২৭ বছরে আট আসরের হিসাব-নিকাশ

২৭ বছরে আট আসরের হিসাব-নিকাশ

শুরুটা হয়েছিল ঢাকায়। ১৯৯৮ সালে। সেই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মাঠে ছিল না। দায়িত্ব ছিল কেবল আয়োজক হিসেবে। প্রথম আসরের নাম ছিল মিনি বিশ্বকাপ। পরে সেই নাম বদলে হলো আইসিসি নকআউট টুর্নামেন্ট। সেই নামও বদলে গেল। এখন এই টুর্নামেন্ট পরিচিতি পাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হিসেবে। ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল এতে অংশ নেয়। দুই বছর পরপর এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও আইসিসি সেই সূচি ঠিক রাখতে পারেনি। র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে এবার সেই এই টুর্নামেন্টে নেই। আর এবার প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে আফগানিস্তান। পেছনের ২৭ বছরে আট আসরে বিভিন্ন দলের পারফরমেন্স কেমন ছিল সেটাই থাকছে এই রিপোর্টে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

১৯৯৮ সালে টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে ক্রিকেট ছড়িয়ে দিতে নকআউট টুর্নামেন্ট নামে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। সেটিই এখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নামে পরিচিত। প্রথম আসরের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ থাকলেও সেবার ওই টুর্নামেন্টে খেলা হয়নি লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অভিষেক ২০০০ সালে। সেবার কোনো ম্যাচ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। পরে ২০০২, ২০০৪ ও ২০০৬ সালে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম চার আসরে বাংলাদেশ প্রথম জয় পায় ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারায় ১০১ রানের বিশাল ব্যবধানে। আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৭-এ থাকতে না পারায় ২০০৯ ও ২০১৩ আসরে টুর্নামেন্টটিতে বাংলাদেশের খেলা হয়নি। পরে ২০১৭ সালে ফের সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। সেবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছিল। এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ১২ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মোটে ২ ম্যাচে।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-১২

জয়-২

হার-৯

নো রেজাল্ট-১

ভারত

যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল দল ভারত। এখন পর্যন্ত দুবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলেছে দলটি। তাদের বিরোধিতার কারণে আয়োজক পাকিস্তান হওয়ার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বেশ কয়েকটি ম্যাচ আয়োজন করছে আইসিসি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন শুরু করবে তারা। ১৯৯৮ সাল থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রতিটি আসরে খেলা ভারত খেলেছে ২৯ ম্যাচ। তাদের পাশে ১৮ জয়ের পাশে আছে ৮ হার। ৩ ম্যাচে আসেনি কোনো ফলাফল।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-২৯

জয়-১৮

হার-৮

নো রেজাল্ট-৩

পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বর্তমান শিরোপাধারী পাকিস্তান এবার টুর্নামেন্টের আয়োজক দল। ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামবে দলটি। গ্রুপসঙ্গী ভারতের মতো তারাও এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবগুলো আসরে খেলেছে। এই টুর্নামেন্টের ৮ আসরে দলটি ২৩ ম্যাচে পেয়েছে ১১ জয় ও ১২ হার। আয়োজক হয়েও দলটির সবগুলো ম্যাচ ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ হচ্ছে না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি। বাকি ম্যাচগুলো ঘরের মাঠেই খেলবে পাকিস্তান।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-২৩

জয়-১১

হার-১২

নিউজিল্যান্ড

কখনো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা ঘরে তুলতে না পারায় নিউজিল্যান্ড বরাবরই থাকে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট। এবারও একই খেতাব নিয়ে মাঠে নামবে দলটি। গত আসরে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যায় দলটি। এবার তেমন কিছু হোক এমনটা চাইবে না কিউইরা। গ্রুপ ‘এ’তে থাকা ভারত-পাকিস্তানের মতো নিউজিল্যান্ডও খেলেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ৮ আসরে। এ সময় ২৪ ম্যাচে ১২ জয়ের পাশাপাশি পেয়েছে ১০ হারের স্বাদ। দুই ম্যাচে আসেনি কোনো ফল।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-২৪

জয়-১২

হার-১০

নো রেজাল্ট-২

অস্ট্রেলিয়া

ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপাধারী অস্ট্রেলিয়া। সবশেষ ২০০৯ সালে শিরোপাজয়ী অজিরা এবার মাঠে নামবে ট্রফি ঘরে তোলার লক্ষ্যে। তবে শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হারের সঙ্গে শীর্ষ ৫ ক্রিকেটারের ছিটকে যাওয়ার ধাক্কা নিয়ে মাঠে নামবে তারা। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে সফল দল অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবগুলো আসরেই খেলেছে। ৮ আসরে ২৪ ম্যাচে ১২ জয়ের বিপরীতে তাদের হার ৮ ম্যাচে। ৪ ম্যাচে আসেনি কোনো ফল।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-২৪

জয়-১২

হার-৮

নো রেজাল্ট-৪

দক্ষিণ আফ্রিকা

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম আসরের শিরোপা উঠেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর কোনো আইসিসি ইভেন্টের শিরোপা ওঠেনি প্রোটিয়াদের হাতে। পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলার পর শিরোপা ছাড়াই বিদায় হওয়ায় তাদের নামের পাশে যুক্ত হয় ‘চোকার্স’। পাকিস্তানে এবার সেই চোকার্স তকমা ঘুচাতে মাঠে নামবে দলটি। সবগুলো আসরে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪ ম্যাচে ১২ জয়ের বিপরীতে প্রোটিয়াদের হার ১১ ম্যাচে। বাকি ম্যাচে আসেনি কোনো ফলাফল।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-২৪

জয়-১২

হার-১১

টাই-১

ইংল্যান্ড

শেষ দুবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসর বসেছিল ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ডে। নিজ দেশে টুর্নামেন্ট হলেও শিরোপা জিততে ব্যর্থ ছিল দেশটি। এবার সেই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে ইংলিশরা। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স অবশ্য পক্ষে কথা বলছে না। ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দুঃস্মৃতি সঙ্গী করে পাকিস্তানে গেছে দলটি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবগুলো আসরে খেলা ইংল্যান্ড ২৫ ম্যাচে ১৪ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ১১ ম্যাচে।

পরিসংখ্যান

ম্যাচ-২৫

জয়-১৪

হার-১১

আফগানিস্তান

সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলে শীর্ষ ৮-এ জায়গা করে নেয় আফগানিস্তান। সে সুবাদে ‘মিনি বিশ্বকাপ’ খ্যাত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ হয়েছে আফগানদের। প্রথমবারের মতো এ টুর্নামেন্টে খেলবে দলটি। আফগানিস্তান জায়গা পাওয়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপাজয়ী শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাওয়া যাচ্ছে না এবারের আসরে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন