‘এটা সেরা প্রস্তুতি নয়’- কোচ ফিল সিমন্সের এ কথায় স্পষ্ট, প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়েই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে নিজেদের প্রস্তুতির ঘাটতি মেটাতে দলগুলো যখন ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশ দল করছে অনুশীলন ক্যাম্প। ম্যাচ প্র্যাকটিসের ঘাটতি মেটাতে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে পাকিস্তান শাহিনস দলের বিপক্ষে খেলবে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। প্রতিপক্ষের চেয়ে এখানেই খানিকটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। তার ওপর পরিসংখ্যানের পাতা ওল্টালে দেখা যায় সেখানেও অনেক পিছিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তাই সবার চেয়ে পিছিয়ে থেকে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
আট দলের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। স্বাগতিক পাকিস্তানের পাশাপাশি গ্রুপসঙ্গী হিসেবে আছে শিরোপাপ্রত্যাশী ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের জন্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একটি জয় পাওয়াই হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ। পরিসংখ্যানও সে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে শেষ দুটি বছর বাংলাদেশের কেটেছে হতাশার মধ্যেই। ২০২৩ সাল থেকে এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগ পর্যন্ত অর্থাৎ গত দুবছরে বাংলাদেশ দল খেলেছে ৪১ ওয়ানডে। জিতেছে মাত্র ১৪ ম্যাচ। হেরেছে ২৪ ম্যাচে। বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়েছে তিনটি ম্যাচ। শতাংশের হিসাব করলে মাত্র ৩৪ শতাংশ ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। আরেকটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে, গত দুবছরে খানিকটা দুর্বল প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের কাছে দুবার সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের কাছে দুবার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে একবার সিরিজ হেরেছে।
একের পর এক সিরিজ হারের তিক্ত স্বাদ যখন বাংলাদেশ পেয়েছে, তখন গ্রুপসঙ্গীরা ছিল দারুণ ছন্দে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তান এ সময়ে জিতেছে তাদের ৫০ শতাংশের বেশি ম্যাচ। ২০২৩ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত খেলা ৪১ ম্যাচে ভারতের জয় ৩০ ম্যাচে। বিপরীতে হার ৯ ম্যাচে। শতাংশের হিসাব করলে ৭৩.১৭ শতাংশ ম্যাচে ভারত জয় পেয়েছে। শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারত রানার্সআপ হয়েছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক পাকিস্তানও পিছিয়ে নেই জয়ের হিসাবে। ৩৭ ম্যাচে ২২ জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শতাংশের হিসাবে প্রায় ৬০ শতাংশ ম্যাচে জয় পেয়েছে দলটি। খানিকটা খেয়াল করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের চেয়ে বেশি জয় পাওয়া দুদলই লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের চেয়ে কম ওয়ানডে খেলেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলা নিউজিল্যান্ড পেয়েছে ২০ জয়। শতাংশের হিসাবে নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ৪২.৬১ শতাংশ ম্যাচ।
এ তো গেল পরিসংখ্যানের হিসাবে কোন দল এগিয়ে আর কোন দল পিছিয়ে। মুখোমুখি হিসেবেও অবশ্য প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ সময় ভারতের বিপক্ষে দুবার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। দুদল একটি করে ম্যাচ জিতেছে। অবশ্য দুদলের পরিসংখ্যানে যোজন যোজন এগিয়ে আছে ভারত। দুদলের ৪১ দেখায় বাংলাদেশের ৮ জয়ের বিপরীতে হার ৩২ ম্যাচে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দুবার খেলেছে বাংলাদেশ। দুই ওয়ানডের কোনোটিতেই জয়ের দেখা পায়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৯ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৫ ম্যাচে। বিপরীতে হার দেখেছে ৩৪ বার।
গ্রুপসঙ্গীদের মধ্যে ২০২৩ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সাতবার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ৭ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় মাত্র এক ম্যাচে। ৫ হারের বিপরীতে ড্র হয়েছে এক ম্যাচ। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা ৪৫ ওয়ানডেতে জয় মাত্র ১১ বার। হেরেছে ৩৩ ম্যাচে আর ফল আসেনি এক ম্যাচে।
গ্রুপ প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে বাংলাদেশের এই পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয় প্রতিপক্ষের চেয়ে কতটা পিছিয়ে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ফলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছেÑ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

