টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার দামামা। ১২০ বলের ইনিংসে দলগুলো হরহামেশাই রান ২০০ ওপরে নিচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই জায়গাটাতে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। রান ১৫০ ওপরে নিতেই গলদঘর্ম অবস্থা দাঁড়ায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্বের প্রথম স্বীকৃত পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের দ্বারস্থ হয়েছে বিসিবি। উড এর আগে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করেছেন। চার-ছক্কার টি-টোয়েন্টিতে কীভাবে বাড়তি রান করা যাবে সেটাই শেখাচ্ছেন। দেশের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এই পাওয়ার হিটিং।
পাওয়ার হিটিংয়ের বেসিক তৈরি করা হয়েছে মূলত ক্রিকেটের সাধারণ বেসিক নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে। তবে বেসবলের হিটিংয়ের সঙ্গে পাওয়ার হিটিংয়ে রয়েছে অনেকটা মিল। যেহেতু ক্রিকেটে এই পাওয়ার হিটিংয়ের উদ্ভব বেসবল থেকেই। তবে ক্রিকেটে ব্যাটাররা বেসবলের মতো একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় সব সময় বল পায় না। উইকেট অনুযায়ী বলের উচ্চতায় থাকে পার্থক্য। তাই পাওয়ার হিটিং কখন কাজে লাগাতে হবে, সে বিষয়ে ক্রিকেটারদের আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। ক্রিকেটের সাধারণ বেসিকের সঙ্গে মিলিয়ে যেহেতু পাওয়ার হিটিংয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে, তাই ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এমনটাই মনে করেন জুলিয়ান উডের কাছ থেকে তালিম নেওয়া কোচরা। পাওয়ার হিটিংয়ে ব্যাটারদের ব্যাটিং স্ট্যান্সে খানিকটা পরিবর্তন হয়। মানসিকভাবে ক্রিকেটাররা পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারলে ব্যাটিং স্ট্যান্সে পরিবর্তন এনেও সফল হতে পারবেন বলে জানান তারা।
ক্রিকেটপাড়ায় কান পাতলেই শোনা যায়, ক্যারিবিয়ানরা বড় বড় ছক্কা হাঁকাতে পারে তাদের পেশিশক্তির কারণে। তবে ভারতীয় কিংবা অন্য দেশের ক্রিকেটাররাও বড় বড় ছক্কা হাঁকিয়ে প্রমাণ করেছেন বাড়তি পেশিশক্তি মানেই ছক্কা হাঁকানোর জন্য বাড়তি সুবিধা নয়। বরং, পেশিশক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও বেশ ভালোভাবে জানতে হবে। জুলিয়ান উড জাতীয় দলের সঙ্গে ওই টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়েই কাজ করছেন। তার তৈরি করা প্রো ভেলোসিটি ব্যাট দিয়ে ক্রিকেটাররা পাওয়ার হিটিংয়ের তালিম নিচ্ছেন ক্রিকেটাররা। উডের তৈরি করা এই প্রো ভেলোসিটি ব্যাট কীভাবে কাজ করে সেই ব্যাখ্যায় এক কোচ বলেন, ‘এই ব্যাটের নিচের দিকের অংশটা বেশ ভারী। এই ব্যাটে কিছু যন্ত্রাংশ লাগানো আছে, তাতে অনুশীলন করার সময় বোঝা যায় ক্রিকেটাররা কত জোরে এবং কীভাবে শট খেলছে।’ তিনি জানান, এই ভারী ব্যাট দিয়ে অনুশীলন করায় ক্রিকেটারদের পেশিশক্তি আপনাআপনিই খানিকটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ম্যাচ চলাকালে ক্রিকেটাররা নিজেদের হালকা ব্যাট দিয়ে সহজে বড় শট খেলতে পারবেন।
তবে এই পাওয়ার হিটিংয়ে যেহেতু ব্যাটিং স্ট্যান্সে খানিকটা পরিবর্তন করতে হয়, সে কারণে ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়াটাও জরুরি। এ বিষয়ে উডের ক্লাস করা এক কোচ বলেন, ‘ব্যাপারটা পুরোপুরি বায়োলজিক্যাল। ব্যাটিং করার সময় ক্রিকেটাররা বল অনুযায়ী স্ট্যান্সে পরিবর্তন আনে। পাওয়ার হিটিং করার সময়ও সেই স্ট্যান্সে পরিবর্তন আনতে হবে। পাওয়ার হিটিং করার সময় ব্যাটের জন্য কতটুকু জায়গা লাগবে কিংবা পায়ের পজিশন ঠিক রাখতে কতটুকু জায়গা লাগবে- এটা আগে থেকেই মনে মনে ঠিক করে নিতে হবে। নার্ভ ঠিক রেখে পাওয়ার হিটিংয়ের এই কাজটা করতে হবে।’
এছাড়া ব্যাটারের টাইমিং ও ব্যাট সুইং কতটুকু করতে হবে সেটা নিয়েও ক্রিকেটারদের থাকতে হবে একদম নিখুঁত ধারণা। পাওয়ার হিটিংয়ের টেকনিক আয়ত্তে নিতে পর্যাপ্ত অনুশীলন করাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন উডের ক্লাস করা বিসিবির কোচেরা। পাওয়ার হিটিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হাতের ব্যবহার। বলের উচ্চতা বুঝে ব্যাটাররা আপার হ্যান্ড কিংবা লোয়ার হ্যান্ডে শট খেলেন। এই জায়গাতেও খানিকটা পরিবর্তন আনতে হবে ক্রিকেটারদের। সব মিলিয়ে জুলিয়ান উডের ক্লাসে ক্রিকেটাররা যা শিখছেন তা পুরোপুরি আয়ত্তে নেওয়াটাই এখন জরুরি। বিশেষ করে বলের উচ্চতা ও ধরন বুঝে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
জুলিয়ান উডের ক্লাস চলাকালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। সিলেটে ওই সিরিজে বাংলাদেশি ব্যাটাররা পাওয়ার হিটিংয়ে কতটা সাবলীল হতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাওয়ার হিটিংয়ে দল কতটুকু মানিয়ে নিতে পারছে সেটা বোঝা যাবে এই নেদারল্যান্ডস সিরিজে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

