আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

১৩তম জাতীয় নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গন থেকে ৩০ প্রার্থী

তাদের আজ ‘ফাইনাল ম্যাচ’

স্পোর্টস রিপোর্টার

তাদের আজ ‘ফাইনাল ম্যাচ’

বহু আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ। এ নির্বাচন ঘিরেই উত্তাপ ছড়িয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও। এবারের নির্বাচনে সাবেক খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মিলিয়ে ক্রীড়াঙ্গন থেকে ৩০ জন প্রার্থী হয়েছেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য কারা জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, আজ ভোট গ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

জাতীয় নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক ফুটবলার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আলী আসগার লবি ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি ইশরাক হোসেন। তারা প্রত্যেকেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীর্ষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন। ভোলা-৩ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ। এক সময় পাকিস্তান জাতীয় দল ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হয়ে মাঠ কাঁপানো স্ট্রাইকার ছিলেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। মোহামেডান ক্লাবের অনেক শিরোপা জয়ের পেছনে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। একজন অ্যাথলেট হিসেবেও সুনাম ছিল তার। বেশ কয়েকবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব অর্জন করেন হাফিজ। খেলাধুলা ছেড়ে দেওয়ার পর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মেজর হাফিজ। তার রাজনৈতিক অধ্যায়ও ফুটবল ক্যারিয়ারের মতো রোমাঞ্চকর। ১৯৮৬ সালে প্রথম ভোলা-৩ আসন থেকে প্রথম নির্বাচন করেন তিনি। এবার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোলার মাটিতে নির্বাচনের মাঠে নামলেন একসময়ের তুখোড় এই খেলোয়াড়। এবার নির্বাচিত হয়ে ভোলাবাসীর উন্নয়নে কাজ করতে চান হাফিজ। এবারের নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নেজামুল হক নাঈম।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন সাবেক তারকা গোলরক্ষক আমিনুল হক। গোলপোস্টের নিচে শুধু অতন্দ্র প্রহরীই ছিলেন না আমিনুল, বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য অংশও তিনি। ২০০৩ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এরপর ২০১০ সালে এসএ গেমসে অপরাজিত থেকে স্বর্ণপদক জিতেছে আমিনুলের নেতৃত্বাধীন দল। এছাড়া মোহামেডান ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের হয়েও বড় শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব আছে তার। প্রতিটি অর্জনেই তার গ্ল্যাভস-জোড়া ছিল অকুতোভয়। প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়ার যে জেদÑসেটি আজ তাকে রাজপথের লড়াকু নেতায় পরিণত করেছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। ফুটবলে ইতিহাস গড়া এই ফুটবলারকে হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছে দেশবাসী। কোনো কিছুর সঙ্গেই আপস করেননি আমিনুল। দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া কাঠামো আমূল বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন সাবেক এই কৃতী ফুটবলার। আমিনুলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন।

ক্রীড়াঙ্গনের আরেক আলোচিত প্রার্থী বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আসগার লবি। খুলনা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের আধুনিকায়নের যে গোড়াপত্তন হয়েছিল, তার অন্যতম কারিগর ছিলেন আলী আসগার লবি। তার আমলে বিসিবি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন করে। টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ প্রথম সিরিজ জয়ের সাফল্য দেখায়। এবারের নির্বাচনে তার জন্য লড়াইটা চ্যালেঞ্জিং। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও প্রভাব পুনরুদ্ধারের কঠিন পরীক্ষার সামনে আলী আসগার লবি। ‘ফাইনাল ম্যাচ’-এর ফলের অপেক্ষায় আছেন বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী।

অপরদিকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি ইশরাক হোসেন নির্বাচনে লড়ছেন ঢাকা-৬ আসন থেকে। তার বাবা অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। ইশরাক সরাসরি খেলোয়াড় না হলেও নির্বাচনে তার ক্রীড়াবান্ধব ভাবমূর্তি সামনে এসেছে। বাবার দেখানো পথ ধরেই দেশের ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন ইশরাক। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কাজের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য তার।

অপরদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহামেডানের সাবেক সদস্য সচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির হ্যাভিওয়েট প্রার্থী তিনি। এছাড়া ঢাকা-৮ আসন থেকে মোহামেডানের স্থায়ী সদস্য ও সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মির্জা আব্বাস, কুমিল্লা-৬ থেকে মোহামেডানের সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হক চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৬ থেকে মোহামেডানের সাবেক সহসভাপতি শরিফুল আলম, নোয়াখালী-২ থেকে মোহামেডানের সাবেক পরিচালক জয়নাল আবেদীন ফারুক, নোয়াখালী-৩ থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক বরকত উল্লাহ বুলু, নরসিংদী-১ থেকে ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, সিরাজগঞ্জ-২ থেকে আবাহনীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, নারায়ণগঞ্জ-২ থেকে বিপিএলের দল ঢাকা ক্যাপিটালসের অন্যতম স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম আজাদ, মাগুরা-২ থেকে সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, জামালপুর-১ থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, চাঁদপুর-১ থেকে সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় এহছানুল হক মিলন, চাঁদপুর-৩ থেকে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাবেক সভাপতি শেখ ফরিদউদ্দিন আহমদ মানিক, পঞ্চগড়-২ থেকে বাফুফের কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন আজাদ, জামালপুর-৫ থেকে বাফুফের কাউন্সিলর শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, ঢাকা-৫ থেকে যাত্রাবাড়ী ক্রীড়াচক্রের সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা-১১ থেকে বাড্ডা জাগরণীর উপদেষ্টা এমএ কাইয়ুম, ঢাকা-৯ থেকে দিলকুশা ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রশিদ হাবিব, চট্টগ্রাম-৫ থেকে বিসিবির কাউন্সিলর ও চট্টগ্রাম ব্লুজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মীর হেলাল এবং খুলনা-২ থেকে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির বাইরে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন দুই ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন বাফুফের সাবেক সভাপতি ও এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ১০ দলীয় জোট থেকে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। অন্যদিকে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকী। তার নির্বাচনি আসন মাদারীপুর-১।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...