অসাসুনাকে হারিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত হান্সি ফ্লিক। তবে দানি ওলমোর ইনজুরি কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বার্সা কোচের কপালে। লড়াই শেষে বার্সা কোচ বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে আমাদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে, সেটির সেরাটা আজকে আমরা নিতে পেরেছি। তবে এই ম্যাচটি খেলার সঠিক সময় এটি ছিল না। আন্তর্জাতিক বিরতির ঠিক পরপর, এটা ভালো কিছু ছিল না। তিনটি পয়েন্ট আমরা পেয়েছি, তবে এর জন্য চড়া মূল দিতে হয়েছে, দানির (ওলমো) চোটে। মোটেও ভালো কিছু নয়। আমরা জানি না, কতদিন তাকে বাইরে থাকতে হবে। যদি দুই সপ্তাহও হয়, তারপরও অনেক ম্যাচ। তিন সপ্তাহ হলে আরো বেশি ম্যাচ। মোটেও ভালো কিছু নয়। ওই তিন পয়েন্টের মূল্য অতি চড়া।’
হঠাৎ করে এই ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না জুলস কুন্দে। প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ বার্সার এ ডিফেন্ডার, ‘এই ম্যাচের জন্য যে দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে, আমি তাতে ক্ষুব্ধ। এটা স্বাভাবিক কিছু নয়। বার্সেলোনা ও অসাসুনা ক্লাবের প্রতি অসম্মান ফুটে উঠেছে এতে, দুই ক্লাবেরই এমন ফুটবলার ছিল, যারা আন্তর্জাতিক বিরতিতে খেলেছে।’
ফুটবলাররা যন্ত্র নয়। তাদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। এ নিয়ে জুলস কুন্দে বলেন, ‘আমরা যন্ত্র নই। মাঠে নামার জন্য, সমর্থকদের চাওয়া পূরণ করার জন্য, নিজেদের মেলে ধরার জন্য ও তাড়না নিয়ে খেলার জন্য বিশ্রাম প্রয়োজন আমাদের। অন্য কিছুর ওপরে, ফুটবলারদের প্রতি অসম্মান ফুটে ওঠে এতে। সব প্রতিষ্ঠানকে এটা বুঝতে হবে। শুধু লা লিগা নয়, সবার উপলব্ধি প্রয়োজন।’
কঠিন এক সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বার্সাকে। গত ২০ দিনের মধ্যে তাদের খেলতে হয়েছে ৭টি ম্যাচ। কুন্দের কণ্ঠ থেকে এ নিয়ে ঝরল অভিযোগের সুর, খেলার যারা প্রাণ, সেই ফুটবলারদেরই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না, ‘আমরা আগে কিছু বলিনি, কারণ অজুহাত খুঁজতে যাইনি। তবে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের কথা আমলে নিতে হবে। আমরাই (ফুটবলাররা) এখানে মূল চরিত্র। আমাদের নিয়ে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না।’
ক্লাব বিশ্বকাপে এবার জায়গা হয়নি বার্সেলোনার। তবে ফুটবলারদের কথা চিন্তা করে ৩২ দলের এই টুর্নামেন্টকে অতিরঞ্জিতই মনে করছেন হান্সি ফ্লিক, ‘ফুটবলারদের কথা শুনতে হবে আমাদের। এটা গুরুত্বপূর্ণ। কোচদের কথা শুনতে হবে। এই গ্রীষ্মে আবার ক্লাব বিশ্বকাপ আছে। খুবই কঠিন। নেশন্স লিগ, আন্তর্জাতিক ম্যাচের বিরতি। আমার মনে হয়, এই ক্লাব বিশ্বকাপ ব্যাপারটি ভালো কিছু নয়। অনেক অর্থ আয় করা যাবে, কিন্তু ফুটবলারদের জন্য ভালো কিছু নয়। একটা জায়গায় থামতে হবে আমাদের এবং ফুটবলারদের কথা ভাবতে হবে।’
ঠাসা সূচিতে দর্শকদের মন ভরানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাতে খেলার মানও কমে যায়। এ নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘সমর্থকদের চাওয়া থাকে, প্রতিটি ফুটবলার সব সময় শতভাগ দেবে, তারা দারুণ প্রদর্শনী দেখতে চায়। এভাবে (সূচি) চলতে থাকলে, সর্বোচ্চ মান ধরে রেখে খেলা সম্ভব নয়। শুধু আমাদের জন্যই নয়, অন্য দলগুলোর জন্যও, যারা ক্লাব বিশ্বকাপে খেলবে।’
বার্সার এই ম্যাচ খেলতে মাঠে নামার কথা ছিল ৮ মার্চ। কিন্তু ওই দিন হঠাৎ করে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির চিকিৎসক মারা গেলে স্থগিত হয়ে যায় খেলাটি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাচটি আয়োজনের নতুন সূচি ঘোষণা করে লা লিগা কর্তৃপক্ষ। এমন তাড়াহুড়োর ম্যাচের সূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বার্সা। কিন্তু লাভ হয়নি। আবেদন মঞ্জুর না হওয়ায় তড়িঘড়ি করেই মাঠে নামতে হয়েছে তাদের। তবে অপ্রস্তুত দল নিয়েও বেকায়দায় পড়তে হয়নিকে বার্সেলোনাকে। হজম করতে হয়নি দুঃস্বপ্নের তেতো স্বাদ। হেসে-খেলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ৩-০ গোলে।
এ জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকার রাজত্বটা আরো টেকসই করেছে কাতালানরা। সেসুবাদেই স্প্যানিশ লিগ ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে চিরশত্রু রিয়াল মাদ্রিদ থেকে পরিষ্কার ৩ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে বার্সা। নিজেদের মাঠ এস্তাদিও অলিম্পিক লুইস কোম্পানিসে আগের ম্যাচে হারের মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে তারা। কেননা চলতি মৌসুমে দুদলের প্রথম দেখায় প্রতিপক্ষ অসাসুনার মাঠে ৪-২ গোলে হেরে গিয়েছিল বার্সেলোনা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

