ভারতের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে বিভীষিকাময়। কেন বিভীষিকাময় বলা হচ্ছে এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে স্কোরবোর্ডে ৩৫ রান তুলতে বাংলাদেশ হারায় ৫ উইকেট। জাকের আলী অনিক ও তাওহিদ হৃদয়ের ১৫৪ রানের জুটিতে গড়া দারুণ দৃঢ়তায় ২২৮ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায়। দলের এমন বিপর্যয়ে ১১৮ বলে হৃদয়ের ব্যাটে আসে ঠিক ১০০ রান। ওই ইনিংস খেলার পথে ক্র্যাম্পের কারণে ব্যাটিং করাই কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য। তবুও থামেননি, বরং তিনি জানান, ‘পথ খুঁজে পেতে লড়াই করতেই হতো।’
ভারতের বিপক্ষে হারের পর বাংলাদেশকে নিয়ে সমালোচনার শুরু টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ায়। কারণ, দুবাইয়ে টস জেতা অধিনায়ক বলে উঠবেন ‘বোল ফার্স্ট’। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ওই প্রথা থেকে বেরিয়ে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কেন আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত, সেই প্রশ্নের জবাবে হৃদয় জানান, ‘টস জিতলে আমরা ব্যাটিং করতে চেয়েছিলাম। আমরা দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়েছি, এটা আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। এরপরও জাকের ও আমার ব্যাটে দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকে হয়তো ২৬০-২৭০ করতে পারতাম। আমরা ৩০-৪০ রান কম করেছি।’
তবে ২২৮ রানেও জয় পাওয়া সম্ভব হতো এমনটা বিশ্বাস ছিল হৃদয়ের। কারণ হিসেবে তার ভাষ্য ছিল, ‘দেখেন, লক্ষ্য তাড়া করতে তাদের ৪৬.৩ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে। এটা (উইকেট) খুব সহজ ছিল না। উইকেট একটু ট্রিকি ছিল। তাদের ইনিংস দেখেন, তারাও মানিয়ে নিতে পারেননি। তবে এটা আমাদের হাতে না। যে উইকেট পেয়েছি সেখানেই খেলতে হবে। এটা কোনো অজুহাত না। আমি শুধু বললাম, উইকেট কিছুটা ট্রিকি ছিল।’
এই উইকেটে ধীরলয়ে ব্যাটিং শুরু করা হৃদয় হাফ সেঞ্চুরি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খেলেন মোটে ২৯ বল। অর্থাৎ ব্যাটিংয়ের জন্য খানিকটা সহজ হয়ে ওঠে উইকেট। ৭ ওভারে ব্যাটিংয়ে নামা হৃদয় ক্র্যাম্পের শিকার হওয়ায় শেষদিকে নিজের স্বভাবজাত ব্যাটিং করতে পারেননি। তাতে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান হৃদয়। তার কথায়, ‘মনে হয় আমার ক্র্যাম্প আমাদের ইনিংসে প্রভাব ফেলেছে। ক্র্যাম্প না হলে হয়তো আমি আরো ২০-৩০ রান করতে পারতাম।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘পথ খুঁজতে আমাদের লড়তে হতো। প্রথম দিকে অনেক ডট বল খেলেছি। বিশ্বাস ছিল, পুষিয়ে নিতে পারব। কিন্তু আমার ক্র্যাম্পের কারণে পিছিয়ে গেছে। আবার যদি এমন পরিস্থিতি আসে, আমি আরো ভালো করব। এমন ভুলের পুনরাবৃত্তি আবার করব না।’
স্কোরবোর্ডে ওঠা ২২৮ রানের সংগ্রহের পরও হৃদয়ের বিশ্বাস ছিল লড়াই হবে। ৪৭ ওভারে ভারতের জয় নিশ্চিত হওয়াকে তাই সাফল্য হিসেবেও দেখেন এই তরুণ। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম যা হয়েছে তাতে আমরা লড়াই করতে হবে। আমরা ভালো বোলিং ও লড়াই করেছি। শুরুর দিকে কয়েকটি বাউন্ডারি হয়েছে, তাতে খানিকটা পিছিয়ে ছিলাম। তবে আমরা লড়াইয়ে ফিরেছিলাম। শুরুর দিকে যদি আরো দুটি উইকেট নিতে পারতাম, তাহলে চিত্র ভিন্ন হতে পারত।’
ভারতের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় না পাওয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। আগামী সোমবার রাওয়ালপিন্ডিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতে এখন লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া তাওহিদ হৃদয়ও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

