সাক্ষাৎকারে তপু বর্মণ

‘এই দল নিয়ে আমরা শীর্ষ পর্যায়ে যেতে পারব’

‘এই দল নিয়ে আমরা শীর্ষ পর্যায়ে যেতে পারব’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। শিলংয়ে তার নেতৃত্বেই ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। যদিও ম্যাচে ১৯ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি দলের এই সেন্টার ব্যাক। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন। তবে মাঠ ও মাঠের বাইরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা হামজা চৌধুরীকে খুব কাছ থেকে দেখেন, অনেক কিছু জেনেছেন তপু। বাংলাদেশ ফুটবলে জোয়ার এনে দেওয়া হামজা অভিষেক ম্যাচে কেমন খেললেন, দলের আবহ কেমন ছিল, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে তপু কথা বলেছেন এমএম মাসুকের সঙ্গে।

হামজার খেলায় কতটা মুগ্ধ হলেন?

তপু : সে যতগুলো ট্যাকেল করেছে ম্যাচের সময়, একটিও ফাউল হয়নি। একেই বলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়। এটা অবিশ্বাস্য। এটা মুগ্ধকর ব্যাপার। অনেক অনেক ভালো লেগেছে। তার ট্যাকেলিং বলেন, তার লিডারশিপ বলেন, তা মাঠে পথপ্রদর্শক ছিল এবং এটি চোখে পড়ার মতো ছিল।

কদিনের ব্যবধানে আপনাদের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিলেন এই ফুটবলার?

তপু : আসলে তার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। দেখতে হবে যে, কোন লেভেলের ফুটবল খেলে সে। আমার মতে, স্পোর্টসের যে জ্ঞান, এটা তার ভেতরে অনেক বেশি। সে জানে আসলে কীভাবে খেলতে হবে, কীভাবে আমাদের সঙ্গে কানেক্টিং হতে হবে। সেও অনেক কিছু আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। দলের সঙ্গে ভালো একটা বন্ডিং হয়েছে। বোঝাপড়াটা খুবই ভালো হয়েছে। আমরা সবাই খুব ভালোভাবে তাকে গ্রহণ করেছি এবং তাকে আমরা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি। এজন্য ব্যাপারটা খুব ভালো হয়েছে আর কি। সে খুবই জলি মানসিকতার একটি ছেলে। সবার সঙ্গে খুবই ভালোভাবে কথা বলেছে। আমরা যারা ছিলাম, তরুণ বলেন, সমবয়সি বলেনÑ সবাই খুব ভালোভাবে তার সঙ্গে মিশেছে। সেও কথা বলেছে। কোনো ধরনের সমস্যা আমি দেখিনি।

হামজার কাছ থেকে শেখার বিষয় কি ছিল?

তপু : আসল হলো ফুটবল সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়, আমরা খাবার খুবই সুশৃঙ্খলভাবে গ্রহণ করি। সে কোন জায়গায় খেলে, কী করেÑ এসব তার কাছ থেকে শুনেছি। আসলে ফুটবল সংস্কৃতি ইংল্যান্ডে কী রকম। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কীভাবে ব্যাপারগুলো ঘটে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে খেলতে গেলে কী অসুবিধা হয়Ñ এগুলো নতুন ব্যাপার। তার কাছ থেকে এগুলো শুনেছি, জেনেছি এবং তার অভিজ্ঞতা আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। আরেকটি মজার ব্যাপার হলোÑ ধরুন আমি খুবই অবাক হয়েছি সে আমাদের মতো কাঁচা মরিচ চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছিল দেখে। এটা মজার ব্যাপার ছিল। সে তো বাঙালি। তবে ইংল্যান্ডে তার জন্ম হয়েছে, বড় হয়েছে সেখানে। সে খাবারের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে। এখানে এসে দেখে যে, ইংল্যান্ডের কারি টাইপের খাবার থাকে না, এখানে ছিল। সে এটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। এটাকে সে উপভোগ করেছে।

হামজার কোন কথাটা আপনার ভালো লেগেছে?

তপু : ওর সঙ্গে ইংরেজিতে ও বাংলায়ও কথা হয়েছে। শুদ্ধ বাংলাটা ও এখনো পুরোপুরি পারে না। ও সিলেটি ভাষায় কথা বলে। ও সিলেটি ভাষায় বলছিল যে, তপু আমার খুব বুক (খিদে) লাগছে, তোমার? মানে ক্ষুধা লেগেছে। এটাকে সে ‘বুক’ বলেছে। আমি বললাম, আমারও লেগেছে (হাসি)।

হামজা আসায় একাদশে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়ল কি?

তপু : দেখুন, এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটা জায়গা। জাতীয় ফুটবল দলকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য যখন আপনি ডাক পাবেন, এর চেয়ে বড় জায়গা আর কোথাও নেই। এ জায়গায় সব সময় প্রতিযোগিতা থাকে। কে ভালো করবে, কে খারাপ করবেÑ এ জিনিসগুলো কাউন্ট হয়। তো যখন হামজা আসছে, হামজাও ইন্টারভিউতে বলেছে যে, ও অনেক সারপ্রাইজড যে, এই টিমের মধ্যে এত কোয়ালিটি আছে। ওর এই মন্তব্য আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার এবং প্লাস পয়েন্টও।

হামজা যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের রক্ষণ দেয়াল কতটা শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করেন?

তপু : ওর যে ক্যাপাসিটি, ডিফেন্ডিং ক্যাপাসিটি বলেন, লিডারশিপ বলেন, অ্যাটাকিং ক্যাপাসিটি বলেন, সব মিলে সে শো করেছে। এতে আমাদের টিমও সফল হয়েছে। তাই এই রকম মানসিকতার খেলোয়াড় আপনার সামনে খেললে প্রতিটি ডিফেন্ডার উৎসাহিত হয়। আমাদের টিমকে অনেক শক্তিশালী বলব। কারণ, আপনি যখন গোল খাবেন না, তখন আপনার জেতার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে। তো ওই পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব যে, অবশ্যই আমাদের ডিফেন্ডিং, বিশেষ করে ডিফেন্ডিং যে ব্লকগুলো থাকে, সেগুলোতে হামজা অনেক সাপোর্ট দিয়েছে এবং অনেক ভালো করেছে। আশা করি, ভবিষ্যতে জুনে যেহেতু আমাদের খেলা আছে, সেখানে আমরা এটার ধারাবাহিকতা রাখতে পারব।

হামজা ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হলো, তাকে নিয়ে কতদূর পারে বাংলাদেশ?

তপু : আমাদের মূল টার্গেট হলো এশিয়ান কাপ কোয়ালিফাই করা, মূল পর্বে খেলা সৌদি আরবে ২০২৭-এ। তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সাফ ফুটবল আছে সম্ভবত জুন-জুলাইয়ে। এই দুটি টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য এই মৌসুমে অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে সামনে যতগুলো খেলা আছে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে এবং সাফ ফুটবলে, আমরা ভালো করব। আমাদের ভালো করার মূল চাবিকাঠি মনে হয় হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি আমাদের দেশের ফুটবলে। আমরা ভালো কিছু একটা করব এই মৌসুমে।

আপনার ইনজুরির সর্বশেষ আপডেট কী?

তপু : স্ক্যানিং করিয়েছি। মাঠে ফিরব জলদি। প্রিমিয়ার লিগে খেলার আশা করছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন