গত মঙ্গলবার বিকাল ঠিক ৫টা ৫৬ মিনিটে ফেসবুকে ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল পেজে জানিয়ে দেওয়া হয়, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর ম্যাচের টিকিট ‘সোল্ড আউট’। কমেন্ট বক্সে তানভীর ইসলাম নামের একজন লিখলেন, ‘কালকে পুরা রাত (সোমবার রাত) বসেও টিকিট পাই নাই।’
মো. ফায়জুল হক নামের আরেকজন লিখলেন, ‘অনলাইনে যে সময় ছাড়ে সার্ভারে সমস্যা আর এখন টিকিট শেষ।’ রুহুল আমিন নামের অন্য আরেকজন লিখেন, ‘টানা তিন দিন শত চেষ্টা করেও টিকিট পাইনি।’ টিকিট কাটতে গিয়ে ত্যক্ত, বিরক্ত ও বিড়ম্বনায় পড়া অনেকেই এভাবে অনেক হতাশা, ক্ষোভ আর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
গত শনিবার থেকে টিকিট নিয়ে বাফুফের নাটকীয়তার শুরু। ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে পিছিয়ে রাত ৮টায় অনলাইনে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকিফাইডটলাইভ নামের যে ওয়েবসাইটকে নিয়োগ দেয় বাফুফে, সেই প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব নিয়ে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলাভাবে কাজটি করতে পারেননি। পদে পদে অদক্ষতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে টিকিফাই।
তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনেক প্রচেষ্টা করেও টিকিট কিনতে পারেননি ফুটবলপ্রেমীরা। প্রথম দিন থেকেই ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দেয়। দুবার সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে জানিয়ে অনলাইনে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর নতুন করে সোমবার রাত ১০টায় আবার অনলাইনে টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিলেও সমস্যা সমাধান তো হয়নি, উল্টো ভোগান্তি বেড়েছে।
এদিনও টিকিট কাটতে গিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নতুন বিড়ম্বনায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কেনার চেষ্টা করা হলে সামনে লেখা আসে, ‘আপনি এখন লাইনে আছেন। ধৈর্য ধরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার আনুমানিক অপেক্ষার সময় ২ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট।’ কারো কারো ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় আরো দীর্ঘায়িত হয়েছে। রাত ১০টা থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষার পরও টিকিট পাননি।
প্রথমবারের মতো অনলাইনে টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে লেজে-গোবরে অবস্থা তৈরি করেছে বাফুফে। টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউসের মতে, কষ্ট করে হলেও মানুষ এভাবে টিকিট কিনতে পারছেন। তাদের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। ঠিক কতগুলো টিকিট বিক্রি হয়েছে, সেটি জানা যায়নি। w
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

