নিশাঙ্কার কীর্তির দিনে বাংলাদেশের হতাশা

নিশাঙ্কার কীর্তির দিনে বাংলাদেশের হতাশা

তৃতীয় দিন শেষে গল টেস্টের স্কোরকার্ড বলছে, প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের গড়া ৪৯৫ রান টপকাতে শ্রীলঙ্কার চাই আর মাত্র ১২৮ রান। হাতে রয়েছে ৬ উইকেট। ৩৭ রানে কামিন্দু মেন্ডিস আর ১৭ রানে অধিনায়ক ধনঞ্জয়া উইকেট ধরে রাখেন। ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান তোলে দিন শেষ করে শ্রীলঙ্কা।

দিনের শুরুতে মাত্র ১৫ মিনিট স্থায়ী হওয়া হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানার জুটি থেকে ১১ রান পায় বাংলাদেশ। ফলে সব উইকেট হারিয়ে সফরকারীদের স্কোর দাঁড়ায় ৪৯৫। প্রথম দুই দিন বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তার সমুচিত জবাব দিল শ্রীলঙ্কা। ছোট্ট একটি তথ্য দিলেই বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়ে যাবে। পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের ওভারপ্রতি রান রেট যেখানে ৩.২২, সেখানে গতকাল শ্রীলঙ্কার ছিল ৩.৯৫। স্কোর বোর্ডে রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পাথুম নিশাঙ্কা। ১৮৭ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে তৃতীয় দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন লঙ্কান এই ওপেনার।

বিজ্ঞাপন

নিশাঙ্কার কীর্তি গড়ার দিন হতাশায় কাটল বাংলাদেশি বোলারদের। পুরো দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে সর্বসাকুল্যে ৪ উইকেট নিতে পেরেছেন তারা। এর মধ্যে এবার একজন খণ্ডকালীন বোলারও আছেন। স্পিনে হতাশ করেছেন তাইজুল। ৩৪ ওভারে ১২৬ রান দিয়ে একটি মাত্র উইকেট পান এই বিশেষজ্ঞ অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। অফস্পিনে নাঈম হাসানও প্রত্যাশিতভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। তার বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ২৫-০-৮৬-১। এই দুজনের মাঝে মুমিনুল হাত ঘুরিয়ে এক উইকেট পান। আর দুই বিশেষজ্ঞ পেসার- নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদও সুবিধা করতে পারেননি। যদিও শেষ বিকালে নতুন বলে নিশাঙ্কার উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফেরান হাসান।

তৃতীয় দিন গলের উইকেট ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কথা বলেছে। এমন উইকেটে সফল হতে হলে বোলিংয়ে বিশেষ কিছু করা ছাড়া বিকল্প ছিল না। বোলিংয়ে হতাশা মোড়ানো দিনে যে মেহেদি হাসান মিরাজকে খুব মিস করেছে বাংলাদেশ, সেটি আর বাড়িয়ে বোলার অপেক্ষা রাখে না। মিরাজ থাকলে দলের পঞ্চম বোলারদের চাহিদা বেশ ভালোভাবেই মিটাতে পারতেন। তার বৈচিত্র্যময় বোলিংটাও গলের উইকেটে বেশ কার্যকরি হতে পারত। অসুস্থতার কারণে মিরাজকে পাওয়া যায়নি বলে বাড়তি আফসোস করে আর লাভ নেই।

ব্যাটিংয়ের শুরুতেই চমক দেয় শ্রীলঙ্কা। এতদিন ধরে উদ্বোধনীতে ডানহাতি-বামহাতি ব্যাটসম্যানের সমন্বয়ে যে ওপেনিং জুটিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল দলটি, সেখানে পরিবর্তন এনেছে। প্রায় ৩০ বছর পর এই প্রথম শ্রীলঙ্কার ওপেনিংয়ে একসঙ্গে দেখা গেল দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে। এর আগে ১৯৯৫ সালে মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ডানহাতি ওপেনিং জুটি দেখা গিয়েছিল। সেবার রোশন মহানামা আর চন্ডিকা হাথুসিংহে জুটি বেঁধেছিলেন। এবার জুটি বাঁধলেন নিশাঙ্কা ও লাহিরু উদারা। দীর্ঘদিনের নিয়ম পাল্টানো ওপেনিং জুটি থেকে ৪৭ রানের বেশি পায়নি শ্রীলঙ্কা। এ জুটি ভেঙে দেন তাইজুল। তার বলে তার হাতেই ক্যাচ দেন উদারা (২৯)। সকালের সেশনে এই একটি উইকেটই বাংলাদেশের প্রাপ্তি।

অভিজ্ঞ দিনেশ চান্ডিমালের সঙ্গে ১৫৭ রানের লম্বা জুটি গড়েন নিশাঙ্কা। চান্ডিমাল ৫৪ রান করে নাঈম হাসানকে উইকেট বিলিয়ে দিলেও অন্যপ্রান্তে ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং করে যান লঙ্কান এই ওপেনার। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বোলার ব্যবহার করলেও কিছুতেই নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি আটকানো যায়নি। নাহিদ রানার ওভারে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান নিশাঙ্কা। ঘরের মাঠে প্রথম আর ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির রেকর্ড তার। এরপর দেড়শ পেরিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান এই তরুণ ওপেনার। তবে তার ডাবল সেঞ্চুরি আটকালেন হাসান মাহমুদ। নতুন বলে নিখুঁত এক ডেলিভারিতে নিশাঙ্কার উইকেট ভেঙে দেন এই পেসার। দিনশেষে এটাই বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি। ২৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৮৭ রান করেন নিশাঙ্কা। আগে তার টেস্টের সেরা ইনিংস ছিল ১২৭*। এদিন ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নাম অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৩৯ রান করে আউট হন। ব্যাটিংয়ে নামার সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তাকে গার্ড অব অনার দিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন