানজিম! পুরো সিরিজেই ছিল এরকম ক্যাচ মিস আর উদাসীন ফিল্ডিংয়ের ছড়াছড়ি।
গতিহীন ব্যাটিং অর্ডার
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ পরাজয়ের পেছনে ব্যাটিং অর্ডারের গতিহীনতাও কম দায়ী নয়। কোনো ব্যাটার আউট হওয়ার পর নতুনজন এসে গতি ধরে রাখতে পারেননি। তাতে রানরেট কমে যাওয়ার পাশাপাশি উইকেট পতনের মিছিলও ভারী হয়েছে। তিন ম্যাচেই ওপেনিংয়ে দারুণ ব্যাটিং করেছেন তানজিদ হাসান। তবে তার আউটের পর কেউ সেভাবে দলকে টেনে নিতে পারেননি। তিন ম্যাচে তানজিদের ইনিংস ছিল ৪২, ৩৩ ও ৩১। তিন ইনিংসেই ঝোড়ো গতিতে রান করে দিয়ে গেছেন। তার রেখে যাওয়া রানরেট পরের ব্যাটাররা অনুসরণ করতে না পারায় স্কোর বড় হয়নি। আবার কেউ একজন আউট হলে তার পথ ধরেছেন বাকিরাও। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৪ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর ৭৭ রানে ৭ উইকেট হারানো তারই প্রমাণ। বাংলাদেশকে ব্যাটিং শেখাবে কে?
নিষ্প্রভ অধিনায়ক
‘ক্যাপ্টেনস নক’ বলতে একটা কথা আছে ক্রিকেটে। অধিনায়কই হয়ে ওঠেন দলের কান্ডারি। এই কথা লিটনের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা নিজের রান খরা এখনো কাটাতে পারেননি লিটন। ম্যাচের পর ম্যাচ হেরেছেন, একের পর এক ডান হাত-বাম হাত-অজুহাত দাঁড় করিয়েছেন। নিজের ব্যাটিংটাই কেবল ঠিক করতে পারেননি। যার প্রমাণ সবশেষ ৩০ টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তার ফিফটি মাত্র ১টি! অধিনায়ক হিসেবে ব্যাটিং গড় ১৫.৮০! লিটনের মাঠের অধিনায়কত্বও প্রশ্নবাণে বিদ্ধ। ১০ ম্যাচের মধ্যে জিতেছেন শুধু ৪টি। সব মিলিয়ে নিষ্প্রভ লিটনের মতোই নিষ্প্রভ বাংলাদেশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

