ওয়ানডে ব্যর্থতার পর প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ছিল হারের দুঃস্মৃতি। ব্যাটিং ব্যর্থতার দায়ে হারতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। অথচ ব্যাটিং লাইনআপ বড় করতে গিয়ে স্কোয়াডে থাকা চার ওপেনারকেই খেলায় বাংলাদেশ। তাতে বাদ পড়েন জাকের আলী অনিক ও মোস্তাফিজুর রহমান। ঊরুর চোটে খেলেননি জাকের, মোস্তাফিজ বাদ পড়েন পারফরম্যান্সের কারণে। তবে জাকেরের ঊরুর চোট নিয়ে আছে খানিকটা শঙ্কা। আসলেই ঊরুর চোট নাকি অন্য কোনো কারণে বাদ পড়েছেন সেটা স্পষ্ট নয়। প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশ নিয়ে এমন সমালোচনার মাঝেই দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বাংলাদেশ। আজ ডাম্বুলার রানগিরি স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লিটন দাসের দল।
রান উৎসবের টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ বরাবরই রান করতে ব্যর্থ। লোয়ার কিংবা মিডল অর্ডারে ‘হার্ডহিটারের’ অভাবে ভুগে বরাবরই দেড়শর আশপাশে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। আর তাতেই ম্যাচ হারের তিক্ত স্বাদ পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লঙ্কানদের বিপক্ষে সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ। প্রথম টি-টোয়েন্টি শেষে এমনটাই জানান বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে কি না সেটাই দেখার অপেক্ষা। নয়তো কলম্বোয় তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি পরিণত হবে শুধু আনুষ্ঠানিকতার।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ একাদশে ফিরতে পারেন লোয়ার অর্ডারে খেলা জাকের আলী অনিক। চোট কাটিয়ে ফিট হয়েছেন তিনি। তাকে জায়গা করে দিতে টপ অর্ডারে ব্যাটিং লাইনআপে আসতে পারে পরিবর্তন। কারণ, শেষ টি-টোয়েন্টিতে যে চার ওপেনার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজের একাদশ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা থাকলেও আপাতত তা সত্যি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার-বোলার ছিলেন তিনিই। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতায় বোলিং আক্রমণে যে পরিবর্তন আসবে সেটা একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়। তানজিম সাকিব-তাসকিন আহমেদরা প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ছিলেন না ‘ঠিক’ ছন্দে। লম্বা সময় পর ফেরা সাইফউদ্দিন খানিকটা ভালো করলেও সেটা দলের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ফলে তিন পেসারের মধ্যে দুজনের বাদ পড়া একরকম বাধ্যতামূলক বলা যায়। জায়গায় একাদশে সুযোগ মিলতে পারে দুই বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের। তাতে এই ম্যাচের একাদশের বাইরে চলে যেতে হতে পারে সাইফউদ্দিন ও তাসকিন আহমেদকে।
তিন পেসারের ফর্মুলা থেকে বেরিয়ে ডাম্বুলার উইকেট বিবেচনায় নিয়ে একাদশ সাজালে দুই পেসারের সঙ্গে বাড়তি এক স্পিনার খেলাতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে নাসুম আহমেদ কিংবা শেখ মাহেদিকে একাদশে দেখা যেতে পারে একাদশে। শেখ মাহেদি সুযোগ পাবেন যদি ব্যাটিং লাইনআপে খানিকটা পরিবর্তন আনা হয়। না হলে নাসুম আহমেদকে দেখা যেতে পারে স্পিন আক্রমণে।
বাংলাদেশ যখন একাদশ সাজানো নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে, তখন শ্রীলঙ্কা আছে বেশ নির্ভার। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই নিশ্চিন্তে আছে তারা। পাথুম নিশাঙ্কা-কুশল মেন্ডিসরা আছেন দারুণ ছন্দে। সঙ্গে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া জেফরি ভ্যান্ডারসে ও মহেশ থিকসানা-নুয়ান থুসারারা আছেন দারুণ ছন্দে। তাতে নির্ভার হয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় স্বাগতিকরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

