২৫ মার্চ ভারত ম্যাচের জন্য চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হচ্ছেন দেওয়ান হামজা চৌধুরী। গত বৃহস্পতিবার দলের সঙ্গে ভারতে পৌঁছানোর পর বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা এই ফুটবলার। গতকাল শিলংয়ে সতীর্থদের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করার পর বিকালে অনুশীলনে নেমে পড়েন হামজা। মূলত তাকে ঘিরেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। শিলংয়ে যাওয়ার পর হামজাকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ ভারতীয়দের মধ্যেও। কেননা আন্তর্জাতিক ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের হয়ে ‘হাইয়েস্ট প্রোফাইল ফুটবলার’ হিসেবে খেলবেন হামজা। এই ফুটবলারকে নিয়ে কথা বললেন দীর্ঘমেয়াদে বসুন্ধরা কিংসের প্রধান কোচ এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অস্কার ব্রুজেনও। এই স্প্যানিশ কোচের মতে, বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হলেন হামজা। অবশ্য ব্রুজেন এ কথাও বলেছেন যে, একজন খেলোয়াড় সবকিছু পুরোপুরি বদলে দিতে পারবেন না। তবে হামজার অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের আশা বেড়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবলের নাড়ি-নক্ষত্র বেশ ভালো করে জানা অস্কার ব্রুজেনের। ২০২১ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এই স্প্যানিশ। তার অধীনে বসুন্ধরা কিংস দেশের ফুটবলে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে। বর্তমানে ভারতের ক্লাব ইস্ট বেঙ্গলের কোচ ব্রুজেন। ভারত ম্যাচের জন্য হামজার বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে এই কোচ বলেন, ‘যখন প্রিমিয়ার লিগে একজন খেলোয়াড় আপনার থাকবে, দলের মান বাড়বে এবং তাকে ঘিরে ফুটবলাররা অনুপ্রাণিত হয়ে সেরাটা দেবে। বাংলাদেশের জন্য মনস্তাত্ত্বিক সুবিধাটাই বেশি।’ বাংলাদেশে পাঁচ বছর কাটিয়ে যাওয়া অস্কার ব্রুজেন আরো বলেন, ‘শারীরিকভাবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা শক্তিশালী। তবে মাঝখানে তাদের কিছুটা সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে। হামজা সেন্টার ব্যাক অথবা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে খেলতে পারেন। তবে আমি মনে করি, তাকে তারা সামনের দিকে খেলানোর চেষ্টা করবেন। সেখানে খেলার কিছুটা ধরনের পরিবর্তন হবে। নিশ্চয়ই- সে অন্য পর্যায়ের। তবে মাঠে তার সঙ্গে প্রত্যেককে মানিয়ে নিতে হবে এবং সমন্বয় করতে হবে।’
হামজাকে ঘিরে দারুণ উজ্জীবিত বাংলাদেশ। স্প্যানিশ কোচ ব্রুজেন বলেন, ‘হামজা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক হবে। তাকে ঘিরে উন্মাদনা অবিশ্বাস্য রকমের। আমি মনে করি, মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন কিছু হবে না। কেননা বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন টেকটিক্যালি ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তারিক কাজীর কথা। সে তরুণ ও প্রতিভাবান ডিফেন্ডার।’ এএফসি এশিয়ান কাপে গ্রুপে চার দলের মধ্যে ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে। ১৮৫তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। তবে হামজাকে ঘিরে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব উতরানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। হামজা যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছেন, এমনটা দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানের ফুটবলেও। গত দুই দশকের মধ্যে ব্রিটিশ এশিয়ান একমাত্র ফুটবলার হিসেবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার রেকর্ড ছিল শুধু পাকিস্তানের জেশ রেহমানের। ২০০৩ সালে প্রথম ব্রিটিশ এশিয়ান হিসেবে ইংলিশ লিগের ক্লাব ফুলহ্যামে খেলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার। ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও খেলেন রেহমান। ২০০৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তান দলেও অভিষেক হয় তার। দলের অধিনায়কও করা হয় তাকে। পাকিস্তানের হয়ে ২২টি ম্যাচ খেলেন রেহমান। অবশ্য তাকে ঘিরে তখন যে মাতামাতি হয়েছিল পাকিস্তানে, এর চেয়ে অনেকগুণ বেশি হচ্ছে হামজাকে ঘিরে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া তো হামজাকে বাংলাদেশের মেসি বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ভারত দলের কোচও বাংলাদেশের এই ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলারের প্রশংসা করেন। চারদিক থেকে যে প্রশংসার বৃষ্টিতে সিক্ত হচ্ছেন হামজা, সেটি মাঠের খেলায় তিনি প্রমাণ দিতে পারলেই হলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

