আইসিসির মেগা ইভেন্টে আফগানিস্তানের অভিষেক ম্যাচ মানেই হতাশার গল্প। ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ধরাশায়ী হয়েছিল আফগানরা। পরে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেও ফল সেই একই। বদলে যায় শুধু প্রতিপক্ষ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি হেরে যায় বাংলাদেশের কাছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অভিষেকেও ভাগ্য বদলাল না হাশমাতুল্লাহ শহীদিদের। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারল তারা ১০৭ রানে। ৩১৬ রানের বিশাল স্কোর ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০৮ তুলতেই গুটিয়ে যায় আফগানরা।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপের ধ্বংসাস্তূপের মাঝে আশার আলো হয়ে জ্বলেছেন কেবল রহমত শাহ। ৯২ বলে ৯ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৯০ রানের চমৎকার এক ইনিংস ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার সেঞ্চুরি মিসের সঙ্গে অভিষেক ম্যাচে আফগানদের চিত্রনাট্য পাল্টাল না।
শুরুতেই ব্যাট হাতে ঝলক দেখান রায়ান রিকেলটন (১০৩)। দুরন্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি হাঁকান তিনি। তার সঙ্গে ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে ফিফটি হাঁকান টেম্বা বাভুমা (৫৮), রসি ফর ডার ডুসেন (৫২) ও এইডেন মার্করাম (৫২*)। চার ব্যাটারের দৃঢ়তায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩১৫ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দাপুটে ব্যাটিংয়ের ছন্দটা ধরে রেখে ওপেনার রিকেলটন ছুঁয়ে ফেলেন জাদুকরী তিন অঙ্ক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। ১০৬ বলে ৭ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১০৩ রান নিয়ে রান আউটের শিকার হন রিকেলটন। ব্যাট হাতে আফগান বোলারদের শাসন করার দিনে ৫২ রান নিয়ে উইকেট থেকে বিদায় নেন রসি ফন ডার ডুসেন। এইডেন মার্করাম অপরাজিত থেকে যান ৫২* রানে। তার আগে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা দলীয় স্কোরে ৫৮ রান যোগ করে ফিরে যান সাজঘরে।আফগানদের হয়ে দুটি উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নবী। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ফজলহক ফারুকী ও আজমাতুল্লাহ ওমরজাই।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে টসে হেরে যায় আফগানিস্তান। প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা টস জিতে তাদের ফিল্ডিংয়ে পাঠান। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে ছিলেন না হেইনরিখ ক্লাসেন। বাঁ-হাতের কনুইয়ের সফট টিস্যুর চোটের জন্য খেলতে পারেননি তারকা এ মারকুটে ব্যাটার। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্রামে রাখা হয় তাকে। ক্লাসেনের বদলি হিসেবে খেলেন ট্রিস্টান স্টাবস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা : ৩১৫/৬, ৫০ (রিকেলটন ১০৩, বাভুমা ৫৮, ডুসেন ৫২ ও মার্করাম ৫২*; নবি ২/৫১, ওমরজাই ১/৩৯ ও ফারুকি ১/৫৯)।
আফগানিস্তান : ২০৮/১০, ৪৩.৩ ওভার (রহমত ৯০, ওমরজাই ১৮, রশিদ ১৮; রাবাদা ৩/৩৬, মুল্ডার ২/৩৬ ও এনগিডি ২/৫৬)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১০৭ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: রায়ান রিকেলটন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

